সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সুযোগ খুঁজছে দেশ হতে উষ্ঠা খেয়ে বিদায় নেয়া আওয়ামী হায়েনার দল। সমীকরণ গুলো খুব সোজা। সনাতন ধর্মালম্বিদের মৃত্যুতে ইসলামী মৌলবাদের লেবেল লাগিয়ে তা গোদি মিডিয়া ও মোদী রাজ্যে বিক্রি করা। প্রত্যাশাটা এমনঃ প্রতিবেশী দেশের গেরুয়া বাহিনী বাংলাদেশের কথিত হিন্দু নিধনে জ্বলে উঠবে, আর সে জ্বলে উঠার জ্বলন্ত আগুন সীমান্ত পার হয়ে দেশের গভীরে প্রবেশ করবে। তাতে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, সে সুযোগে আপা চটকরে ২ লাখ পলাতক বাহিনী নিয়ে গণভবনে প্রবেশ করবেন।
রংপুরে নিহত অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের বাকি ৩ জনের মৃত্যুতে আশার আলো দেখছিল কুলহারা আবালের দল। ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করছিল এ হত্যাকাণ্ড একই ধর্মের দুজনকে দিয়ে সম্ভব ছিলনা। এর সাথে নিশ্চয় কোন রুই-কাতলা জড়িত ছিল। বলাই বাহুল্য অনাবিষ্কৃত এই রুই কাতলাদের অস্তিত্ব খুঁজতে গিয়ে যদি তিমি মাছ আকৃতির কোন সনাতন ধর্মালম্বিকে পাওয়া যায় তাতেও সন্তুষ্ট হবেনা শেখ হাসিনার সর্বহারা বাহিনী।
বাংলাদেশে কি মৌলবাদী জঙ্গি কোন গুষ্টি নেই যারা দেশের সংখ্যালঘুদের খুন করার জন্যে মুখিয়ে আছে? নিশ্চয় আছে। তবে তাদের সংখ্যা আমাদের উপমহাদেশের বাকি দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। কবে কোথায় বাংলাদেশে সর্বশেষ সংঘবদ্ধ সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছিল তার কোন পরিসংখ্যান নেই। তারপরও বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেশী দেশের গেরুয়া বাহিনী ও তাদের স্থানীয় চণ্ডালদের অভিযোগের অন্ত নেই। ভাবটা এমন এ দেশে সনাতনীরা কোন অপরাধ করেনা। তারা ঘুষ খায়না, চুরি-ডাকাতিতে জড়িত হয়না, ড্রাগে আসক্তি নেই। তাদের পুরুষাঙ্গে তেমন জোশ নেই তাই ধর্ষণে লিপ্ত হয়না। দেশের দেড় দুই কোটি সনাতনীদের সবাইকে উপস্থাপন করা হয় উপন্যাসের বাবু হিসাবে। তারা সবাই যেন ছায়াছবির সহজ সরল চরিত্রের নায়ক, আর বাকি ১৫ কোটি মুসলমানরা একেক জন অমরেশ পুরী।
বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশের হিন্দুরাও দেশের মুসলিম জনসংখ্যার মত চুরি ডাকাতি করে, ঘুষ খায়, ধর্ষণে লিপ্ত হয়। মানিলণ্ড্রিয়ের মত ঘোরতর অন্যায় কাজে তারা সামনে হতে নেতৃত্ব দেয়। সমস্যা দেখা দেয় অন্য জায়গায়। তাবৎ অপরাধের জন্যে দেশের মুসলিম জনসংখ্যাকে শাস্তি দিলে তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য হয়না, হোক তা আদালতের অথবা মব শাস্তি। একই অন্যায় অপরাধের জন্যে সংখ্যালঘুদের শাস্তি দিলে তাতে পাওয়া যায় সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ, ইসলামী মৌলবাদের হাত।
পৃথিবীর সব দেশে সব কালে ধর্মীয় উন্মাদনা জীবন্ত ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমেরিকা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও সে দেশের ক্ষমতাসীনদের অনেকে দেশ হতে মুসলমানদের বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছে। আরও উগ্র ডানপন্থীদের অনেকে অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরছে মুসলমানদের উপর। দেশটার ইহুদি ধর্মালম্বিদের উপর অব্যাহত উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে Proud Boy, Oath Keepers and Three Percenters'এর মত উগ্র ডানপন্থীরা। খোদ ভারতে এ ধরণের জঙ্গি গুষ্টির সংখ্যা কয়েক ডজন। ওরা রাষ্ট্র ও সরকারের ছত্রছায়ায় অব্যাহত ভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মুসলমানদের উপর। তছনছ করছে মুসলমানদের বাড়ি ঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা। নিজেদের দেশকে হিন্দু দেশ দাবি করে বাকিদের দেশ ছাড়া করার মিশন বাস্তবায়ন করছে দেশটার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুসলমানদের নিয়ে যে ভাষায় কথা বলেন এমন ভাষা বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোন রাজনীতিবিদ বলার সাহস করেননি এবং সামনে করবেন বলেও মনে হয়না। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয় লেনাদেনা নিয়ে। তাতে ধর্মীয় লেবাস লাগানোর কোন কারণ ঘটেনা। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার ঐতিহাসিক বাস্তবতা। এ অত্যাচার পৃথিবীর সব দেশে সব কালে হয়েছে এবং হচ্ছে। কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে এমন অত্যাচারের আসল নায়ক হচ্ছে সংখ্যালঘুদের অতি প্রিয় আওয়ামী নেতা উপনেতা আণ্ডা-বাচ্চা নেতারা।