অপরাধ / দূর্নীতি / শাস্তি
জাহেদ মালেক স্বপন তখন আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মানিকগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য। পিতা কর্নেল মালেক ছিলেন ঢাকা শহরের মেয়র। করতেন এরশাদের জাতীয় পার্টি। সর্বশেষ ২টি জাতীয় নির্বাচনে জনাব স্বপন আসল নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছেন কিনা তার কোন রেকর্ড নেই। ভুত প্রেতের ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। দেশ যখন একদল, এক পরিবার তথা একজনের সম্পত্তি হয়ে যায় তখন ভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি না। তবে কিছু বিষয় আছে যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রতিটা সচেতন নাগরিকের নাগরিক দায়িত্ব। এ ব্যাপারে আরও কিছু জানতে চলুন জনাব স্বপনের নির্বাচনী এলাকায় ঢু মেরে আসি।
দেশের তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার শতকরা ৬০ জনই নাকি ভূয়া। অনেকে মতে ভুয়ার প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি, প্রায় ৮৮ ভাগ। সরকারী চাকরি পাওয়ার লোভ, চাকরিতে পদোন্নতি ও লুটপাটের বখরা পাওয়া, মন্ত্রীমিনিষ্টার হওয়ার লালসায় আওয়ামী আমলে অনেকে নাম লিখয়েছিল এ তালিকায়। ঐ সরকারের জনৈক মন্ত্রী ৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করে স্বঘোষিত বীর উপাধি নিয়েছিলেন। তাই বাবু নিম চন্দ্র ভৌমিক ৭১'এ দেশ হতে পালিয়ে গিয়ে যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন নাকি আওয়ামী নেতাদের মত সোনাগাছি পতিতালয়ে সময় কাটিয়েছেন এ প্রশ্ন থেকেই যাবে। ক্রান্তিকালে দেশ ত্যাগ করলেই যেমন মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়না, তেমনি যুদ্ধে নাম লেখালেই বীর হওয়াটা ম্যাণ্ডেটরি না।
বাংলাদেশে মন্ত্রীর চেয়ারে কেউ বসলে তাকে দুর্নীতির সন্ধানে কোথাও যেতে হয়না, বরং দুর্নীতি নিজে এসে দরজায় কড়া নাড়ে। হরেক রকমের মানুষ হরেক রকম প্রস্তাব নিয়ে সচিবালয়ে হাজির হয়। চ্যানেলের মাধ্যমে মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে। সচিবালয়ে মুড অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং হলে রাত নামার পর মন্ত্রীর বাড়িতেই মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং ফাইনাল করা হয়। এভাবেই দুর্নীতি লতায় পাতায় বেড়ে উঠে মহি-রূহে পরিণত হয়। মন্ত্রীর তেলেসমাতিতে যে দানবের জন্ম হয় সে ক্ষুধার্ত হায়েনা হয়ে চষে বেড়ায় গোটা বাংলাদেশ।
বাড়িঘর জমিজমা বিক্রি করে মা-বাবা সন্তানদের বিদেশ পাঠায়। ওরা হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দেয়। জীবন বাজি রেখে ভূমধ্য সাগর পাড়ি দেয় ডিঙ্গির মত ছোট নৌকায় করে। বন-জঙ্গল পাহাড় পর্বত পার হয়ে শেষপর্যন্ত পা রাখে ইউরোপের মাটিতে। কেবল তখনই শুরু হয় বেচে থাকার নতুন লড়াই। একদিকে ইমিগ্রেশন, পাশাপাশি দু'বেলা দু'মুঠো খেয়ে সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পরিশ্রম। পয়সা বাঁচানোর তাগিদে দুজনের রুমে ১০ জনের বাস। টয়লেটে বিছানা পেতে রাত কাটানো...এ কাহিনীর কোন শেষ নেই।
এমনটাও শুনতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসে নাকি ফেরার বন্দোবস্ত পাকা করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে যাবেন এবং ওটাই হবে তার শেষ যাওয়া। এক কথায় পালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি বীরের বেশে হাতী ঘোড়া পাইক পেয়াদার বিশাল বাহিনী নিয়ে তিনি প্রবেশ করবে
আপনি যদি জিয়া-উল আহসান চরিত্রের ভেতরটা দেখতে চান তাহলে রিকমেন্ড করবো ১৯৯১ সালে তৈরি The silence of the Lambs এবং ২০০১ সালে তৈরি Hannibal মুভি দুটো দেখে নিতে। সাইকোপ্যাথ সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে লেখা অনেক উপন্যাস পরেছি, ছায়াছবি দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে এমন একটা চরিত্র বাংলাদেশে থাকতে পারে এ ছিল কল্পনার বাইরে।
মাছরাঙা টেলিভিশনের কার্যালয় থেকে কাজ শেষ করে সাগর সারোয়ার যখন ঘরে ফিরছিলেন, ঘড়ির কাঁটা তখন রাত দেড়টা ছাড়িয়েছে। ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, বাড়ি ফেরার ঠিক কিছু পরেই এবং ভোরের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই স্মরণকালের নৃশংসতা হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক সূত্র অনুযায়ী, ঘাতকরা রাত ২টা থেকে ৫টার মধ্যবর্তী কোনও এক সময়ে এই দম্পতিকে হত্যা করেছিল।
বাংলাদেশের হিন্দুরাও দেশের মুসলিম জনসংখ্যার মত চুরি ডাকাতি করে, ঘুষ খায়, ধর্ষণে লিপ্ত হয়। মানিলণ্ড্রিয়ের মত ঘোরতর অন্যায় কাজে তারা সামনে হতে নেতৃত্ব দেয়। সমস্যা দেখা দেয় অন্য জায়গায়। তাবৎ অপরাধের জন্যে দেশের মুসলিম জনসংখ্যাকে শাস্তি দিলে তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য হয়না, হোক তা আদালতের অথবা মব শাস্তি। একই অন্যায় অপরাধের জন্যে সংখ্যালঘুদের শাস্তি দিলে তাতে পাওয়া যায় সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ, ইসলামী মৌলবাদের হাত।
ক্ষমতা যখন পারিবারিক সম্পত্তিতে রূপান্তরিত হয় তখন স্বাভাবিক হয়ে যায় বাপের পর ছেলে অথবা মেয়ের ক্ষমতায়ন। হাফেজ আল আসাদের মৃত্যুর পর তার ছেলে বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় বসবেন এ ছিল অলিখিত নিয়ম। সিরিয়ানদের এর বাইরে যাওয়ার উপায় ছিলনা। আর আমাদের দেশে শেখ হাসিনা শেখ ডাইনাস্টির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন পরিবারের বাকি সবার অকাল মৃত্যুতে। এখানেও ছিল পারিবারিক বাধ্যবাধকতা।
দেশের কোটি মানুষের মত ক্রিকেট আমিও ভালবাসি। তবে আমার ভালবাসা আনকন্ডিশনাল না। প্রতিভা থাকলে খেলে যাও। খেলে মাঠেই প্রমাণ কর তুমি গ্রেট। আমি তোমাকে ভালবেসে যাব। আবার গ্রেট হতে ছিটকে গিয়ে তুমি যখন গলির ধারের ক্রিকেট খেলবা তোমার জন্যে আমার লা-কুম দিনু কুম অলইয়্যাদিন।
সাকিব আল হাসান। ক্রিকেট প্রতিভা নিয়েই হয়ত জন্মেছিল। বাংলাদেশের জনগণের ভালবাসার সাথে পেয়েছিল সরকারী আনুকূল্য। পাশাপাশি ফুলে ফেঁপে উঠেছিল ব্যাংক ব্যালেন্স।