বিদেশে দেশী রাজনীতি!

Submitted by WatchDog on Sunday, August 16, 2026

আমাদের বাসার সামনের সরকারী হাসপাতালটা তখনও চার দেয়ালের ভেতর বন্দী হয়নি। মেইন রোডের উপর ছোট ছোট মাঠগুলোও উন্মুক্ত।
বিষ্যুত ও শুক্কুর বার ওখানে হরেক রকমে মানুষের মেলা জমতো। দূর দূরান্ত হতে বিক্রেতারা তাদের পণ্য বিক্রির হাট বসাতো। আসামের পাহাড় হতে আনা সেলাজুৎ, ৮০ বছরের বৃদ্ধকে তরুণ বানানোর তাবিজ, অবিবাহিত মেয়েকে বিয়ে দেয়ার তাবিজ সহ হাজার রকম অসুখ-বিসুখের দাওয়াইয়াতে জমজমাট থাকতো এসব আসর। শুক্কুর বার শহরে হাটের দিন। হাট ফেরত অনেকে কিছু সময়ের জন্যে বিশ্রাম নিত এখানে। ক্লান্তি দূর করার জন্যে যথেষ্ট উপাদান থাকতো বিক্রেতাদের ঝুলিতে।

ছয় বছর আমেরিকার মেগা শহর নিউ ইয়র্কের বাঙালি পাড়া খ্যাত জ্যাক্সন হাইটসের কাছাকাছি বাস করার সুবাদে এমন অনেক কিছুর সাক্ষী হয়েছি যা কৈশোরের দিনগুলিতে বাড়ির সামনে রুস্তমের তাবিজ বিক্রির জমজমাট আসরের স্মৃতি মনে করিয়ে দিত।

বাংলাদেশ হতে অমুক দলের শাহী নেতা এসেছেন আমেরিকায়। খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাণী নিয়ে এসেছেন দেশ হতে। নেতার খায়েশ এসব কথা জনসভা করে দলের স্থানীয় মুরিদানের সামনে প্রকাশ করবেন। আমার সময়ে খোলা মাঠে না হলেও স্থানীয় বাংলাদেশি রেস্তোরাগুলোতে আয়োজন করা হত দলীয় সভা। ওখানে নেতা জ্বালাময়ী ভাষণ দিতেন। সামনের বসা মুরিদানের দল আবেগে উদ্বেলিত হয়ে ফেটে পরতো আনন্দে উল্লাসে অথবা ঘৃণায়। এসব আয়োজন ছিল দেশীয় রাজনীতির মিনি ভার্সন। অনেকটা তাবিজ বিক্রেতা রুস্তমের তাবিজ বিক্রির মত নেতারাও দলীয় মন্ত্রে উজ্জীবিত তাবিজ বিক্রি করতেন।

বিদেশে কেন বাংলাদেশের এই দলিত মথিত দুর্গন্ধময় দলীয় রাজনীতির? কাদের জন্যে ও কি উদ্দেশ্যে এসব সার্কাসের আয়োজন তা জানতে কিছুটা গভীরে প্রবেশ করলে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ কিছু তথ্য।
নেতা নেত্রীরা লুটের পয়সায় আমেরিকা আসেন ওখানে বসবাসরত নিজ সন্তানদের সাথে দেখা ও তাদের আর্থিক চ্যানেল মসৃণ রাখার মিশনে। এসব মিশনে ওনারা বিক্রেতা আর আমার মত ম্যঙ্গোরা ক্রেতা। দেশ হতে নেত্রীর দেয়া ঝাড়-ফুক তাবিজ এখানে নিয়ে আসেন বিক্রির জন্যে। এসব মিশনের অন্যতম সহযোগী কম্পোনেন্ট হচ্ছে স্থানীয় নেতা কর্মীরা। নেতা আঙ্গুল উঁচিয়ে গলার স্বর হাই নোটে নিয়ে জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। সামনে বসা শ্রোতারা ছাগলের ৩নং বাচ্চা বনে তালিয়া বাজান।

