ই*স*রা*য়ে*ল নামের দেশটার চূড়ান্ত পতন তাদের পার্টনার-ইন-ক্রাইম মার্কিনীদের হাত দিয়েই শুরু হবে, ভবিষ্যৎবাণীটা অনেক আগেই করেছিলাম। তবে তার শুরুটা যে এত তাড়াতাড়ি হবে তা স্বপ্নেও কল্পনা করিনি। ই*স*রা*য়ে*লের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রক্সি ওয়ার বদলে দিয়েছে সব সমীকরণ।
দেশটায় জ্বলন্ত আগুনের মত ছড়িয়ে পরছে ই*স*রা*য়ে*ল ঘৃণা। বছরের পর বছর ধরে ই*স*রা*য়ে*লের অর্থে নির্বাচিত হয়ে কংগ্রেসে যারা ঐ দেশের স্বার্থ রক্ষার কাছে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছিলেন তাদের এখন দুঃসময়। ভোটারদের সামনেই যেতে পারছেন না তারা, তুলো-ধুনো হচ্ছেন প্রশ্নবাণে।
প্রথম প্রশ্ন: আপনার কাছে প্রথম কে প্রথম, ই*স*রা*য়ে*ল না আমেরিকা? দ্বিতীয় প্রশ্ন, ইহুদি লবি APAC আপনাকে কত দিয়েছে?
তৃতীয় প্রশ্ন, গাজায় শিশু হত্যা ও তাদের ক্ষুধার্ত রেখে তিলে তিলে খুন করার সাথে আপনার সংশ্লিষ্টতা কতটা?
চতুর্থ প্রশ্ন, আমাদের ট্যাক্সের পয়সার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কেন তৃতীয় একটা দেশের জন্যে ব্যায় করা হচ্ছে?
উত্তর দিতে গিয়ে অনেকেই বোবা হয়ে যাচ্ছেন। অনেকে মঞ্চ হতে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে ডেমোক্রেট দলীয় শতকরা ৮০ জন এখন ই*স*রা*য়ে*ল বিরোধী। রিপাবলিকানরাও পিছিয়ে নেই। এতকাল ধরে বন্ধুত্বের উত্তাপ ছড়িয়ে যে দল এই মার্ডারাস দেশটাকে লতায় পাতায় বড় করেছে তাদের শতকরা ৫০ জনেরও বেশি এখন বেঁকে বসেছে।
গেল মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে ঘটে গেল ভূমিকম্পের মত দুটি ঘটনা।
১) সামনের মিডটার্ম নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলীয় বাছাইয়ের প্রাইমারীতে শহরের নতুন মেয়র জোহরান মামদানি সমর্থিত সব প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছে। পরাজিতদের মধ্যে ছিলেন গেল দুই টার্মের কংগ্রেস সদস্য ড্যানিয়েল গোল্ডম্যান। ইহুদি ধর্মাবলম্বী এই রাজনীতিবিদ ক্যারিয়ারের শুরু হতে ইহুদি লবির অর্থায়নে ই*স*রা*য়ে*লকে নিবিড় সেবা দিয়ে আসছিলেন। বড় ধরণের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি যা গোটা আমেরিকাকে হতবাক করে দিয়েছে।
২) দ্বিতীয় ঘটনাও ঐ ড্যানিয়েল গোল্ডম্যানকে নিয়ে। অত্যন্ত প্রতাপশালী এই সিটিং কংগ্রেসম্যানকে ব্রুকলেইনের চেইন কফি শপ পোয়েটিকা তাদের যে দোকানে ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণা দেয় তার ই*স*রা*য়ে*লি সংশ্লিষ্টতার কারণে। নিউ ইয়র্ক শহরে কম করে হলেও ১০ লাখ ইহুদির বাস। ই*স*রা*য়ে*লের পর নিউ ইয়র্ক হচ্ছে ইহুদি লোকালয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থান। এ শহরের অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় ইহুদি অর্থে। এমন শহরে একজন ইহুদি কংগ্রেস সদস্যকে তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ঢুকতে না দেয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এ নিয়ে তোলপাড় করছে আমেরিকান মিডিয়া। পাশাপাশি তুলে ধরছে ই*স*রা*য়ে*লীদের জন্যে হৃদয়বিদারক বাস্তবতা, বদলে যাচ্ছে আমেরিকা!
ইরানের সাথে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে জড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেলে দিয়েছেন। যার প্রভাব নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে বলে অনেকে সাবধান করে দিচ্ছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প পাবলিক সেন্টিমেন্টকে শান্ত করতে তড়িঘড়ি করে ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন। ই*স*রা*য়ে*ল এই চুক্তিতে চরম ক্ষুব্ধ। নানাভাবে উস্কানি দিয়ে এই চুক্তি ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে তারা। তাতেই ক্ষেপে উঠেছেন প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসন। ই*স*রা*য়ে*লকে শাসিয়ে দেশটার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মনে করিয়ে দিয়েছেন ই*স*রা*য়ে*লের বন্ধু বলতে পৃথিবীতে একমাত্র আমেরিকাই আছে। এবং এ দেশের সাথে বৈরিতা কোনভাবেই সাহায্য করবেনা তাদের।
অনরেকর্ড জেনোসাইড গোটা বিশ্বের মত আমেরিকানদেরও নাড়া দিয়ে গেছে। এ যুদ্ধের কমপ্লিসিট হওয়ায় দেশটার সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে তার ভোটাররা। ই*স*রা*য়ে*লকে মনে করছে পরগাছা পরজীবী একটা দেশ যারা তাদের ট্যাক্সের পয়সায় দেশে দেশে যুদ্ধ ছড়াচ্ছ, শিশু কিশোর সহ হাজার হাজার মানুষ হত্যা করছে। প্রশ্ন তুলছে বিনিময়ে কি পাচ্ছে তারা?