ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তারা উল্লাস করেছিল। ভেবেছিল দিন বোধহয় ফিরে এলো। অনেকে আশায় ছিল ক্ষমতাগ্রহনের প্রথম প্রহরেই হয়ত ঘটবে ঘটনা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে পাশ করে জানুয়ারির ২০ তারিখ ওভাল অফিসে বসেই ডিক্রি জারির মাধ্যমে বদলে দেবেন বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতি। দুপুরের খাবার অসমাপ্ত রেখে এক কাপড়ে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আদর সোহাগ করে ফিরিয়ে আনবেন এবং ফিরিয়ে দেবেন হারানো সাম্রাজ্য।
দুর্ভাগ্য, এর কোনটাই ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী দূরে থাকা বাংলাদেশ নামে একটা দেশ আছে সেটা জানলেও এর অবস্থান কোথায় সেটা জানতে নিশ্চয় উপদেষ্টাদের সাহায্য নিয়েছিলেন সদ্য নির্বাচিত ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক আর নিউ জার্সির বিভিন্ন রাস্তায় মিছিল করে যারা ট্রাম্পের বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছিল পরবর্তীতে তাদের অনেককে আইস নামের বাহিনী দিয়ে দেশ হতে পত্রপাঠ বিদায় করেছিল ট্রাম্প।
২০২৪ সালের লোকসভার নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ পোক্ত করায়ও আশান্বিত হয়েছিল তাঁরা। ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে জাতিসংঘের সামনে শ্লোগান দিয়েছিল 'মোদী কি জয়'। হয়ত মনে করেছিল এবার আর কে ঠেকায় তাদের ফিরে আসা!
না, সেখানেও হতাশা! মোদিজি খোলা আকাশের নীচে মল-মূত্র ত্যাগে অভ্যস্ত সেনাদের পাঠিয়ে মুক্ত করতে পারেননি গণভবন, তার হাস-মুরগী ও মৎস্য চাষ প্রকল্প। ইউনুস মাষ্টার গোনায়ই নেননি সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশ নিয়ে ১৪৭ কোটি জনসংখ্যার দেশটার প্রধানমন্ত্রীর রাগ, গোস্বা, হতাশা, ভিসা ব্লকেড বাণিজ্য বন্ধ, ভাত ও পানিতে মারার স্লো পয়জনিং পরিকল্পনা।
দুই ফ্রন্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে রিয়েল টাইম স্বপ্ন দেখার বাগান বুনেছিল ওপারে শুভেন্দু বাবুর নির্বাচনী বিজয়ে। এই বাবুর বাংলাদেশ নিয়ে প্রাক নির্বাচনী কথা-বার্তায় ও হুমকি ধমকিতে স্বপ্নজাল বুনার যথেষ্ট কারণ ছিল। এই প্রথম কেউ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল মার্চ করে ঢাকার দখলের ও পলাতক সেবাদাসীর হারানো চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি।
হায়! অনেকটা দিন যায় কথা থাকে গল্পের মতই দিনের পর দিন আর মাসের পর মাস গড়ায়, বঙ্গোপ সাগরের তর্জন গর্জনের মতই ফিকে হয়ে যায় এই বাবুর রণহুংকার। অনেকটা ট্রাম্পের আইস বাহিনীর কায়দায় বাবু রাতের আধারে গরু পাচারের মত সীমান্ত দিয়ে পাচার করতে চায় পলাতক বাহিনীর 'পথ-শিশুদের'।
কথায় বলে খোয়াব দেখতে নাকি পয়সা লাগেনা! ১৪০০ লাশের মিছিল ডিঙ্গিয়ে যারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল তাদের খোয়াব দেখার পালাও যেন শেষ হতে চায়না। রাতের খোয়াব এখন দিনের আলোতেও ধর্না দেয় তাদের দুয়ারে।
দুদিন আগ পর্যন্ত খোয়াব উঠিয়ে রাখা হয়েছিল ভবিষ্যতের জন্য। কথা-ছিল কিয়ার ষ্টারমারের বিদায়ের পরই কেবল তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন। দেশটার জন-জরিপেও নাকি তিনি এগিয়ে। একধাপ এগিয়ে সময়ের ব্যারিয়ার ভেঙ্গে দেখলাম তিনি নাকি ১০নং ডাউনিং স্ট্রীটের দিকে ইতিমধ্যে রওয়ানা দিয়ে ফেলেছেন। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের তিনি এখন ঘোষিত প্রধানমন্ত্রী এবং পাশাপাশি অঘোষিত রানী!
আশার ভেতরও তাদের আশা থাকে। মূল আশাটা দুর্নীতির মালা গলায় ঝুলিয়ে মন্ত্রীসভা হতে বিদায় নেয়া চোর গুষ্টির সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ভেতর সীমাবদ্ধ না, বরং প্রধানমন্ত্রী বনে দূরের দেশ বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে আপন খালাকে পুণঃপ্রতিষ্ঠিত করা।
আশায় আশায় বেলা বয়ে যাচ্ছে। বসন্ত গড়িয়ে শীত চলে আসছে। কিন্তু দিগন্ত রেখার কোথাও সূর্যের আলো দেখা দিচ্ছেনা। এক স্বপ্ন ছেড়ে অন্য স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরছে তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হারপিকের গন্ধে কলুষিত করছে। কিন্তু হায়! কৃত পাপ তাতেও যেন পিছু ছাড়ছেনা।
তাদের জন্যে আলো কি আদৌ ফিরে আসবে কোনদিন?
আসুন দু'ফোটা চোখের পানি ফেলি তাদের জন্যে!