অপরাধ / দূর্নীতি / শাস্তি
২০৪১ সাল পর্যন্ত উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছিলেন। স্বপ্ন-পুরীর রাজকন্যা সেজে জাতিকে স্বপ্ন দেখানো শুরু করেছিলেন।... আমি ক্ষমতা চাই, ব্যাস, ক্ষমতায় গিয়ে উন্নয়ন করবো...এ দেশ আমার,...আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করে দিয়েছেন... এতদূরে বাস করেও আমি থমকে যেতাম। ভয় পেতাম এসব শুনে...নিজেই নিজকে প্রশ্ন করতাম, জীবদ্দশায় কি এই বন্য-পশু হতে জাতি মুক্তি পেয়েছে দেখে যেতে পারবো?
দেশে একটা রক্তাক্ত পরিবর্তন ঘটে গেছে। জাতির ঘাড়ে চেপে বসা বিশাল এক দানবকে বধ করেছে দেশের ছাত্র জনতা। এ পরিবর্তন ফুলের মত সুন্দর আর পাখির গানের মত মধুর হবে এমনটা আশা করার কোন কারণ ছিলনা। দানব বধ সব সময়ই রক্তাক্ত হয়। এ নিয়ে অভিযোগ করার কিছু নেই। কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে জুতাপেটা করছে...ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে গরুর সাথে বেধে রেখেছে...ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হলের ছাত্রলীগ নেত্রীর চুলের মুঠো ধরে টানছে উন্মত্ত ছাত্রীর দল...। আপনি কি খুব কষ্ট পাচ্ছেন এসব দেখে? দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন আর আফসোস করে বলছেন, এমন পরিবর্তনই কি আমরা চেয়েছিলাম?
২ বছর পর শেখ হাসিনার বয়স হইবো ৭৮ বছর। তহন যে নির্বাচন হইবো তাতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ফিরা পাইবো তা রাস্তার নেড়ি কুত্তাও বিশ্বাস করেনা। আলমত দেইখ্যা মনে হইতাসে ক্ষমতা তাদের জাত শত্রু বিম্পির দুয়ারেই ধর্ণা দিবো। তার মানে আরও ৫ বছর। হাসিনার বয়স তখন ৮৩।
শিরদাঁড়া বেয়ে ঠাণ্ডা এক ধরণের অনুভূতি নেমে যায় নামটা মনে করলে।
আয়নাঘর! এমন একটা ঘরের কথা মগজে এলে কল্পনায় ভেসে উঠে একটা ঘর যেখানে চারদিকে কেবল আয়না আর আয়না। ডানে বামে যেদিকে তাকাই কেবলই আয়না। হরর মুভির মত একজন একটা হাসি দিলে লাখ লাখ হাসি একসাথে হেসে উঠে। পৈশাচিক হাসি। ভয় পাওয়ার হাসি।
স্মরণকালের নিকৃষ্টতম ও বর্বরতম স্বৈরাচারের পতন হয়েছে মাত্র ২দিন। সাকিব ও মাশরাফি দুজনেই ছিল এই নেটওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য। বন্দুকের নলের মুখে ধরে এনে তাদের এমপি বানানো হয়নি, বরং মাফিয়া চক্রের নেত্রীর সাথে রীতিমত দেন-দরবার করে এ পথে পা বাড়িয়েছে। মনোনয়ন পেয়ে উল্লাস করেছে। ভাঁওতাবাজির নির্বাচন করে জিতে এসেছে। প্রতারণা করেছে গোটা জাতির সাথে।
কথাগুলো অনেকের কাছেই অপছন্দের মন হবে। অনেকে বলবেন এতো সাম্প্রদায়িক উস্কানি। ভাই আমি ধার্মিক নই। ধর্ম নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই। তাই আমাকে সাম্প্রদায়িকতার ট্যাগ দেয়ার আগে একটু ভেবে দেখার অনুরোধ করবো।
নতুন কিছু তৈরি করতে চাইলে পুরানো কিছু বলি দিয়ে হয়। তাই আমি চাইবো যে আগুন জ্বলছে তা জ্বলতে থাকুক। জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাক অবৈধ অর্থের উলঙ্গ প্রদর্শনী। হয়ত সাময়িক কিছু অসুবিধা হবে কিন্তু তার মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী কিছু বার্তা দেয়া যাবে। বার্তা যাবে তাদের কাছে যারা সামনে রাজনৈতিক ক্ষমতার কর্ণধার হয়ে দেশ চালাবেন।
পতিত স্বৈরাচারদের কেউ ঘরে তোলেনা, এক সময়ের দাপটশালী ইরানের শাহ রেজা পাহলভিও ক্ষমতা হারিয়ে ভিক্ষুকের মত দুয়ারে দুয়ারে ধর্না দিয়েছিলেন আশ্রয়ের জন্যে। পাহলভি পরিবারের ধর্মীয় বাবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিমিষে চোখ উলটে ফেলেছিল।
এ মুহূর্তে কোন বিষয়টা আপনাকে বেশি ভাবাচ্ছে? আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যা, বেনজীরের নজিরবিহীন লুটাপাট, ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশের ভরাডুবি, না-কি এসব কিছুই না?
কোন কিছু আপনাকে চিন্তিত না করলে আপনি একদিকে পৃথিবীর সবচাইতে ভাগ্যবান ব্যক্তি, অন্যদিকে গোবর মস্তিস্কের একজন হদ্দ ছাগল।
চলুন হাতে কিছুটা সময় নিয়ে উত্তর আমেরিকার দেশ কলোম্বিয়া হতে ঘুরে আসি।
কোন দেশই এখন দূরের দেশ না। একদিকে সোশ্যাল মিডিয়া, পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুদের বাধনহীন ভ্রমণ ছোট করে ফেলেছে আমাদের পৃথিবী। তাই কলোম্বিয়া ভ্রমণকে লম্বা করবোনা।