সাধু সাবধান!
বাংলাদেশিদের উপর আরোপিত ভিসা নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে ভারত। খবরটা আমাদের জন্যে খুব কি খুশির? হতে পারে অনেকের জন্যে, তবে সবার জন্যে না। এমন একটা নিষেধাজ্ঞা ভারতের চাইতে বোধহয় বাংলাদেশের জন্যে বেশী জরুরি ছিল
বাংলাদেশিদের উপর আরোপিত ভিসা নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে ভারত। খবরটা আমাদের জন্যে খুব কি খুশির? হতে পারে অনেকের জন্যে, তবে সবার জন্যে না। এমন একটা নিষেধাজ্ঞা ভারতের চাইতে বোধহয় বাংলাদেশের জন্যে বেশী জরুরি ছিল
আওয়ামী লীগের ফেলে যাওয়া রোডম্যাপেই কি বিএনপি লম্বা সময় ধরে ক্ষমতায় টিকে থাকার পরিকল্পনা করছে? যদি তাই হয় দল হিসাবে বিএনপি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করবে কোন গ্রাউন্ডে? আমরা যারা দেশীয় রাজনীতির অলিগলির সাথে পরিচিত নই তারা কি আওয়ামী লীগকে তার সাইনবোর্ডের জন্যে বছরের পর বছর ধরে সমালোচনা করেছি , নাকি দলের ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডের জন্যে? তেমনি এক কর্মের অংশ ছিল প্রকাশ্য দিবালোকে কাউকে তুলে নিয়ে গুম করে ফেলা, ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা , অথবা সরকারী হেফাজতে বর্বরোচিত নির্যাতন করা। আজকে যে সব আওয়ামী রাঘব-বোয়াল জেলখানার চার-দেয়ালে বসে লম্বা সময় জেলটার্মের প্রহর গুনছেন তাদের আমলনামাও কলুষিত এসব অপরাধে।
ই*স*রা*য়ে*ল নামের দেশটার চূড়ান্ত পতন তাদের পার্টনার-ইন-ক্রাইম মার্কিনীদের হাত দিয়েই শুরু হবে, ভবিষ্যৎবাণীটা অনেক আগেই করেছিলাম। তবে তার শুরুটা যে এত তাড়াতাড়ি হবে তা স্বপ্নেও কল্পনা করিনি। ই*স*রা*য়ে*লের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রক্সি ওয়ার বদলে দিয়েছে সব সমীকরণ।
দিনভর অপেক্ষায় ছিলাম কারণ কথা ছিল আজকেই তিনি আসবেন। সকাল গড়িয়ে দুপুর এলো, দুপর গড়িয়ে বিকেল এবং বিকেলের শেষে রাতের অন্ধকার এখন ঢেকে দিয়েছে গোটা পৃথিবী। আমার অপেক্ষার পালা আর আলোর মুখ দেখলনা। না, তিনি আসেননি।
দুই মেরুর দুটি ভিন্ন কাহিনী। সময় ও স্থান প্রায় এক। বাবা দিবসে বাবার প্রতি মেয়ের ভালবাসা, পাশাপাশি আটক হওয়া জনৈক জেনারেলের আদালতে হাজিরা দেয়া। মেগা শহর ঢাকার দুই কোনায় দুই নাটকের এই সাইমাল্টেনিয়াস মঞ্চায়ন। ক্ষমতা থাকলে কাহিনী দুটো সেলুলয়েডের ফিতায় আটকে একই পর্দায় পাশাপাশি একই সাথে উপস্থাপন করতাম। কি-বোর্ডের লেখা ও তার ভিজুয়াল ডিসপ্লে হয়ত সহজ করে দিত আমার বুঝানোর অক্ষমতাকে।
ফুটবল খেলার প্রতি আগ্রহটা কখন যে মরে গিয়ে কবরে ঠাঁই নিয়েছে তা চাইলেও মনে করতে পারব না। অথচ একটা সময় ছিল যখন দেশের লারেলাপ্পা মার্কা ফুটবল লীগ নিয়েও চরম এডিকশন ছিল। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দূরে থাক, এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্যায়েও কোনদিন খেলবেনা এ নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ নেই। খেলতে পারলে আগ্রহটা হয়ত ধরে রাখতে পারতাম। আমার আরও ২টি দত্তক নেয়া দেশ আছে যারা নিয়মিত বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিয়ে থাকে। কিন্তু এদের অংশগ্রহণ কোন তারতম্য তৈরি করেনা অনেক কারণে। সে প্রসঙ্গে নাই বা গেলাম।
