মক্কা প্যাক্ট, নামটার ভেতরই এক ধরণের কন্ট্রোভার্সি আছে। ১৯০ কোটি মুসলমানদের হৃদয়ে মক্কা নামটার আলাদা একটা জায়গা আছে। সে জায়গা শান্তির জায়গা। সে জায়গা সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজকে বিলিয়ে দেয়া জায়গা। এমন একটা জায়গার নাম ব্যবহার করে সামরিক জোট তৈরি করার কোন জাস্টিফিকেশন থাকতে পারেনা, হোক তা ডিফেন্সিভ অথবা অফেন্সিভ। যুদ্ধ মানে অশান্তি, যুদ্ধ মানে হত্যা, খুন, ধ্বংসযজ্ঞ।
সৌদি আরব, পাকিস্তান আর তুরস্ক মিলে মক্কা প্যাক্টের ছায়ায় যে সামরিক জোট করতে যাচ্ছে তার লাইফ লাইন যে সৌদি আরবের পেট্রো ডলার তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এখানে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির মূলে আছে দেশটার পারমানবিক আর্সেনাল, আর তুরস্কের আছে চৌকশ সামরিক বাহিনী ও সামরিক খাতে উন্নত প্রযুক্তি। এখানে বাংলাদেশ যোগ দিলে জোটে তার ভূমিকা কি হবে তা পরিষ্কার না।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশিরা মিসকিন নামে পরিচিত। ঐ অঞ্চলের শেখদের টয়লেট পরিষ্কার হতে শুরু করে রান্নাঘরের দায়িত্বও বাংলাদেশ হতে আনা সস্তা শ্রমের শ্রমিকদের। এমন একটা দেশকে সম-অধিকার দিয়ে সামরিক জোটের সদস্য বানাবে সৌদি আরবের বাস্তবতা কিন্তু তা বলেনা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে জোটের সামরিক কর্মকাণ্ডের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার দায়ভার চাপানো জন্যেই বাংলাদেশের মত দেশকে দরকার।
ভারত আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি স্থায়ী হুমকি। এ হুমকি মোকাবেলা করার মত সামরিক সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। ন্যাটো আদলের সামরিক জোট হতে পারে এর মোক্ষম বিকল্প। কিন্তু দেশ হিসাবে বাংলাদেশ কি প্রস্তুত এমন একটা জোটে যোগদানের জন্যে?
দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি। দেশপ্রেমের সংজ্ঞায় আছে বিতর্ক। বিদেশী আক্রমণে দেশের একটা বিরাট জন-গুষ্টি অবস্থান নিবে শত্রু শিবিরে। এসব সমস্যার সমাধান না করে মক্কা জোটে যোগদান বাংলাদেশের জন্যে হতে পারে আত্মঘাতী। দেশটার সাথে প্রতিবেশী দেশের যে বিশাল সীমান্ত আছে তাতে স্থায়ী বৈরিতা জিয়িয়ে রাখলে দেশটার দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়া সহজ করে দেবে। শেখ হাসিনা ১৭ বছর মুক্তিযুদ্ধ ও তার বাবার নামে যে ব্যবসা করে গেছেন একই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার রসদ যোগাবে স্থায়ী ভারত বিরোধিতা।
দেশে গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, কর্মসংস্থানের স্থায়ী অবকাঠামো নেই। হত্যা, গুম, খুন আর চাঁদাবাজির প্লাবন বইছে সর্বত্র। এসব সমাধানের ব্যবস্থা না করে দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর ষ্ট্যান্টবাজি হতে যাচ্ছে মক্কা জোটে যোগদান।