অপরাধ / দূর্নীতি / শাস্তি
আপনি যদি জিয়া-উল আহসান চরিত্রের ভেতরটা দেখতে চান তাহলে রিকমেন্ড করবো ১৯৯১ সালে তৈরি The silence of the Lambs এবং ২০০১ সালে তৈরি Hannibal মুভি দুটো দেখে নিতে। সাইকোপ্যাথ সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে লেখা অনেক উপন্যাস পরেছি, ছায়াছবি দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে এমন একটা চরিত্র বাংলাদেশে থাকতে পারে এ ছিল কল্পনার বাইরে।
মাছরাঙা টেলিভিশনের কার্যালয় থেকে কাজ শেষ করে সাগর সারোয়ার যখন ঘরে ফিরছিলেন, ঘড়ির কাঁটা তখন রাত দেড়টা ছাড়িয়েছে। ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, বাড়ি ফেরার ঠিক কিছু পরেই এবং ভোরের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই স্মরণকালের নৃশংসতা হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক সূত্র অনুযায়ী, ঘাতকরা রাত ২টা থেকে ৫টার মধ্যবর্তী কোনও এক সময়ে এই দম্পতিকে হত্যা করেছিল।
বাংলাদেশের হিন্দুরাও দেশের মুসলিম জনসংখ্যার মত চুরি ডাকাতি করে, ঘুষ খায়, ধর্ষণে লিপ্ত হয়। মানিলণ্ড্রিয়ের মত ঘোরতর অন্যায় কাজে তারা সামনে হতে নেতৃত্ব দেয়। সমস্যা দেখা দেয় অন্য জায়গায়। তাবৎ অপরাধের জন্যে দেশের মুসলিম জনসংখ্যাকে শাস্তি দিলে তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য হয়না, হোক তা আদালতের অথবা মব শাস্তি। একই অন্যায় অপরাধের জন্যে সংখ্যালঘুদের শাস্তি দিলে তাতে পাওয়া যায় সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ, ইসলামী মৌলবাদের হাত।
ক্ষমতা যখন পারিবারিক সম্পত্তিতে রূপান্তরিত হয় তখন স্বাভাবিক হয়ে যায় বাপের পর ছেলে অথবা মেয়ের ক্ষমতায়ন। হাফেজ আল আসাদের মৃত্যুর পর তার ছেলে বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় বসবেন এ ছিল অলিখিত নিয়ম। সিরিয়ানদের এর বাইরে যাওয়ার উপায় ছিলনা। আর আমাদের দেশে শেখ হাসিনা শেখ ডাইনাস্টির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন পরিবারের বাকি সবার অকাল মৃত্যুতে। এখানেও ছিল পারিবারিক বাধ্যবাধকতা।
দেশের কোটি মানুষের মত ক্রিকেট আমিও ভালবাসি। তবে আমার ভালবাসা আনকন্ডিশনাল না। প্রতিভা থাকলে খেলে যাও। খেলে মাঠেই প্রমাণ কর তুমি গ্রেট। আমি তোমাকে ভালবেসে যাব। আবার গ্রেট হতে ছিটকে গিয়ে তুমি যখন গলির ধারের ক্রিকেট খেলবা তোমার জন্যে আমার লা-কুম দিনু কুম অলইয়্যাদিন।
সাকিব আল হাসান। ক্রিকেট প্রতিভা নিয়েই হয়ত জন্মেছিল। বাংলাদেশের জনগণের ভালবাসার সাথে পেয়েছিল সরকারী আনুকূল্য। পাশাপাশি ফুলে ফেঁপে উঠেছিল ব্যাংক ব্যালেন্স।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তারা উল্লাস করেছিল। ভেবেছিল দিন বোধহয় ফিরে এলো। অনেকে আশায় ছিল ক্ষমতাগ্রহনের প্রথম প্রহরেই হয়ত ঘটবে ঘটনা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে পাশ করে জানুয়ারির ২০ তারিখ ওভাল অফিসে বসেই ডিক্রি জারির মাধ্যমে বদলে দেবেন বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতি। দুপুরের খাবার অসমাপ্ত রেখে এক কাপড়ে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আদর সোহাগ করে ফিরিয়ে আনবেন এবং ফিরিয়ে দেবেন হারানো সাম্রাজ্য।
ভল্লুক একটা আজব প্রাণী। এই প্রাণীর এমন কিছু ক্ষমতা আছে যা অন্য কোন প্রাণীর নেই। এই যেমন ঘুম। ভল্লুক হাইবারনেশনে গিয়ে টানা ৩ হতে ৮ মাস পর্যন্ত ঘুমাতে পারে। এই সময় তাদের শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয়ে আসে। ঐ সময়ে তাদের খাবারের প্রয়োজন হয়না। শরীর হতে বর্জ্যও ত্যাগ করেনা। বলা হয় ভল্লুকের ঘ্রাণশক্তি মানুষের তুলনায় ২,১০০ গুন বেশি। ২০ মাইল দূর হতে খাবারের গন্ধ নিতে পারে।
নিশ্চয় পারবেন। অবশ্যই পারবেন। হতে পারবেন দেশটার প্রধানমন্ত্রী।
সমস্যা হতে পারে কেবল চেতনা ক্রাইসিস! বৃটিশদের বাংলাদেশের ৭১ নিয়ে কোন চেতনা নেই। উপরন্তু খোদ ৭১ সালে এই উপনিবেশ শক্তি আমেরিকার সাথে গলা মিলিয়ে অনেক সময় বিরোধীতা করেছিল আমাদের স্বাধীনতার। এমন একটা দেশে চেতনার জরায়ুতে জন্ম নেয়া শেখ বংশের সদস্যরা কেন স্থায়ী হতে গেল এ প্রশ্নের জবাব তারাই ভাল দিতে পারবেন। তবে আমরা যারা মাছে ভাতের বাংলাদেশি এবং দুইয়ে দুইয়ে চার এর মত সহজ সরল সমীকরণ মেলাতে অভ্যস্থ তাদের কাছে প্রশ্নের উত্তর খুব একটা জটিল কিছু হবে বলে মনে হয়না। মুখে যাই বলুক না কেন, কাজে কর্মে ঐ বংশের সবাই আমাদের মতই বাংলাদেশি। মুখে এক কথা আর অন্তরে লালন করি ভিন্ন কিছু। সোজা বাংলায়, বাটপার।
ছাত্রলীগের অসংখ্য কর্মীকে হত্যা করে টঙ্গির তুরাগ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে এমন অভিযোগের বন্যা বয়ে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নদীকে আঁকা হয়েছে রক্তের তুলিতে। হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের স্টুডেন্ট উইং ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে নাম এসেছে সরকার দলীয় জনৈক সংসদ সদস্যদের।
দুই মেরুর দুটি ভিন্ন কাহিনী। সময় ও স্থান প্রায় এক। বাবা দিবসে বাবার প্রতি মেয়ের ভালবাসা, পাশাপাশি আটক হওয়া জনৈক জেনারেলের আদালতে হাজিরা দেয়া। মেগা শহর ঢাকার দুই কোনায় দুই নাটকের এই সাইমাল্টেনিয়াস মঞ্চায়ন। ক্ষমতা থাকলে কাহিনী দুটো সেলুলয়েডের ফিতায় আটকে একই পর্দায় পাশাপাশি একই সাথে উপস্থাপন করতাম। কি-বোর্ডের লেখা ও তার ভিজুয়াল ডিসপ্লে হয়ত সহজ করে দিত আমার বুঝানোর অক্ষমতাকে।