জুলাই পরিবর্তনের বয়স এখন দুই বছর। এই দুই বছরে দেশের অনেক কিছু বদলে গেছে। ইন্টেরিমের দেড় বছর ছিল জুলাইয়ের আলোকে মৌলিক কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিএনপির চার মাস তাদের জন্যে মরুভূমির তপ্ত সূর্যের দাপটের এক পশলার বৃষ্টির মত। ক্ষুধা তৃষ্ণায় শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাওয়া পকেটকে ঠাণ্ডা করার সোনালী উপলক্ষ। জুলাই গেছে একদিকে আর ক্ষমতাসীনদের দেশ শাসন গেছে অন্যদিকে। এক কথায় জুলাই হারিয়ে গেছে অথবা যাচ্ছে।
জুলাই নিয়ে জুয়া খেলার হয়ত এখনও অনেক বাকি। এর আল্টিমেট রেজাল্ট ক্ষমতাসীনদের হাতে মৃত্যুবরণ করলেও এই মাসে ধটে যাওয়া পরিবর্তনকে রিভার্স মুডে নিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া যে সহজ হবেনা তা অনেকেই বুঝেও না বুঝার ভান করে।
মেহের আফরোজ শাওন ও নিলোফার মনিদের নিশ্চয় হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। কষ্টে নিশ্চয় বুক ফাইট্টা যায়। দিল্লীর দুর্গম দুর্গে আটকে থাকা শেখ বংশের শেষ সম্রাজ্ঞীর কথা মনে হলে নিশ্চয় দুচোখ বেয়ে চেরাপুঞ্জির ধারা নেমে আসে। তাতে কি জুলাই নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ আছে?
জুলাই আওয়ামী কাঠামোতে কুঠারাঘাত করেছিল। শেখ সাম্রাজ্যের সাজানো বাগান দুমরে মুচরে উপড়ে ফেলেছিল। শেখা হাসিনা তার চৌদ্দ-গুষ্টির সবাইকে নিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। শাওন আর নিলোফার মনিদের চোখের পানি কি পারবে শুকিয়ে তক্তা হয়ে যাওয়া আওয়ামী বাগানে ফুল ফোটাতে? এ প্রশ্নের জবাব আমাদের জানা আছে। হয়ত সময় ও বাস্তবতার বিবেচনায় এ নিয়ে আমাদের কথা বলতে দ্বিধা লাগে। বুকে হতাশার দলা বাসা বাধে। কিন্তু এসব খুচরা হিসাব পাশে রেখে বড় হিসাবে গেলে আসলেই কি মনে হবে দেশ ফিরে যাচ্ছে ফেলে যাওয়া আওয়ামী পথে?
আমার হিসাবে এমন সম্ভাবনা খুবই স্লিম। আওয়ামী লীগ খুব শীঘ্রই ফিরে আসেনা। আদৌ আসবে কিনা এ নিয়েও সন্দেহ আছে। অন্তত সামনের আরও দুই টার্মে বিএনপি ক্ষমতা ধরে রাখবে। হোক তা রেখে যাওয়া ঘৃণ্য আওয়ামী পথে।
শেখ হাসিনার দানব হয়ে উঠার অনেকে অনেক কারণ বললেও আমার বিচারে অন্যতম কারণ ছিল স্বামীসূখ হতে বঞ্চিত হওয়া। যৌণতৃপ্তি হরেক রকম রোগ নিরাময়ে দারুণ এক মহৌষধ। শেখ হাসিনা গোটা যৌবন কাল এ তৃপ্তি হতে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেকে মৃণাল নামের তৃতীয় একজনকে দৃশ্যপটে আনলেও বাস্তবের চিত্র ছিল ভিন্ন। স্বামীসূখে অতৃপ্ত শেখ হাসিনা নিজ স্বামীকে কেমন দাওয়াই দিতেন আর প্রমাণ পাওয়া যায় প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান মরহুম সাহাবুদ্দিন আহমদের কিছু লেখায়।
শাওনের স্বামী নেই। নিলোফার মনির পরকীয়ার কাহিনী নিয়ে রসালো কাহিনী চালু আছে। তৃপ্তি বঞ্চিত এদের সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করালে তাদের জুলাই সমীকরণ মেলানো খুব সহজ হয়ে যাবে। তাদের হাহাকার জুলাই নিয়ে না, হাহাকার নিজেদের বঞ্চনাময় জীবন নিয়ে।