'আই হ্যাভ এ প্লান'...

Submitted by WatchDog on Saturday, August 1, 2026

বাংলায় একটা কথা আছে, কুত্তার পেটে ঘি সয়না...। কুত্তা মানে কুকুর, হোক তা রাস্তার অথবা গৃহপালিত আসলেই তারা ঘি খায় কিনা এবং খেলে তার রিএকশ্যান কি হয় তা কেউ গবেষণা করে দেখেছে কিনা জানা নেই। তবে আন্দাজ করা যায় কুকুরদের পেট ঘি'এর মত হাই ক্যালোরির আহার (!) হজম করার জন্যে যথেষ্ট না। এ জন্যেই কুকুর কুল হয়ত ঘি'য়ের চাইতে হাড্ডি বেশি পছন্দ করে।

এনালগিটা রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপির সাথে খাপে খাপে মিলে যায়। এই দলের পেটেও ক্ষমতা হজম হয়না। ক্ষমতায় গেলে ওখান হতে কত দ্রুত বিদায় নেয়া যায় তার প্রতিযোগিতায় নেমে পরে তারা।

আমার এলাকার এক বিএনপি নেতাকে চিনি যাকে আওয়ামী পুলিশ বাড়ি হতে মল-মূত্র ত্যাগের মাঝপথ হতে উঠিয়ে নিয়েছিল। গাড়িতে উঠে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন প্রকৃতি ডাকের অসমাপ্ত কাজটা সমাপ্ত করতে। ফলাফল ভাল হয়নি। আসমান জমিন উলট পালট করা মাইর আর স্বহস্তে নিজের মল-মূত্র পরিষ্কার করার মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়েছিল এর মূল্য।

পাট ক্ষেত আর ধান ক্ষেতে অনেক নিদ্রাহীন রাত কাটানোর পর দিন ফিরেছে এই নেতার। স্থানীয় বিএনপির সে এখন ডাকসাইটে নেতা। চান্দার সাথে মধুচন্দ্রিমা করছেন । শুনছি ইতিমধ্যে নতুন বাড়িতে উঠেছেন এবং সেখানে হাই-কমোড টয়লেটে বসে মল-মূত্র ত্যাগ করছেন। আশাকরি দলীয় প্রধানের বাড়ির মত তার বাড়িতেও আন্ডারগ্রাউন্ড সুরঙ্গের ব্যবস্থা আছে যা দিয়ে আপদ-কালীন সময়ে নিরাপদে পালানো সম্ভব হবে।

ক্ষমতায় বসে তা লম্বা করার ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে নিজ ঘরনার প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বানানোর মূল্য দিয়েছিল বিএনপি। হাওয়া ভবন, খাম্বা মামুন আর মাগুরা নির্বাচনের জবাব জনগণ কিভাবে দিয়েছিল তা ভুলে যাওয়ার কথা না তাদের। খোদ তারেক জিয়াকে সিলিংয়ে ঝুলিয়ে আধমরা বানিয়েছিল সেনা ছাউনির উর্দি পরা জেনারেলরা। এবং এই সেই ছাউনি যার চার দেয়ালের ভেতর জন্ম হয়েছিল এই দলের।

হাওয়া হতে পাওয়া ক্ষমতা অনেকটা কুত্তার পেটে ঘি হজম না হওয়ার মত হজম করতে পারছেনা বিএনপি। জনৈক নেতার পুলিশের গাড়িতে মল-মূত্র ত্যাগের মত এই দলও যত্রতত্র বর্জ্য ত্যাগ করছে। এনসিপি নেতাদের উপর দেশব্যাপী অল-আউট আক্রমণ তাদের ক্ষমতা বদহজমেরই করুণ চিত্র।

