বাংলায় একটা কথা আছে কুত্তার পেটে ঘি সয়না!

Submitted by WatchDog on Saturday, August 8, 2026

দেশের কোটি মানুষের মত ক্রিকেট আমিও ভালবাসি। তবে আমার ভালবাসা আনকন্ডিশনাল না। প্রতিভা থাকলে খেলে যাও। খেলে মাঠেই প্রমাণ কর তুমি গ্রেট। আমি তোমাকে ভালবেসে যাব। আবার গ্রেট হতে ছিটকে গিয়ে তুমি যখন গলির ধারের ক্রিকেট খেলবা তোমার জন্যে আমার লা-কুম দিনু কুম অলইয়্যাদিন।
সাকিব আল হাসান। ক্রিকেট প্রতিভা নিয়েই হয়ত জন্মেছিল। বাংলাদেশের জনগণের ভালবাসার সাথে পেয়েছিল সরকারী আনুকূল্য। পাশাপাশি ফুলে ফেঁপে উঠেছিল ব্যাংক ব্যালেন্স।

বাংলায় একটা কথা আছে কুত্তার পেটে ঘি সয়না! আমাদের সাকিব আল হাসানের পেটেও অর্থের ঝনঝনানি হজম হয়নি। খেলার মাঠের আয় রোজগার যথেষ্ট মনে হয়নি তার কাছে তাই রাতারাতি ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যে নেমে গেলেন সোনার হরিণের সন্ধানে।
শুরুটা ব্রান্ড এম্বাসেডর হওয়ার হাত ধরে। পাইপ লাইনে এলো শো-রুম উদ্বোধনের মিছিল। এই মিছিলের চুম্বক টান এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বিদেশে খেলতে গিয়ে খেলা ফেলে উড়ে আসতেন অনুষ্ঠানে হাজিরা দিতে। এবং সবকিছুর মূলে ছিল পকেট ভরাট করা।
ব্রান্ড এম্বাসেডর অথবা শো-রুম উদ্বোধনের অর্থও যথেষ্ট মনে হলো না অর্থলিপ্সু এই দানবের কাছে। তাই পা বাড়ালেন অন্ধকার জগতে।
ক্রিকেট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ মাথায় নিয়ে এক বছর বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। যদিও প্রকাশিত অভিযোগে বলা হয়েছিল জুয়ারিদের যোগাযোগের তথ্য বোর্ডকে না জানানোর জন্যে ছিল এই শাস্তি, তবে বাস্তবতা বলবে অন্য ঘটনা। মাঠের খেলায় ফিক্সিং হতেও নাকি কামিয়ে ছিলেন কয়েক কোটি।
সেখানেই থেমে যাননি তিনি। পা বাড়ান আরও গভীরে।
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, সোনা চোরাচালান, নিষিদ্ধ জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের অর্থ আত্মসাৎ, ব্যাংক জালিয়াতি, এসব হচ্ছে সাকিব আল হাসানের অপকর্মের সামান্যতম অংশ মাত্র।

সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে ৬ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে দুদকে দেয়া অভিযোগে। এতে বলা হয়, অভিযোগটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে তদন্ত করে এতে সাকিবের বিও অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য ও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ফরচুন সুজ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও বিডিকম অনলাইন লিমিটেডের শেয়ার কারসাজিতে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে বলা হয় অভিযোগে।
সাকিব আল হাসান শেয়ারবাজার কারসাজির নায়ক আবুল খায়ের হিরোর গ্রুপের সদস্য উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে সাকিব ছাড়া অন্যদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের শাস্তি দেওয়া হয়। তখন শুভেচ্ছা দূত থেকে সাকিবকে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। কারণ ততদিনে তিনি খ্যাতির বিশাল এক পাহাড়ের উঠে গেছেন যেখান হতে নামিয়ে এনে আইনের আওতায় নেয়া সম্ভব ছিলনা।

একই সাকিব বেট উইনার অনলাইন জুয়ার প্রতিষ্ঠানের চুক্তিবদ্ধ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্রিকেট খেলাসহ অন্যান্য গেইম এবং কাসিনো জুয়ার কারবার প্রমোট করা শুরু করেন।
এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের অভিযোগও উঠেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়, সাকিব তার ব্যবসায়িক অংশীদার রাশেক রহমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে রিলায়েবল কমোডিটিস এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ও বুরাক কমোডিটিস এক্সচেঞ্জ কোম্পানির মাধ্যমে আইন ও বিধি না মেনে স্বর্ণের ব্যবসা করেন। সরকারের শুল্ক ও রাজস্ব এড়িয়ে অবৈধ স্বর্ণের ব্যবসা করে চোরাচালানের অপরাধ করেন যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ হিসাবে বিবেচিত।
২০১৬ সালে সাতক্ষীরার দাতিনাখালী এলাকায় সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্ম নামে একটি কাঁকড়ার খামার গড়ে তোলেন। ওই খামারের জন্য সফট সেল কাঁকড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে প্রায় ১ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ না করে পার পেয়ে যান।

অভিযোগের তালিকা যখন দীর্ঘ হতে দীর্ঘতর হচ্ছিল তখনই তিনি বেছে বাংলাদেশের জন্যে সব চাইতে নিরাপদ ঢাল, রাজনীতি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বেলুন ফাটিয়ে নাম লেখান সহস্রাব্দির কুখ্যাত লুটেরা দল আওয়ামী লীগে। এবং জেনে শুনেই শরীক হন গুম, খুন ও লুটের তালিকায়।

দেশের আর দশটা জনপ্রতিনিধির মত সাকিব আল হাসানও নির্বাচনী হলফ-নামায় চেপে যান নিজের অবৈধ সাম্রাজ্যের তথ্য। হলফনামায় তিনি মোনাক মার্কের মালিকানা, পাওয়ার প্ল্যান্টের লাইসেন্স, পিপলস ব্যাংকের মালিকানা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল ব্যবসা, স্বর্ণ আমদানি, অনলাইন জুয়ার সাইটের সঙ্গে সম্পর্ক, কক্সবাজারের হোটেল হোয়াইট স্যান্ডে ২০ হাজার বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেসের মালিকানা, রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীর নামে বাড়ি কেনার তথ্যসহ আরও অন্যান্য বিষয় হলফনামায় গোপন করেন।

আওয়ামী লীগের পতনের সাথে পতন হয় এই অর্থলিপ্সু দানবের। নাম লেখাতে বাধ্য হন পলাতকের তালিকায়। গেল দুই বছর গর্তের ভেতর লুকিয়ে থেকে এখিব বের হয়ে এসেছেন। হয়ত আর দশটা আওয়ামী খোয়াবির মত তিনিও খোয়াব দেখছেন দেশে ফিরে আসার। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে বলেছেন বাংলাদেশ সরকার প্রোটেকশন দিলে হাসিমুখে দেশে ফিরবেন। দেশে ফিরে বিদায়ী ম্যাচ খেলে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর খায়েশও প্রকাশ করেছেন।

হায় সাকিব আল হাসান!
আপনি খ্যাতির শিখরে উঠে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ট্রেন মিস করে ফেলেছেন। আপনার গায়ে এখন আওয়ামী লীগের ট্যাগ। ঐ ট্যাগে নর্দমার গন্ধ। সত্য হোক মিথ্যা হোক আপনার নামে আছে খুনের মামলা। ফাঁসি আপনাকে তাড়া করে ফিরবে। একজন খুনের আসামীকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে পয়সা খরচ করে প্রোটেকশন দেবে, এমন অলীক, উদ্ভট ও অবাস্তব দাবি করার আগে আয়নার একবার নিজের চেহারা দেখা উচিৎ ছিল। ক্রিকেট মাঠের বিশ্ব খ্যাত বাঘ সাকিব আল হাসান এখন মেনি বিড়াল। একজন জুয়ারি, ব্যাংক লুটেরা, খুনি, প্রতারক সাকিব আল হাসান দেশে ফিরলে তার ঠাঁই হবে কাশিমপুর কুঠিতে।
সাকিব আল হাসান,
যেখানে আছেন সেখানেই থাকেন, চাইলে দিল্লি গিয়ে পালের গোদার সাথে নিজের ভাগ্য মিলিয়ে নিতে পারেন। বাংলাদেশ আপনার জন্যে না। এ দেশে আপনি একজন ফেরারি আসামী বৈ অন্য কেউ নন।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন