নিশ্চয় পারবেন। অবশ্যই পারবেন। হতে পারবেন দেশটার প্রধানমন্ত্রী।
সমস্যা হতে পারে কেবল চেতনা ক্রাইসিস! বৃটিশদের বাংলাদেশের ৭১ নিয়ে কোন চেতনা নেই। উপরন্তু খোদ ৭১ সালে এই উপনিবেশ শক্তি আমেরিকার সাথে গলা মিলিয়ে অনেক সময় বিরোধীতা করেছিল আমাদের স্বাধীনতার। এমন একটা দেশে চেতনার জরায়ুতে জন্ম নেয়া শেখ বংশের সদস্যরা কেন স্থায়ী হতে গেল এ প্রশ্নের জবাব তারাই ভাল দিতে পারবেন। তবে আমরা যারা মাছে ভাতের বাংলাদেশি এবং দুইয়ে দুইয়ে চার এর মত সহজ সরল সমীকরণ মেলাতে অভ্যস্থ তাদের কাছে প্রশ্নের উত্তর খুব একটা জটিল কিছু হবে বলে মনে হয়না। মুখে যাই বলুক না কেন, কাজে কর্মে ঐ বংশের সবাই আমাদের মতই বাংলাদেশি। মুখে এক কথা আর অন্তরে লালন করি ভিন্ন কিছু। সোজা বাংলায়, বাটপার।
যাই হোক শুরু করেছিলাম শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকির ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা হতে, চলুন সেখানেই ফিরে যাই। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়া খুবই সন্মানের। যে দেশ একসময় অর্ধেক পৃথিবী রাজত্ব করত, যার সাম্রাজ্যে সূর্য কোনদিন অস্ত যেতনা, সে দেশ ও সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিশ্চয় বড় কিছু। বাংলাদেশি কানেকশনের কেউ যদি ঐ পদে বসতে পারেন নিশ্চয় আমরা গর্বিত বোধ করবো। হোক সে ১৭ বছর বাংলাদেশ লুটের লুন্ঠিত মালামালের কথিত ক্যাশিয়ার শেখ রেহানার মেয়ে।
টিউলিপ সিদ্দিকি কিয়ার স্টারমার মন্ত্রীসভার সদস্য ছিলেন। এবং দেশটার প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের একজন হিসাবে পরিচত ছিলেন। এই কাছে আসার পেছনেও কিছু কারণ আছে যা নিয়ে লোকাল প্রেস অনেক আগেই প্রশ্ন তুলেছে। কিয়ার স্টারমার তার নির্বাচনী এলাকার বাংলাদেশিদের ভোট নিশ্চিত করতে সাহায্য নিয়েছিলেন টিউলিপ সিদ্দিকির। এবং এই সিদ্দিকি বড় অংকের ডোনেশন দিয়েছিলেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী্র নির্বাচনী ফান্ডে। ডোনেশনের ট্রেইল টানতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছিল আরও এক ইন্টারেষ্টিং তথ্য। ঐ দেশে বসবাসরত দরবেশ বাবা খ্যাত সালমান এফ রহমান ও তার ভাইয়ের সন্তান যথাক্রমে শায়ান রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের স্পংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এই অর্থায়নে।
খবরগুলো পুরানো হলেও এখানে উল্লেখ করার দাবি রাখেঃ
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত শাসক শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তির প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বিলাসবহুল সম্পত্তি জব্দ করেছে যুক্তরাজ্যের গুরুতর ও সংগঠিত অপরাধ সংস্থা (এনসিএ)।
বাংলাদেশি মুদ্রায় এ দুই ভাইয়ের জব্দকৃত সম্পত্তির অর্থমূল্য ১ হাজার ৪৭৯ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা প্রায়।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) ৯টি ফ্রিজিং অর্ডার জারি করেছে। এসব আদেশের আওতায় আহমেদ শায়ান রহমান ও তাঁর চাচাতো ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকে তাঁদের সম্পত্তি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই সম্পত্তিগুলোর মধ্যে লন্ডনের গ্রোসভেনর স্কোয়ারের অ্যাপার্টমেন্টও রয়েছে।
গত বছর দ্য গার্ডিয়ান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ তদন্তে শেখ হাসিনার মিত্রদের মালিকানাধীন ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তির মধ্যে সালমান এফ রহমানের ছেলে ও ভাতিজার সম্পত্তির তথ্যও উঠে আসে।
এনসিএর জব্দ করা সম্পত্তিগুলোর মধ্যে উত্তর লন্ডনের গ্রেশাম গার্ডেন্সে অবস্থিত একটি বাড়িও রয়েছে। এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বোন এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের মা শেখ রেহানা এই বাড়িতে বসবাস করতেন। জব্দ দুটি বাড়ির দাম ৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ড।
টিউলিপ সিদ্দিকি তেমনি এক এপার্ট্মেন্টে থাকতেন যার মালিকানার ট্রেইল টানতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা আবিস্কার করেছিল বিস্ময়কর জালিয়াতি। মালিকানা ধামাচাপা দেয়ার জন্যে ক্রয় বিক্রয়ে হাজির করা হয়েছিল ডোনেশন কাহিনী। এবং যাকে ডোনার হিসাবে দেখানো হয়েছিল তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার সুবিধা প্রাপ্ত বড় এক ব্যবসায়ী।
ব্রিটিশরা তাদের কলোনিয়াল সাম্রাজ্য হারালেও হারায়নি বুদ্ধিমত্তা। তাই টিউলিপ সিদ্দিকির জালিয়াতি উন্মোচন করতে তাদের খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি। অভিযোগ আদালতে উঠার আগেই জনাবা সিদ্দিকি মন্ত্রীসভা হতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে যিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তাকে বানাবে প্রধানমন্ত্রী, লেবার পার্টির জন্যে এ হবে আত্মহত্যা। এই দল কি এতই দেউলিয়া যে টিউলিপ সিদ্দিকির মত একজন মিথ্যুক ও দুর্নীতিবাজকে বানাবে প্রধানমন্ত্রী? সামনের সাধারণ নির্বাচনে দল তাকে নমিনেশন দেয় কিনা সেটাও হবে দেখার বিষয়!
টিউলিপ সিদ্দিকির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার সূত্রপাত কোথায় তা খুঁজতে গেলে নিশ্চয় বেরিয়ে আসবে ঐ দেশে পলাতক আওয়ামী লুটেরাদের নাম।