আওয়ামী লীগের ফেলে যাওয়া রোডম্যাপেই কি বিএনপি লম্বা সময় ধরে ক্ষমতায় টিকে থাকার পরিকল্পনা করছে? যদি তাই হয় দল হিসাবে বিএনপি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করবে কোন গ্রাউন্ডে? আমরা যারা দেশীয় রাজনীতির অলিগলির সাথে পরিচিত নই তারা কি আওয়ামী লীগকে তার সাইনবোর্ডের জন্যে বছরের পর বছর ধরে সমালোচনা করেছি , নাকি দলের ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডের জন্যে? তেমনি এক কর্মের অংশ ছিল প্রকাশ্য দিবালোকে কাউকে তুলে নিয়ে গুম করে ফেলা, ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা , অথবা সরকারী হেফাজতে বর্বরোচিত নির্যাতন করা। আজকে যে সব আওয়ামী রাঘব-বোয়াল জেলখানার চার-দেয়ালে বসে লম্বা সময় জেলটার্মের প্রহর গুনছেন তাদের আমলনামাও কলুষিত এসব অপরাধে।
২০২৪'এর আগস্ট আওয়ামী অন্যায়, অবিচার, অনাচারের কিছুটা হলেও লাগাম টানার মাইলস্টোন হওয়ার কথা ছিল। ইন্টেরিমের অনেক ব্যর্থতা ছিল যা নিয়ে সমালোচনা করা যায়, তবে তাদের দেড় বছরের শাসনে কাউকে তুলে নিয়ে গুম অথবা থানা-হাজতে নির্যাতন করে মেরে ফেলার উদাহরণ নেই আমাদের সামনে। কয়েক শত আন্দোলন হয়েছে প্রফেসর ইউনুসের সরকারী বাসভবন যমুনার সামনে। হরেক রকমের উস্কানি দিয়ে চেষ্টা হয়েছে ভায়োলেন্স জেনারেট করার জন্যে। কিন্তু সরকার ঐ ফাঁদে পা দেয়নি।
গেল এক সপ্তাহে অন্তত ৩ জন জলজ্যান্ত মানুষকে উঠিয়ে এনে
দিনশেষে পুলিশ তাদের লাশ ফেরত দিয়েছে। হাজার সাফাই গাইলেও আমরা জানি কি ঘটেছিল পুলিশ হেফাজতে। এসব কাহিনীর সাথে আমাদের পরিচয় অনেক দিনের। মামলার ধারাবাহিকতা হিসাবে পুলিশ গ্রেফতার করে আসামীকে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক নির্যাতন করে যার আসল আউটকাম আমাদের সবার জানা। উর্দিওয়ালাদের জন্যে আসামীর অপরাধ মুখ্য বিষয় না, মুখ্য হচ্ছে অবৈধ অর্থ লেনাদেনার মাধ্যমে বন্দী বাণিজ্য সাকসেসফুলই সমাধা করা। কেবল এই এক কারণে ওরা নিজেদের চৌহদ্দিতে ধরে এনে মানুষকে পিটায়। তাদের জন্যে দল, কাল, সময়, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য থাকে এক ও অভিন্ন, নির্যাতনের মাধ্যমে নিজেদের পকেট ভারি করা।
গণভোটের রায় বিএনপির জন্যে কেন গ্রহণযোগ্য না তার অনেক কারণের একটা হতে পারে আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট পুলিশের রেখে যাওয়া পথে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে ক্ষমতা নদীতে সাঁতার কাটা।
ক্ষমতা যে চিরস্থায়ী হয়না তা বিএনপির চাইতে ভাল কেউ না জানারই কথা। অপরাধ করলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার শাস্তি হবে এটাই আইন। এ আইনের দ্বিতীয় কোন ব্যাখ্যা নেই। এ আইন ইউনিভার্সাল। জ্যান্ত কাউকে ধরে এনে পুলিশ তাকে লাশ বানিয়ে ফেরত দিবে তা কোন কালেই মেনে নেয়া সম্ভব হবেনা। হোক ভিক্টিম আওয়ামী লীগের মত মার্কামারা সন্ত্রাসী দলের কেউ।