দলীয় পরিচয়ের উপর নির্ভর করবে আপনার বিশ্বাস অবিশ্বাস। আওয়ামী ঘরনার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আওড়ানোদের কেউ হলে আপনি বলবেন এসব ঢাহা মিথ্যা। বিএনপি ঘরনার হলে মুখে বলবেন একটা আর অন্তরে ভয় লালন করবেন এই ভেবে, আমার নেতাও যদি এমন খবরের হেডলাইনে আসেন!
বাস্তবতা হচ্ছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাংলাদেশ লুণ্ঠনের খবরে নতুনত্ব কিছু নেই। মা'র ক্ষমতায়নের ঊষালগ্নে দ্বিতীয় বিয়ে করে আমেরিকায় স্থায়ী হওয়ার অল্প কিছুদিনের ভেতর নামের পাশে যোগ করেন ৭টা বাড়ি। ফ্লোরিডার বিলাসবহুল এলাকা হতে শুরু করে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের দামি এলাকায় এসব বাড়ির বাজার মূল্য তখনই ছিল আকাশচুম্বী। আমেরিকায় বাড়ির মালিকানা পরখ করা খুব সোজা। নূন্যতম একটা ফির বিনিময়ে একাধিক সাইট এসব তথ্য বিক্রি করে থাকে। আমার নিজেরও সৌভাগ্য হয়েছিল একবার ঐখানটায় ঘুরে আসার।
আমেরিকায় বাড়ি কেনা জটিল কোন সমস্যা না। স্থায়ী ও মিডিয়াম আয়ের একটা চাকরি থাকলে ব্যাংক লোণ দেয় এবং লোণ দিয়ে অনেক কিছুই কেনা যায়। বাড়ি তার অন্যতম। সজীব ওয়াজেদ জয়ের বেলায় সমস্যা হচ্ছে তিনি আমেরিকায় কোনদিন কোন চাকরি করেননি। ছাত্রাবস্থায় ইউনিভার্সিটির ল্যাবে কাজই ছিল ক্যারিয়ারের একমাত্র কাজ। এ ধরণের কাজ ছাত্রজীবনের আমেরিকায় সবাই করে থাকে। নূন্যতম মজুরিতে সপ্তাহে ১৫/২০ ঘণ্টার কাজ এক কথায় লেখা-পড়ারই অংশ।
হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মধুমাস শুরু হয় দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার মিশন সম্পন্ন করার পর। একদিকে নিজ মাতার আইসিটি উপদেষ্টা বনে মাসে দেড় লাখ ডলারের বেতনের পাশাপাশি সামিট ও এস আলম গ্রুপের পর্দার অন্তরালের প্রতিষ্ঠাতা মালিক বনে কামান হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য কমিশন।
আমেরিকায় বিয়ে স্থায়ী হয়না। বিয়ে যেন হয়ই ভাঙ্গার জন্যে, এমনটাই ওখানকার বাস্তবতা। সজীব জয়ের ২য় বিয়েও স্থায়ী হয়নি। অধুনা বিশ্বের কনটেক্সটে এটা কোন খবর না। বিয়ে ভাঙ্গার জোয়ারে বাংলাদেশের মত রক্ষণশীল দেশও এখন তলিয়ে যাচ্ছে। তবে জয়ের বিয়ে ভাঙ্গার খবরের পরের খবরই হচ্ছে আসল খবর।
কাতার ভিত্তিক আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের তথ্যে জানা গেছে তালাকের স্যাটেলমেন্ট হিসাবে জয় তার স্ত্রী ক্রিস্টিনাকে মাসে ২০ হাজার অর্থাৎ বছরে ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার আলুমেনি হিসাবে দিতে রাজি হয়েছেন। এ অংক ১০ বছর পর্যন্ত পরিশোধ করতে হবে। এক কালীন অংক হিসাবে ইতিমধ্যে ১০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছেন। ২২ পাতার তালাকনামার ২ পাতা প্রকাশ করেছেন আল জাজিরার এই সাংবাদিক।
এখানে অনেকের মনেই প্রশ্ন জন্ম দেবে এত টাকা কোথায় পাবেন ক্ষমতা হারানো পলাতক প্রধানমন্ত্রীর এই ছাওয়াল?
তারও সমাধান দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ নামের যে প্রতিষ্ঠান আছে আর একটা অংশের মালিক আমাদের যুবরাজ। এস আলমের অঘোষিত মালিকানার প্রসঙ্গ অনেক আগ হতে বাজারে চালু আছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সিঙ্গাপুরে শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকায় আছেন বাংলাদেশের সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য-বিষয়ক সাময়িকী ফোর্বস প্রকাশিত ২০২৪ সালের ধনকুবের (বিলিয়নিয়ার) তালিকায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ফোর্বস জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সারিতেই আছেন মুহাম্মদ আজিজ খান। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের ৪১তম শীর্ষ ধনী তিনি। তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। জ্বালানি খাত থেকেই তিনি এ বিপুল সম্পদ আয় করেছেন বলে জানানো হয়েছে সেখানে।
ফোর্বস বলছে, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়া আজিজ খান এখন সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। বাংলাদেশের একটি শীর্ষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের কর্ণধার ৬৮ বছর বয়সী আজিজ খান। সামিট গ্রুপ বিদ্যুৎ, বন্দর, ফাইবার অপটিকস, আবাসন ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে কাজ করে।
সামিট কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফরিদ খান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও তৎকালীন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খানের ছোট ভাই। ফরিদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আবুধাবি-ভিত্তিক কোম্পানি গ্লোবাল এনার্জিকে সামিটের যে শেয়ার দেয়া হয়েছে, তার শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে একজন হলেন আদিবা আজিজ খান, যিনি ফরিদের বড় ভাই সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খানের মেয়ে।
এবং এখানেই লুকিয়ে আছে সজীব ওয়াজেদের গুপ্তধনের সিসিম ফাঁক মন্ত্র। আদিবা আজিজ এখন জয়ের গার্ল-ফ্রেন্ড। অনেকে বলছেন তারা বিবাহিত। এবং এ পর্যন্ত আসার জন্যে জয় ক্ষমতার শুরু হতেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সামিট গ্রুপকে যত রকমের অবৈধ সুবিধা দেয়া সম্ভব সবই দিয়ে এসেছেন তিনি। এ নিয়ে মার সাথে পুত্রের মনোমালিন্যের খবরও শোনা গেছে।
হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যু নিয়ে অনেকেই এখন বেজায় ক্ষুব্ধ। তার উপর আছে আমেরিকার সাথে কথিত দেশ-বিক্রির চুক্তি। বাংলাদেশের গেল ৫৫ বছরে যা কিছু ঘটেছে অনেকের তালিকায় সবার শীর্ষে এই দুই খবর। এসব খবরে মাঝে একজন রাজপুত্রের রাজকীয় কায়-কারবার অনেকের কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হবে। বিশেষকরে যারা আওয়ামী মায়াজালে আটকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাথে দিনরাত সহবাস করছেন।
দেশে ভয়াবহ লুটপাট হয়েছে। মাদার টোস্ট শেখ পরিবার তার দলবল নিয়ে ১৭ বছর দেশের প্রতিটা সেক্টরকে চেটেপুটে খেয়েছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। বিত্ত-বৈভব গড়েছে পৃথিবীর দেশে দেশে। মদ মেয়ে মানুষ নিয়ে ফুর্তি করেছে। সিঙ্গাপুর, দুবাইয়ে ব্যবসা ফেঁদে ধনীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এখান তারা ও তাদের ভাতারের দল সোদাইতে আসে মানবতার কান্না নিয়ে। See less