সভা শেষ, এবার নেতার বিদায়ের পালা। বিদায়ের আগে আমেরিকা জয় করা নেতার সাথে ছবি তোলার হিড়িক পরে যায়। একটু কাছে আসা, সুনজরে আসা, হাতের ছোঁয়া পেয়ে ধন্য হওয়ার প্রতিযোগিতা পরে যায়। এখানেও একেক জন একেক উদ্দেশ্যে এসব করে থাকেন। স্থানীয় নেতাদের উদ্দেশ্য দলীয় পদের সিঁড়ি বেয়ে আরও উপরে উঠা। ছাগলের ৩নং বাচ্চাদের উদ্দেশ্য এত বড় নেতার খুব কাছে এসে জীবন ধন্য করা।
খোদ নেতার উদ্দেশ্য অবশ্য বহুমুখী।

প্রথমত, জেএফকে এয়ারপোর্টে পা রাখার পর হতে বাকি সময়ের জন্যে নিজ পকেট হতে পয়সা খরচ না করা। দ্বিতীয়ত, মানি ট্রান্সফার। হিসাবটা খুব সোজা, ঐ দেশে বসবাসরত নেতার সন্তানদের ডলার দেয় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা যা বাংলাদেশে টাকায় পরিশোধ করার অঙ্গিকার করেন ভিজিটিং নেতা। ডলার ঠিকই নেন কিন্তু দেশে আর টাকা জমা করেন না নেতা। এ সমস্যা নিয়ে কথা বলার সাহস থাকেনা কারও কারণ দলীয় পদ হারানোর ভয়।

ব্রুকলিনে আওয়ামী বিএনপি মারামারি করছে ভিডিওতে। এক পক্ষ ঐ দেশে শামীম ওসমানের আগমনকে উৎযাপন করছে, অন্য পক্ষ এর বিরোধিতা করতে গিয়ে বাদাম (সিলেটি শব্দ) দেয়ার চেষ্টা করছে।
আপনি যদি তৃতীয় নয়ন নিয়ে ঘটনাকে অবলোকন করেন মনে হবে একদল বানর কলার ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের ভেতর মারামারি করছে।
এন্টারটেইনমেন্টের মনোভাব নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলে আপনি উপভোগের যথেষ্ট রসদ পাবেন।

হোয়াট দ্যা ফা*ক আমেরিকায় বাংলাদেশি রাজনীতি? এ দেশে দুই পার্টি সিস্টেম চালু আছে। বাংলাদেশি বিএনপি, আওয়ামী অথবা জামাতি পার্টির শাখা খুললে এসব রাজনীতির আমেরিকান বেনিফিটটা কোথায়? বোনকে বউ বানিয়ে, মাকে শাশুড়ি বানিয়ে হাজার রকম ছল-চাতুরীর পর এ দেশে স্থায়ী হওয়ার পর একজন খেটে খাওয়া বাংলাদেশিকে কেনই-বা শামীম ওসমান অথবা শহীদ উদ্দিন এনিদের সেবা করতে হবে?

- এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের রক্তে। আমরা বিদেশে পাড়ি জমালেও রক্ত কিন্তু বদলায় না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দৈনিক ১০-১৫ ঘণ্টা কাজ শেষে ক্লান্ত শ্রান্ত একজন বাংলাদেশি ঘরে ফিরে বনে যায় হয় আওয়ামী অথবা বিএনপি সমর্থক। অথচ রাজনীতির এ ক্যান্সার হতে মুক্তি পাওয়ার আশায়ই কিন্তু মা-বাবা তাদের শেষ পয়সা খরচ করে সন্তানদের বিদেশ পাঠায়।

শামীম ওসমান সহ হাজার হাজার আওয়ামী নেতারা আয়-রোজগারের কোন অর্থ দিয়ে ইউরোপ আমেরিকা ঘুরে বেড়াচ্ছেন সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়াটা জরুরি। এখানে এসে তিনি কি বলছেন আর বলছেন না, তা মুখ্য হতে পারেনা। আমেরিকায় এসে ভাষণ দিলে তার প্রতিবাদে রাস্তায় মববাজি করতে হবে এ সংস্কৃতি আমেরিকান সংস্কৃতি না। নিউ ইয়র্ক পুলিশের চোখ-কান খোলা আছে। ওরা দেখছে এবং প্রয়োজনে আটকে ফেলবে এন্টিআমেরিকান এলিমেন্ট এসব রাজনীতিবিদদের। তখন আম-ছালা দুটো গেলে নেতারা কিন্তু এগিয়ে আসবেন না
https://www.facebook.com/mahmudsohel/videos/2239459673511365

ভালো লাগলে শেয়ার করুন