নবনীতা চৌধুরি...
রুশ লেখক তুর্গেইনেভ, নেকরাসভ, চেখভ অথবা দস্তায়ভস্কিদের মত লেখকদের লেখায় একটা ট্রেন্ড ছিল লক্ষ্যনীয়। তাদের অনেক গল্পের নায়কের বয়স ছিল ৬০/৭০ আর নায়িকার ১৮/১৯। কাহিনীর ভেতর ঢুকলে বুঝতে অসুবিধা হয়না গল্পের নায়ক আসলে লেখক নিজে। অস্ত যাওয়া যৌবনের আক্ষেপকে কলমের কালিতে জীবন্ত করে তোলার সাহিত্যকর্মকে এক সময় অপছন্দ করতাম। মনে করতাম এ অন্যায়, একজন কিশোরিকে নিয়ে এ ধরনের কল্পনা এক ধরনের অসূস্থতা।
মক্কা প্যাক্ট!
মক্কা প্যাক্ট, নামটার ভেতরই এক ধরণের কন্ট্রোভার্সি আছে। ১৯০ কোটি মুসলমানদের হৃদয়ে মক্কা নামটার আলাদা একটা জায়গা আছে। সে জায়গা শান্তির জায়গা। সে জায়গা সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজকে বিলিয়ে দেয়া জায়গা। এমন একটা জায়গার নাম ব্যবহার করে সামরিক জোট তৈরি করার কোন জাস্টিফিকেশন থাকতে পারেনা, হোক তা ডিফেন্সিভ অথবা অফেন্সিভ। যুদ্ধ মানে অশান্তি, যুদ্ধ মানে হত্যা, খুন, ধ্বংসযজ্ঞ।
দিপু মনির কেচ্ছা...
এক কালের দাপুটে মন্ত্রী দিপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আজ ১৮ই আগস্ট মারা গেছেন। তিনি কিডনি লিভার সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জটিলতায় ভুগছিলেন। কারও লিভার নষ্ট হলে কেন জানি দিপু মনির সৃষ্টিকর্তা শেখ হাসিনার কথা মনে পরে যায়। খালেদা জিয়ার লিভার খারাপ তা নিয়ে তিনি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে ইঙ্গিত পূর্ণ হাসি হেসেছিলেন। আমিও বাঁকা একটা হাসি দিয়ে সে পথ মাড়ানো হতে বিরত থাকলাম।
বিদেশে দেশী রাজনীতি!
আমাদের বাসার সামনের সরকারী হাসপাতালটা তখনও চার দেয়ালের ভেতর বন্দী হয়নি। মেইন রোডের উপর ছোট ছোট মাঠগুলোও উন্মুক্ত।
বিষ্যুত ও শুক্কুর বার ওখানে হরেক রকমে মানুষের মেলা জমতো। দূর দূরান্ত হতে বিক্রেতারা তাদের পণ্য বিক্রির হাট বসাতো। আসামের পাহাড় হতে আনা সেলাজুৎ, ৮০ বছরের বৃদ্ধকে তরুণ বানানোর তাবিজ, অবিবাহিত মেয়েকে বিয়ে দেয়ার তাবিজ সহ হাজার রকম অসুখ-বিসুখের দাওয়াইয়াতে জমজমাট থাকতো এসব আসর। শুক্কুর বার শহরে হাটের দিন। হাট ফেরত অনেকে কিছু সময়ের জন্যে বিশ্রাম নিত এখানে। ক্লান্তি দূর করার জন্যে যথেষ্ট উপাদান থাকতো বিক্রেতাদের ঝুলিতে।
সাব্বাস ব্যাটা আব্বাস!!!
ভয়াবহ ঈর্ষণীয় সাফল্য! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দল হিসাবে বিএনপি যে সফলতা দেখিয়েছি তা সভ্যতার ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা হয়ে রয়ে যাবে। পৃথিবীর বাকি ১৯৪টা দেশের জন্যে উন্নতির আইকন হয়ে থাকবে বিএনপি। ভেতরের খবর না জানলে আমার মত তারাও প্রশ্ন তুলবে, এও কি সম্ভব?