সেনা-ছাউনিতে জন্ম হয়নি এনসিপির যেমনটা হয়েছিল বিএনপির। তাদের জন্ম রাজপথে। রক্তাক্ত অধ্যায়ের সফল সমাপ্তির পর একদল তরুণ জন্ম দিয়েছিল এই দলের। জন্মলগ্নে তাদের ব্যাগেজে চান্দা আব্বাসের মত কোন মেগা চান্দাবাজ ছিলনা যার অর্থে প্রফেশনাল রাজনীতিবিদদের দলে টানা সম্ভব ছিল। এ দলের জন্ম ইউনুস মাস্টারের সূতিকাগারে হয়নি যেমনটা অনেকে দাবি করেন, বরং তারাই জন্ম দিয়েছিল সরকার প্রধান ইউনুস মাস্টারকে। আমার মত অনেকেই মনে করেছিল নির্বাচনে শক্তিশালী গ্রাউন্ড না পেয়ে নিশ্চয় এই দল বিলীন হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছেনা। ধীরে হলেও ধারাবাহিকভাবে উঠে আসছে তারা। হাজার ভুল-ভ্রান্তি মাঝেও তারা কেবল টিকে নেই, বরং রাজনীতির মাঠ শক্ত করছে।

রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগ এখন মৃত। এবং সহসাই এ দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা একেবারেই শূন্য। দল হিসাবে জামায়েতই ইসলাম কোনদিনই নিজের গা হয়ে স্বাধীনতা বিরোধী তকমা ঝেড়ে ফেলতে পারবেনা। এই দলের গ্রহণযোগ্যতা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মাঝে সীমাবদ্ধ আছে এবং থেকে যাবে। দেশের বাম রাজনীতির সন্ধান করতে আমাদের এখন গোরস্তানে যেতে হবে। রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের এই শূন্যতা কাউকে না কাউকে পূরণ করতে হবে, যা না করতে পারলে আওয়ামী লীগের মত নির্মম নতুন এক ফ্যাসিবাদের জন্ম দেবে। তাহলে এনসিপি কি হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল? সময়ই এর জবাব দেবে। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে খোদ বিএনপি এমনটাই মনে করতে শুরু করেছে।

সব বিবেচনায় বলা যায় বিএনপি এখন একা। তাদের সাথে নেই দেশের মেইনষ্ট্রীম মিডিয়া। স্বীকৃত বুদ্ধিজীবীদের প্রায় সবাই এখনও ঘোরে আছে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার স্বপ্নে। দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গন চষে বেড়াচ্ছে আওয়ামী জরায়ুতে জন্ম নেয়া কালচারাল ফ্যাসিবাদ। ওখানেও বিএনপি অল-আউট এতিম। তাহলে কেন এনসিপির গায়ে হাত তুলে নতুন নতুন শত্রু জন্ম দেয়া? - এর উত্তর বোধহয় কেবল
তারেক জিয়ারই জানা আছে।

মনে আছে ১৭ বছরে বিদেশে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরে বিএনপি নেতা তারেক জিয়ার সেই ঐতিহাসিক উক্তি? অনেকটা মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং'য়ের কায়দায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ...আই হ্যাভ এ প্লান...।

ধীরে ধীর উন্মোচিত হচ্ছে সে প্ল্যান। সেখানে সবকিছু 'যাহা ছয় তাহাই নয়', নতুন কিছু নেই। আওয়ামীকে রিপ্লেস করে বিএনপিকে বসিয়ে লম্বা সময় ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা, এটাই হচ্ছে জুনিয়র জিয়ার গুপ্ত প্লান।
দেশে বৈপ্লবিক কিছু পরিবর্তন করতে চাই মেধা ও মনন। দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে জিয়া পরিবারের উত্তরসূরি জনাব তারেক জিয়ার তার কোনটাই নেই। তিনি দলীয় ও সরকার প্রধান হয়েছেন জেনারেল জিয়া ও খালেদা জিয়ার সন্তান হিসাবে। তিনি এখন যে পথে হাঁটছেন তা কেবল তাকে লন্ডনের রাজপথে লাল দোতলা বাসের অপেক্ষায় থাকা সময়ের দিকেই নিয়ে যাবে।

কথায় বলে বন্যরা বনে সুন্দর...আসলে তারেক জিয়া ও তার পরিবারকে লন্ডনের গ্রোসভেনারেরই সুন্দর মানায়।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন