তৌহিদ হোসেনদের স্বপ্নভঙ্গ...
ইউনুস সরকারের সমালোচনা এখন খোদ ঐ সরকারের সদস্যরাই করা শুরু করেছেন। কারণ অনেকের কাছে অস্পষ্ট মনে হতে পারে। তবে আমার কাছে সবকিছু একেবারে যে অস্পষ্ট তা নয়। একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করবো।
ইউনুস সরকারের সমালোচনা এখন খোদ ঐ সরকারের সদস্যরাই করা শুরু করেছেন। কারণ অনেকের কাছে অস্পষ্ট মনে হতে পারে। তবে আমার কাছে সবকিছু একেবারে যে অস্পষ্ট তা নয়। একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করবো।
গল্পটা আগেও একবার করেছিলাম। যারা আমার লেখালেখির সাথে পরিচিত তাদের মনে থাকার কথা। প্রাসঙ্গিক হওয়ার কারণে এখানে আবারও টেনে আনছি।
আমি আমার ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের শেষ বর্ষে। ফাইনাল থিসিস জমা দিয়ে তা ডিফেন্ড করলেই আমার মাস্টার্স কমপ্লিট হবে। তার আগে থিসিসের ম্যাটেরিয়াল জোগাড় করার জন্যে আমাকে মাস-খানেক হাতেকলমে কাজ করতে হবে।
বিশ্ব পরিসরে জায়গা করে নিতে ইউনুস স্যারকে সে পথে হাঁটতে হয়নি। পৃথিবীর বহু দেশের বহু গলিতে প্রফেসর ইউনুস একটি পরিচিত নাম। স্পেনের বার্সিলোনা ফুটবল ক্লাবে ঢুকলেও পাওয়া যায় বাংলাদেশি নোবেল লওরিয়েটরে নাম। ভেনিজুয়েলার গ্রামে গেলেও চোখে পরবে ইউনুস স্যারের গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিচ্ছবি। এসব সন্মানের জন্যে তাকে এস আলমদের মত ব্যাংক লুটেরাদের সাহায্য নিতে হয়নি।
শেখ হাসিনার অপরাধের মাত্রা বহুমাত্রিক। রাজপথে দলীয় ক্যাডারদের সাথে পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে তিনি যে নৃশংসতার জন্ম দিয়েছিলেন তা ছিল দৃশ্যমান। সে সব নির্মমতা আমরা অনক্যামেরা দেখেছি। সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে হাজার মাইল দূরে বসে লাইভও দেখেছি। প্রহর গুনেছি কবে অবসান হবে এসব নির্মমতা। অপরাধের সমুদ্রে সাতার কেটে শেষপর্যন্ত তিনি পালাতে বাধ্য হলেন। পিছনে রেখে গেলেন এমন এক বাংলাদেশ যেখানে মনুষ্যত্বের উপরে উপর স্থান করে নিয়েছিল দলীয় ও ব্যক্তি পরিচয়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাফনে দাফন করলেই তোফায়েল গংদের পাপ সাদা হয়ে যাবেনা, এ পাপ শতাব্দির পর শতাব্দি তাড়া করে বেড়াবে মানুষের মনুষ্যবোধকে। আর কবরে শুয়ে তিনি অনন্তকালের শান্তিতে ঘুমাবেন এমনটা ভাবারও কোন কারণ নেই। এ লেখাটা যখন লিখছি হয়ত ফেরেশতারা আমল নামা হাতে নিয়ে তোফায়েলকে প্রশ্ন করা শুরু করে দিয়েছেন।
গ্রামবাসীদের তৃতীয় একজন এস ছো মেরে খুলে নিল সমনার পরনের লুঙ্গিটা। বীচি বরাবর ফ্লাইং কিক মেরে মাটিতে ফেলে দিল তাকে।
ফুল নেংটা হয়ে সমনা উঠে দাঁড়াল। লুঙ্গির কথা ভুলে গিয়ে ভো করে দৌড় দিল। গ্রামের পথ দিয়ে নেংটা হয়ে দৌড়চ্ছে আর চীৎকার করছে ... সাহস থাকলে আসিস আমাদের গ্রামে।
নিজ গ্রামে পা রাখার পর একদল দুষ্টু বালক তার পিছু নিল। কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে বদনা...ধর ধর বলে চেঁচাচ্ছে সবাই। নেংটা সমনাকে তার নিজ গ্রামের বালকেরা তাড়া করে নদী পর্যন্ত নিয়ে গেল। সমনা সাতরে নদী পাড় হয়ে সেই যে কোথায় গেল তার খোজ আর কেউ কোনদিন পেলনা!
