রুশ লেখক তুর্গেইনেভ, নেকরাসভ, চেখভ অথবা দস্তায়ভস্কিদের মত লেখকদের লেখায় একটা ট্রেন্ড ছিল লক্ষ্যনীয়। তাদের অনেক গল্পের নায়কের বয়স ছিল ৬০/৭০ আর নায়িকার ১৮/১৯। কাহিনীর ভেতর ঢুকলে বুঝতে অসুবিধা হয়না গল্পের নায়ক আসলে লেখক নিজে। অস্ত যাওয়া যৌবনের আক্ষেপকে কলমের কালিতে জীবন্ত করে তোলার সাহিত্যকর্মকে এক সময় অপছন্দ করতাম। মনে করতাম এ অন্যায়, একজন কিশোরিকে নিয়ে এ ধরনের কল্পনা এক ধরনের অসূস্থতা।
বয়স গড়ানোর সাথে বদলে যাচ্ছে নিজের পছন্দ অপছন্দ। এখন আর তুর্গেইনেভকে তার না পাওয়া আক্ষেপ গুলোর জন্যে জন্যে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে ইচ্ছে করেনা। কারণ আমি নিজেই এখন সে সব কল্পনার ছবি আঁকি।
চাইলে নবনীতা চৌধুরিকে নিয়ে আমি গল্প লিখতে পারতাম। কারণ আমার জন্যে তার সবকিছু ছিল মুগ্ধ করার মত। লিকলিকে শরীর, ঘণ কালো চুল, গুছানো কথা, মায়া ছড়ানো হাসি,...সবকিছু মিলে যেত নিকোলাই আলেক্সেইভিচ নেকরাসভের ১৮ বছর বয়সী নায়িকার সাথে। কল্পনায় নিজকে বসিয়ে দিতাম লেখকের আসনে। কত কিছুই না কল্পনা করতাম...
আমার বাবা বলতেন মানুষ যখন মিথ্যাকে তার প্রফেশনের উপাদান বানিয়ে সাহিত্যের পর্যায়ে নিয়ে যায় সেটা নাকি তার চেহারায় ফুটে উঠে। যার প্রতিফলন দেখা যায় তার মুখায়বে। রঙ কালো হওয়ার পাশাপাশি ওখানে দেখা দেয় এক ধরণের বিকৃতি।
ইদানিং নবনীতা চৌধুরি কোথায় আছেন জানিনা। হবে হয়ত ভারত অথবা অন্য কোন দেশে। তবে এক সময় দেখা এই চৌধুরির চেহারায় যে পরিবর্তন আসছে তা বলাই বাহুল্য। চেহারা হতে দিন দিন মনুষ্য ভাবটা উবে যাচ্ছে। সেখানে বাসা বাধছে গাব্রিয়েল গার্সিয়ার কালজয়ী উপন্যাস নিঃসঙ্গতার একশ বছরের চরিত্র কর্ণেল আউরোলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার ছায়া। তবে কি কর্নেলের মত নবনীতা চৌধুরিও শুয়রের লেজ নিয়ে জন্ম গ্রহন করেছিলেন? ইদানিংকালের কথাবার্তা শুনলে এমনটা সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে। অন্তত আমার বিচারে।
জনাবা চৌধুরি, জানি আপনাকে নিয়ে আমার আলোচনা সমালোচনা গুলো আপনার পড়া হবেনা। কারণ আপনি এখন অন্য জগতের বাসিন্দা। সে জগতে মিথ্যা একটি সাহিত্য। আপনি তার চর্চা করতে গিয়ে নিজের প্রতি অবিচার করছেন। নিজের চেহারায় ডেকে আনছেন হনুমানের আকৃতি। মাকোন্দো রাজ্যের বাসিন্দা বনে জন্ম দিচ্ছেন শুয়রের লেজ সহ নতুন নতুন আউরেলিয়ানো।
ফিরে আসুন ফেলে যাওয়া পৃথিবীতে।