বাংলাদেশের কসাই!

Submitted by WatchDog on Friday, September 4, 2026

আপনি যদি জিয়া-উল আহসান চরিত্রের ভেতরটা দেখতে চান তাহলে রিকমেন্ড করবো ১৯৯১ সালে তৈরি The silence of the Lambs এবং ২০০১ সালে তৈরি Hannibal মুভি দুটো দেখে নিতে। সাইকোপ্যাথ সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে লেখা অনেক উপন্যাস পরেছি, ছায়াছবি দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে এমন একটা চরিত্র বাংলাদেশে থাকতে পারে এ ছিল কল্পনার বাইরে।

অন্ধকার রাত। চারদিকে শুনশান নীরবতা। মধ্য-নদী বরাবর একটা ট্রলার .১৯ হতে ২৫ বছর বয়সী কজন তরুণকে নিয়ে এগিয়ে চলছে। মাথায় যম-টুপি পরে ওরা মৃত্যুর প্রহর গুনছে। মাঝপথে একজনকে পয়েন্ট ব্ল্যাংক গুলি করে খুন করা হল। ছুরি চালিয়ে পেট হতে নাড়িভুঁড়ি বের করে মাছের মত পরিষ্কার করে ফেলল ভেতরটা। খোলা পেটে ইটের ব্লক ভরে ভরে উচ্ছিষ্ট ময়লার মত ছুড়ে ফেলল নদীতে। কয়েক মিনিটের ভেতর শেষ হল একজন মানুষের বেঁচে থাকা। গা শিউরে উঠে বাকি যারা খুনের লাইনে ছিল তাদের কথা ভাবতে গেলে। কেমন কেটেছিল জীবনের শেষ কয়েকটা মিনিট বুঝতে নিশ্চয় তাদের জুতায় পা রাখতে হবে।

নদীর তলদেশে কংকাল হয়ে হয়ত এখনও ওরা শুয়ে আছে। পাশাপাশি পাড়ের আত্মীয়-স্বজন ফিরে আসার প্রহর গুনছে। আর কেউ না জানুক একবিংশ শতাব্দীর হানিবল লেক্টর জিয়া-উল আহসান জানেন তারা কেউ ফিরে আসবেনা।

দেশের বিক্রি হয়ে যাওয়া আইন ও বিচার ব্যবস্থা কি পারবে জিয়া-উল কসাইকে ফাঁসির দড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে? বাস্তবতা কিন্তু তা বলেনা। পুলিশ ও সেনা অফিসারদের কোনদিন ফাঁসি দূরে থাক লম্বা সময় জেল-টার্ম পর্যন্ত হয়না। চট্টগ্রামের ওসি প্রদীপ, নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মামলায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মাসুদ রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ১০ বছর আগে। সে রায় কার্যকরের কোন পদক্ষেপ নেই। দণ্ডপ্রাপ্ত সেনা অফিসারদের ফাঁসির আসামীর জন্যে সংরক্ষিত সেলে না রেখে রাখা হয়েছে এসি ও রঙ্গিন টিভি সহ আরামদায়ক কামরায়। এ বিবেচনায় জিয়া-উল আহসানের র‍্যাংক আরও উপরে। সুতরাং মৃত্যুদন্ডের রায় হলে তা যে বাস্তবায়ন করা হবেনা তা প্রায় নিশ্চিত।

জনৈক পলাতক আওয়ামী লীগার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে দাবি জানিয়েছেন জিয়া-উল আহসান 'বীর মুক্তিযোদ্ধা' তাই তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে!
আমার দাবি থাকবে:
- এই দানবের ফাঁসি যেন লাইভ টেলি-কাস্ট করার ব্যবস্থা থাকে।
- তাকে দড়িতে ঝুলানোর আগে অন্য কাউকে ঝুলাতে হবে যাতে সে প্রত্যক্ষ করতে পারে ফাঁসি পর্ব।
- মৃত্যুর পর লাশ কবর দেয়ার বদলে নদীতে ছুড়ে ফেলতে হবে।
- ফেলার আগে পেট হতে নাড়িভুঁড়ি বের করে ওখানে সেনা পোশাক, বুট, বেল্ট, সাথে শেখ হাসিনার একটা ছবি ভরে দিতে হবে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন