বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির জন্যে ২৪'এর জুলাই হচ্ছে একটা টিউমার। একে কেটে ফেললে যেমন থাকে জীবন নাশের শঙ্কা, তেমনি শরীরে ধারণ করলে হয় তীব্র ব্যথা।
জুলাই পরিবর্তনে দল হিসাবে বিএনপির কোন ভূমিকা ছিলনা, তাই এই পরিবর্তনের পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। বরং হাসিনার স্বৈরশাসন অবসানে নিজেদের অক্ষমতা ও ব্যর্থতাকে আড়াল করতে শাওনদের ব্যবহার করে যাচ্ছে। বেড়াল হাগু করার আগে যেমন গর্ত করে দুচোখ বন্ধ করে হেগে দেয় তেমনি জুলাই প্রসঙ্গ আসলে বিএনপিও চোখ বন্ধ করে হাগতে বসে যায়। চারদিকের কোন কিছুই তাদের চোখে পরেনা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামাত ও এনসিপিকে জব্দ করার কৌশল হিসাবে ব্যবহার করছে বার ভাতারি শাওনদের। চৈতালি, শাওন, আনিস আলমগিরের দল আসলে বিএনপিরই সৃষ্টি। এই দল পাবলিক প্লাটফর্মে যা বলতে পারেনা তা তাদের দিয়ে বলায়।
জুলাই নিয়ে যে যত নোংরামি করুক তাতে বিএনপির কিছু আসে যায়না। জুলাই সনদের উপর গণভোটের সাথে গাদ্দারি করার মত গোটা জুলাইয়ের সাথে তারা গাদ্দারি করছে। তাদের হিসাব হচ্ছে আমরা যা পারিনা তা অন্যরা পারলে ক্ষতি কি। সংসদে বিপদজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও দল হিসাবে বিএনপি স্বস্তি বোধ করছেনা। জেনারেল জিয়া ও বেগম জিয়ার ক্ষমতার অন্যতম স্তম্ভ জামাতকে বানাচ্ছে প্রধান প্রতিপক্ষ। ভারতের পোষ্যপুত্র মির্জা ফখরুলকে দিয়ে বলাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী বয়ান। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়েতই ইসলামী এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই, সংসদে ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক বিএনপি সাংসদ তাই বলার চেষ্টা করছেন। এখানে একটাই প্রশ্ন, তাহলে বিরোধী দল হিসাবে জামায়েতকে পেয়ে কি বিএনপি সন্তুষ্ট না? আওয়ামী লীগকে পেলে ভাল হত?
তারেক জিয়া কি ইতিমধ্যে ভুলে গেলেন নিজ মায়ের প্রতি আওয়ামী নির্মমতার করুন কাহিনী? ভারতের ভাতা-খোর বাকি সবাই পারলেও সন্তান হিসাবে তারতো ভুলার কথা না জীবন্ত মায়ের বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা। এক কাপড়ে বাড়ি হতে টেনে বের করে ঐ বাড়ি বুলডজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়ার কাহিনী নিয়ে জুনিয়র জিয়ার কি সন্দেহ আছে? জেলখানার স্যাঁত স্যাতে অন্ধকারে বছরের পর বছর আটকে রেখে বেগম জিয়াকে যারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল তারাই কি এখন তারেক জিয়ার প্রিয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ?
বাস্তবতা অন্যরকম হলে বার ভাতারি শাওন এখনও জেলের বাইরে থাকার কথা না। চৈতালি নামের নর্দমার কীট রাষ্ট্রের অখণ্ডতা নিয়ে কথা বলে কোন খুঁটির জোরে এখনও এ দেশের মাটিতে হাঁটতে পারে তার জবাব তারেক জিয়াকেই দিতে হবে।
আওয়ামী লীগ ও রাজনৈতিক দল না, এটি একটি অর্গেনাইজড ক্রাইম সিন্ডিকেট। একদল রক্তপিপাসু হায়েনার সমাবেশের অপর নাম আওয়ামী লীগ। এদের দৌড়ের উপর না রেখে আলগা দড়ি দিয়ে টানলে মার মত সন্তান তারেক জিয়াকেও তারা খেয়ে ফেলবে।