অখণ্ড ভারত ভাগ হওয়ার পেছনে অনেক কারণ ছিল। এবং তার অন্যতম হচ্ছে ধর্ম। কোন ধর্মের মানুষ বিভক্ত ভারতের কোন অংশে বাস করবে সে ফয়সালা ১৯৪৭ সালেই হয়ে গেছে। বিভক্তি পরবর্তী উপমহাদেশের নাগরিকদের স্বাধীনতা ছিল কে কোথায় বাস করবে। ইতিহাস বলে আমাদের অঞ্চল হতে অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের ধর্মীয় আইডেন্টিটিটি ঠিক রাখতে একই ধর্মের সংখ্যাগুরু ল্যান্ডে মাইগ্রেট করেছিল। প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘুদের অনেকে আমাদের অঞ্চলে মাইগ্রেট করেছিল একই কারণে। দুই দেশের দুই ধর্ম বিশ্বাসীরা নিজেদের ভেতর সহায় সম্পত্তি বিনিময় করে পাড়ি জমিয়েছিল নিজেদের নতুন ঠিকানায়। এ সমীকরণ তো অনেক আগেই মেলানো হয়ে গেছে, এত বছর পর নতুন করে এর উত্তর খুঁজে বেড়ানোর কোন বৈধতা আছে বলে মনে হয়না। হ্যাঁ, ভারত ভাগের অন্যতম কারণ ছিল ধর্ম। হিন্দুদের জন্যে হিন্দুস্থান ও মুসলমানদের জন্যে পাকিস্তান। নিজেদের ভেতর ১১০০ মাইল দূরত্ব নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান। এবং এ যাত্রা শেষ হয়েছিল ১৯৭১'এ।
কেউ যদি জুনায়েদ আহমেদ পলককে তার বর্তমান ঠিকানা জিজ্ঞেস করে হয়ত তিনি বলবেন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার সেরকোল তেলিগ্রামের কথা। কারণ ওখানেই জন্ম হয়েছিল বিরল চরিত্রের এই রাজনীতিবিদের। বিরল বলছি এ কারণে তিনি হচ্ছেন একমাত্র রাজনীতিবিদ কাম সাংসদ কাম মন্ত্রী যিনি প্রথম মেয়াদে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নেত্রীর বাসভবনের সামনে বসে পরেছিলেন। এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওখানেই ছিলেন। বাংলাদেশ সংসদীয় ইতিহাসের কনিষ্ঠতম সদস্যের এখন আর কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই। জেল-হাজতিদের স্থায়ী ঠিকানা থাকতে নেই এমনটাই তাদের ভাগ্য।
ভাবছিলাম মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে কিছু লিখবনা। ক্রিকেট আমারও পছন্দের খেলা এবং বাংলাদেশ আমার পছন্দের দল। ২০২৪ সালের পর হতে আরকোন হদিস পাওয়া যায়নি মাশরাফির। বাড়ি পুড়িয়ে ফেলেছিল জানতাম তাই বেনিফিট অব ডাউট দিয়ে খেলোয়াড় হিসাবে সে শান্তিতে থাকুক এমনটাই চাইছিলাম। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর অনেকের মত
শুভেন্দু বাবুর কাঁটাতারের বেড়া অথবা ইট পাথরের দেয়াল আমাদের জন্যে হতে পারে নতুন শুরু। আমাদের ভারী শিল্পের গোঁড়া পত্তনে আনতে পারে যুগান্তরী পরিবর্তন। দেশে গড়ে উঠতে পারে পোলট্রি শিল্প যা বদলে দিতে গ্রামবাংলার সার্বিক চিত্র। একটা বাস্তবতা আমাদের যেমন মনে রাখা দরকার তেমনি শুভেন্দু বাবুদেরও মনে রাখা জরুরি; বাংলাদেশের বার্ষিক গড় আয় প্রতিবেশী ভারতের চাইতে বেশী। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪ বছর ধরে ভারতের ওপরে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মাথাপিছু জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ক্ষেত্রে টানা চার বছর ধরে ভারতের চেয়ে এগিয়ে। আইএমএফের সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৩ সালে এসে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬২১ ডলার। আর ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৬১২ ডলার।