সম্ভব! বাংলাদেশে সব সম্ভব!!
এক নেতার এক দেশ, শেখ মুজিবের বাংলাদেশ...
আগস্ট মাসটাই কেমন জানি বেরা তেরার মাস! সব ঘটনা কেন যে এই মাসে ঘটতে হবে তার কোন ব্যাখ্যা নেই। ২৪'এর পরিবর্তনও এই মাসে। হাসিনার পলায়ন দিয়ে মাসের শুরু। ১৪ তারিখ পাকিস্তানের, ১৫ তারিখ ভারতের স্বাধীনতা দিবস। ১৫ তারিখ আরও দুইটি ঘটনা যা চাইলেও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়না। একদিকে মুজিব হত্যাকাণ্ডের শোক অন্যদিকে খালেদা জিয়ার জন্মোৎসব! দুই মেরুর দুই ঘটনা যা নিয়ে বছরের পর বছর চলে আসছে তর্ক বিতর্ক।
আমি মানুষ না আওয়ামী লীগার?
বাস্তবতা হচ্ছে, আপনাদের ফেলে যাওয়া সাম্রাজ্য বেহাত হয়ে গেছে। ১৭ বছর যাদের ধান ক্ষেত পাট ক্ষেতে রাত্রিযাপন করতে বাধ্য করেছিলেন এখন তাদের হাতে আপনাদের সাম্রাজ্য। লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, টেম্পু স্ট্যান্ড, গরুর হাটে এখন যারা চোখে কালো চশমা আর পকেটে পিস্তল নিয়ে চান্দা উঠায় দুই বছর তাদেরই আপনারা দৌড়ের উপর রেখেছিলেন। প্রকৃতির মত পালাবদল হয়েছে এসবে। খুনখারাবি, লুটপাট, চান্দাবাজি, ইতর-বাজি আর ধর্ষণ-বাজির মাঠ এখন অন্যদের দখলে। এসব দেখে কষ্ট লাগলে চোখ বন্ধ কইরা অতীতে ফিরা যাইয়েন। স্মৃতির নেশায় বুদ হইয়া তৃপ্তি নিয়েন...আহ কি সময়ই না ছিল! আবরারদের মত কত মায়ের পুতেরা কি সহজেই না পিটানো যাইতো...হলের কমনরুমে ফুলের বাসর সাজিয়ে আতিকা আপুর জন্মদিন করা যাইতো...গানে গানে স্লোগান দেয়া যাইতো...শুভ শুভ শুভদিন...আতিকা আপুর জন্মদিন!
পাপ বাপকেও ছাড়েনা...
ক্ষমতা যখন পারিবারিক সম্পত্তিতে রূপান্তরিত হয় তখন স্বাভাবিক হয়ে যায় বাপের পর ছেলে অথবা মেয়ের ক্ষমতায়ন। হাফেজ আল আসাদের মৃত্যুর পর তার ছেলে বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় বসবেন এ ছিল অলিখিত নিয়ম। সিরিয়ানদের এর বাইরে যাওয়ার উপায় ছিলনা। আর আমাদের দেশে শেখ হাসিনা শেখ ডাইনাস্টির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন পরিবারের বাকি সবার অকাল মৃত্যুতে। এখানেও ছিল পারিবারিক বাধ্যবাধকতা।
পচা কাঁঠালের পচা খদ্দের...
আমাদের এলাকার অনেক জায়গায় গ্রোসারী স্টোরকে বলা হয় বাজে মালের দোকান। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রকে কেন বাজে মাল হিসাবে গণ্য হবে এর কোন ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নেই। তবে 'বাজে মাল' শব্দ দুটো যে খুবই জোরালো ভাবে দোকানের আইডেন্টিটিটি উপস্থাপন করে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এসব স্টোর মুদি দোকান হিসাবেও পরিচিত বাংলাদেশের অনেক কোনায়।