১৮ কোটি মানুষের লায়ালাবিলিটি নেয়ার জন্যে আমেরিকার পা রাখবে এ দেশে? ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, ইরান সহ পৃথিবীর দেশে দেশে ধোলাই খাওয়া আমেরিকা নতুন এক মুসলমান দেশে এসে নিজেদের মাথা গিলোটিনের নীচে রাখবে এতটা বোকা তারা না। ব্যক্তি খলিলুর রহমানকে সভাপতি বানায়নি জাতিসংঘ, বানিয়েছে বাংলাদেশকে। হয়ত আঞ্চলিক কোটায় এটা সম্ভব হয়েছে। নিশ্চয় তা গৌরবের, কিন্তু এ পদের জন্যে দেশ বিক্রি করতে হয়েছে এসব কথা রাজনীতির মাঠে নয়, বরং হাইকোর্টের মাজারে গাঞ্জার আড্ডায় মানায়।
জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়ার প্রক্রিয়াটা দীর্ঘ ও জটিল। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ ও ১৯৩ সদস্যদের সাধারণ পরিষদ যৌথভাবে প্রার্থিতার মনোনয়ন আহবান করে থাকে। ব্যক্তি নয়, সদস্য রাষ্ট্রকে তার মনোনীত প্রার্থীর জন্যে আবেদন পত্র জমা করতে হয়। আবেদন পত্র যাচাই বাছাইয়ের পর তা নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়। সিম্পল মেজরিটির বাইরে এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে; আর তা হচ্ছে পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্যদের ভোট। এই ৫ ভোটের একটা ভোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে গেলে তাহলে তা ভেটো হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এবং এখানেই শেষ হয় প্রার্থীর ক্যানডিডেসি। ওদের কেউ যদি বিপক্ষে ভোট না দিয়ে ভোট দান হতে বিরত থাকে তাহলে অন্য কথা।
এনসিপি নেতা ও তুখোড় বক্তা তুষার সারোয়ারের মুখ হতে শোনা কিছু কথা মগজে স্থায়ী হয়ে আছে বিভিন্ন কারণে। তিনি নাকি নিজ কানে শুনেছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলছেন, বিপ্লব বছর বছর হয়না... আওয়ামী লীগকে হটাতে ১৫ বছরের উপর লেগেছে...আগে আমরা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকি তারপর সংস্কার ফংস্কার দেখা যাবে...।
নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামী লীগের পতন হয়ে গেছে। গণহত্যার দায় নিয়ে দলের আণ্ডাবাচ্চা হতে শুরু করে রুই-কাতলরা পর্যন্ত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দেশের মানুষ তাদের ঝেটিয়ে বিদায় করেছে। রক্তের দাগ শুকানোর আগেই যারা এয়ারপোর্ট দখলের খোয়াব দেখছেন তাদের বলবো মানিক মিয়া এভিনিউর সংসদের দিকে চোখ রাখতে। ওখান হতে আপনাদের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ না হওয়ার পর্যন্ত আগরতলার জঙ্গল, দিল্লীর জোৎস্নাভরা রাত আর ব্রাসেলসের ব্যস্ত পথঘাটই হবে আপনাদের ঠিকানা। পেরিয়ড।