মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বেনজীর আহমেদ। বলা হচ্ছে ইন্টারপোলের দেয়া রেড এলার্টকে ট্রেক করে স্থানীয় পুলিশ আইনের আওতায় এনেছে পলাতক এই অতিমানবকে। ঐ দেশের কোন আইন ভঙ্গ করেছেন কিনা তার কোন তথ্য নেই আমাদের কাছে, আমাদের মিডিয়াও তেমন কিছু বলছেনা। স্বভাবতই আমরা ধরে নেব ইন্টেরিমের দেয়া রেড এলার্টের ভিত্তিতে ইন্টারপোলই কাজটা করেছে। আমার খটকাটা এখানেই!
মধ্যপ্রাচ্যের এই শহরকে বলা হয় অপরাধ ও অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার অভয়ারণ্য। পৃথিবীর হরেক রকম দেশের ক্ষমতাসীন রাজা, বাদশাহ, শাসক স্বৈরশাসক, আমলা সহ হাজার হাজার খুনি, লম্পট, লুটেরা নিজ নিজ দেশ হতে পালিয়ে এসে নিরাপদে বাস করে থাকে এই শহরে। তাদের জন্যে ভোগের সবরকম সামগ্রী নিশ্চিত করা আছে এই খেলাফতে। পালিয়ে আসার সময় সাথে নিয়ে আসা অঢেল সম্পদই হচ্ছে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এক অর্থে দেশ-বিদেশের অবৈধ পুঁজি বিনিয়োগের 'গর্ব' নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বুরুজ খলিফার চূড়া।
এমন একটা শহরের এই 'সুখ্যাতি' বাংলাদেশের মত দেশের একটা অনুরোধে স্থানীয় প্রশাসন ভূলুণ্ঠিত করে ফেলবে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। কেন জানি মনে হচ্ছে বেনজীর কিছু একটা করেছিলেন ঐ দেশে যার মূল্য দিচ্ছেন জেল টার্মে।
সংবিধান উদ্দিনের সংসদ বলছে এক কালের আইজিপি, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসেস শুরু হয়েছে। এবং ফিরিয়ে আনার পর তাকে কাঠগড়ায় তোলা হবে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। আমিরাতের সাথে কি বাংলাদেশের এক্সট্রাডিকশন চুক্তি আছে? থাকলে ভাল, না থাকলে কিসের ভিত্তিতে বেনজীরকে হস্তান্তর করবে তার কোন বিস্তারিত দেননি জনাব সংবিধান উদ্দিন।
ধরে নিলাম ফিরিয়ে আনা হলো বেনজরীকে। তারপর?
ইতিহাস সাক্ষী দেবে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত উঁচু পদের কোন পুলিশ অফিসারকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে আদালত বিচার করতে পারেনি। বিচার করলেও প্রাপ্য শাস্তি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়নি। এ তালিকায় আরও আনা যাবে দেশের সেনাবাহিনীকে। নারায়ণগঞ্জ ৭ খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত র্যাবের এক অফিসার আজও জেলখানায় এসি, রঙ্গিন টিভি সহ বিলাসী দিন কাটাচ্ছেন। ওসি প্রদীপ কুমার দাসও মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামী অথচ রায় কার্যকর করার নূন্যতম অগ্রগতি দেখা যাচ্ছেনা। কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনুর হত্যায় জড়িত সেনাবাহিনীর নিচু র্যাংকের এক হাবিলদারকে গ্রেফতার করতে সময় লেগেছে ১০ বছর।
সব বিবেচনায় বলা যায় বেনজীরকে দেশে আনা সম্ভব হলে বছরের পর বছর ধরে জেলখানায় ভিআইপি মর্যাদায় লালন পালন করা হবে। বিচার ও শাস্তি পর্ব আলোর মুখ দেখার আগেই হয়ত নতুন কোন সরকার ক্ষমতায় এসে ফিরিয়ে দেবে তার হারানো 'গৌরব'। সাথে দেবে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজত্ব।
দুবাই অপরাধের শাস্তি বেনজীরকে দুবাইয়েই ভোগ করতে দেয়া উচিত, দেশে ফিরিয়ে আনা হবে তার জন্যে বিশাল এক বিজয়। কারণ তার অর্থ আছে। অর্থ দিয়ে আমাদের দেশে আইন, আদালত, মিডিয়া সহ সবকিছু ও সবাইকে কেনা ডাল-ভাত। এস আলমের মত তাকেও সেবা দেয়ার জন্যে দাঁড়িয়ে যাবে সংবিধান উদ্দিনের মত আরও অনেকে।