অপরাধ / দূর্নীতি / শাস্তি
ফুটবল খেলার প্রতি আগ্রহটা কখন যে মরে গিয়ে কবরে ঠাঁই নিয়েছে তা চাইলেও মনে করতে পারব না। অথচ একটা সময় ছিল যখন দেশের লারেলাপ্পা মার্কা ফুটবল লীগ নিয়েও চরম এডিকশন ছিল। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দূরে থাক, এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্যায়েও কোনদিন খেলবেনা এ নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ নেই। খেলতে পারলে আগ্রহটা হয়ত ধরে রাখতে পারতাম। আমার আরও ২টি দত্তক নেয়া দেশ আছে যারা নিয়মিত বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিয়ে থাকে। কিন্তু এদের অংশগ্রহণ কোন তারতম্য তৈরি করেনা অনেক কারণে। সে প্রসঙ্গে নাই বা গেলাম।
শেখ হাসিনার অপরাধের মাত্রা বহুমাত্রিক। রাজপথে দলীয় ক্যাডারদের সাথে পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে তিনি যে নৃশংসতার জন্ম দিয়েছিলেন তা ছিল দৃশ্যমান। সে সব নির্মমতা আমরা অনক্যামেরা দেখেছি। সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে হাজার মাইল দূরে বসে লাইভও দেখেছি। প্রহর গুনেছি কবে অবসান হবে এসব নির্মমতা। অপরাধের সমুদ্রে সাতার কেটে শেষপর্যন্ত তিনি পালাতে বাধ্য হলেন। পিছনে রেখে গেলেন এমন এক বাংলাদেশ যেখানে মনুষ্যত্বের উপরে উপর স্থান করে নিয়েছিল দলীয় ও ব্যক্তি পরিচয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বেনজীর আহমেদ। বলা হচ্ছে ইন্টারপোলের দেয়া রেড এলার্টকে ট্রেক করে স্থানীয় পুলিশ আইনের আওতায় এনেছে পলাতক এই অতিমানবকে। ঐ দেশের কোন আইন ভঙ্গ করেছেন কিনা তার কোন তথ্য নেই আমাদের কাছে, আমাদের মিডিয়াও তেমন কিছু বলছেনা। স্বভাবতই আমরা ধরে নেব ইন্টেরিমের দেয়া রেড এলার্টের ভিত্তিতে ইন্টারপোলই কাজটা করেছে। আমার খটকাটা এখানেই!
ছাত্রলীগ গভীর রাতে কোথাও মিছিল করছে, সংখ্যায় ছিল তারা ১০/১৫ জন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা তুফান তুলছে...এবং তাতেই অনেকে উত্তেজিত! যে কোন সময় এয়ারপোর্টে যাওয়ার ডাক আসতে পারে, এমন বক্তব্য দিয়ে পলাতক একদল রাষ্ট্রীয় চোরের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে।
এবং বাস্তবেও স্কুলটার নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ করার অবকাশ নেই। রেগুলার স্কুল-ডে'তে বাইরের কারও ভেতরে ঢুকার অনুমতি নেই। এমনকি পিতা-মাতারও না। প্রবেশের জন্যে কেবল একটা দরজা। আকারে বেশ বড়। ইন্টার-কমে যোগাযোগ করে ক্লিয়ারেন্স পেলেই কেবল অফিসে যাওয়া যায়। ওখান হতে ক্লাসরুমে যেতে চাইলে আরাও একধাপ নিরাপত্তা বলয় পেরোতে করতে হবে।
কিভাবে নেবেন খবরটা তা আপনার নিজের ব্যপার। তবে আমার জন্যে এমন একটা খবর ইউনিক ও বিস্ময়কর। দুর্নীতির বিশ্বে এমন খবর অদ্বিতীয় ও বিরল।
বাংলাদেশে এখন গ্যাস সংকট প্রকট। চুলায় রান্নার জন্যে গ্যাস থাকেনা ঘণ্টার পর ঘণ্টা। গ্যাস ভিত্তিক শিল্প কারখানাগুলো নিয়মিত ধুকছে গ্যাস সংকটে।
চারদিকে হরেক রমকম সংকটের মাঝে এমন একটা খবর জাতিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারতো। আলো জ্বালাতে পারতো অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। কিন্তু বিশেষ কারণে তা হতে পারেনি।
আপনি বলবেন একজন ধনী মানুষের জন্য আমার হিংসা হচ্ছে। আসলে ধনীর সংজ্ঞা কি তা একসাথে করতে কিছুটা হিমসিম খাচ্ছি। কত অর্থ-কড়ির মালিক হলে একজনকে ধনী বলা যাবে তা আমার অভিধানে না থাকায় হিংসা হওয়ার কোন কারণ দেখিনা।
একই সালের ৩রা এপ্রিল মধ্য ইউরোপে দেশ যুগোস্লাভিয়ায় গৃহযুদ্ধের দামামা বেজে উঠে। এক বছর আগে ১৯৯১ সালের ২৫শে ডিসেম্বর সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার একচ্ছত্র অধিপতি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে কেবল। ইউনিয়ন হতে বেরিয়ে গিয়ে বাকি ১৪টি প্রজাতন্ত্র আলাদা দেশ হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে। এই পতনের প্রভাব ফেলতে শুরু করে পূর্ব ইউরোপের সবকটা দেশে।
বলা হতো ক্ষমতার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। শেখ হাসিনার কিছু হলে সামনে আসার জন্যে সদা প্রস্তুত ছিলেন। ছায়ার মত সর্বত্র ঘুরে বেড়িয়েছেন। সরকারী কোন পদে না থাকলেও ঘুরে বেড়ানোর সব খরচ বহন করেছে রাষ্ট্র। শেখ বংশের সব চাইতে লাভবান ও ভাগ্যবান ব্যক্তি শেখ রেহানা। অনেকে বলেন প্রথমে বাপের নাম, পরে বোনের নাম ভাঙ্গিয়ে ভোগ করে গেছেন নিজের জীবন।
দিপু মনি - নামটার ভেতর কেমন একটা আহ্লাদী ভাব আছে। মুখে আনলে মনে হবে আদর করে মায়ের কোলের কোন শিশুকে ডাকছি যেন। শরৎ কাব্যের এই মহীয়সীর রাজনীতিতে উত্থান কিভাবে তার বিস্তারিত আমার জানা নেই। অনলাইনে ঘাঁটলে হয়ত পাওয়া যাবে। তবে ওদিকে যাওয়ার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না। শেখ হাসিনার বাপের দেশে কে রাজনীতিতে আসবে আর কে যাবে তা একান্তই ঐ পারিবারের ব্যপার।