পচা কাঁঠালের পচা খদ্দের...

Submitted by WatchDog on Tuesday, August 11, 2026

আমাদের এলাকার অনেক জায়গায় গ্রোসারী স্টোরকে বলা হয় বাজে মালের দোকান। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রকে কেন বাজে মাল হিসাবে গণ্য হবে এর কোন ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নেই। তবে 'বাজে মাল' শব্দ দুটো যে খুবই জোরালো ভাবে দোকানের আইডেন্টিটিটি উপস্থাপন করে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এসব স্টোর মুদি দোকান হিসাবেও পরিচিত বাংলাদেশের অনেক কোনায়।

ফাও আলাপ শেষকরে আসুন আসল আলাপে আসি!!!
নবনীতা চৌধুরী আমার পছন্দের একজন চৌধুরানী। তেনার একসাথে অনেক গুন। সাংবাদিক কাম গায়ক লেখক সহ আরও অনেক কিছু। গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। আওয়ামী আমলে বেশ কায়দা করে নিজের দলীয় পরিচয়কে আড়াল করতে পেরেছিলেন। হয়ত এ কারণেই মাঝে মধ্যে ভদ্রমহিলার উপস্থাপনার অনুষ্ঠানগুলো দেখতাম। ২৪'শের জুলাই পরিবর্তনের পর বায়তুল মোকাররমের খতিবের মত এই চৌধুরানীর পলায়নটাও ছিল আমার জন্য বিশাল এক বিস্ময়। তবে এ বিস্ময় খুব একটা লম্বা হয়নি। তিনি নিজেই সামনে এসে তা পরিষ্কার করেছেন।

পায়ের উপর শাড়ি উঠিয়ে কোমরে গোছা মেরে তিনি মাঠে নেমেছেন। হাতে ঝাড়ু নিয়ে দিনরাত দেশীয় রাজনীতিকে ধাওয়া দিচ্ছেন। এমন ধাওয়াই দিচ্ছেন যার ভয়ে আমার মত মগজহীন ম্যাঙ্গো পর্যন্ত পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন টাইম লাইনের এই মহিলার চেহারা দেখা মাত্র কত দ্রুত তা বিদায় করা যায় তার প্রতিযোগিতায় নেমে পরি।

তবে আজকে দেয়া জনাবা চৌধুরীর দেয়া একটা পোষ্টকে বরাবরের মত এড়ানো সম্ভব হলোনা। কারণ একাধিক। প্রথমত এটা ওনার নিজের বক্তব্য না, অন্য একজনের পোষ্ট শেয়ার করেছেন। দ্বিতীয়ত, পোষ্টের সারমর্মে কোথায় যেন শার্লক হোমসের রহস্য উৎঘাটনের মত উৎঘাটনের গন্ধ ছিল। আমি নিজে আর্থার কোনান ডোয়েলের লেখার ভক্ত, তাই নবনীতা চৌধুরীর এ পোষ্টে না থমকাতে পারলাম না।

এবার আসি পোষ্টের আসল মালিকের দিকে। নাম তার সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী।

সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী সিলেটের সন্তান। সাংবাদিক ও সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ব্লিটজ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলা সাপ্তাহিক জামজামাতের সম্পাদক-ইন-চিফ। তাঁর পত্রিকায় জিহাদ বিরোধী মন্তব্য এবং ইসরায়েল ও ইসলামি বিশ্বের মধ্যে আন্তঃ-সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া তৈরির জন্য মোসাদের সাথে কাজ করার অভিযোগে তিনি তিনবার শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন।
জনাব চৌধুরী বিমানবন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল হানিফের দায়ের করা মামলায় মোসাদ এজেন্ট হওয়ার অভিযোগে ২০০৩ সালে গ্রেফতার হন। তাঁর কাছে ইসরায়েলের কাছে তিনটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের জন্য ১২ কোটি টাকা সাহায্যের আবেদনের প্রজেক্ট প্রোফাইল পাওয়া যায়। তিনি বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৫০৫(এ) ধারায় দণ্ডিত হন এবং ২০১৪ সালে চার বছরের কারাদণ্ড পান।

এবার আসুন দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানোর চেষ্টা করি।
নবনীতা চৌধুরীর মুখ হতে ইদানীং যে সব বমি বের হয় তার সাথে ইসরায়েলের কাছে ৪ কোটি টাকা সাহায্য চাওয়ার সাংবাদিকের সাংবাদিকতা কোথায় যেন মিলে যায়। দুজনকেই এ মুহূর্তে অত্যন্ত নিচু শ্রেণীর দুজন বাংলাদেশি ধান্ধা-বাজ বলে মনে হবে। লক্ষ্য করবেন দুজনেই কিন্তু চৌধুরী।

শোয়েব চৌধুরীর লেখার প্রতিপাদ্য হচ্ছে; আজকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বাবু দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক জিয়ার সাথে দেখা করতে তার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। এবং দুই চৌধুরীর বিচারে এ দেখা ছিল মূলত ভারত সরকারের দেয়া কিছু আল্টিমেটাম বাংলাদেশের সরকার প্রধানের হাতে পৌঁছে দেয়া। এসব আল্টিমেটাম মানলেই নাকি ভারত সরকার তারেক জিয়াকে ঐ দেশ সফর করার অনুমতি দেবে।
এবার আসুন দুই চৌধুরীর যৌথ প্রযোজনায় প্রসবিত ভারতীয় শর্তগুলোর দিকে চোখ ফেরাই:
- বাংলাদেশে অর্ন্তভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে
- আওয়ামী লীগের উপর আরোপিত রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে
- বাংলাদেশের ভেতর থাকা পাকিস্তানি জঙ্গি ঘাটি ভেঙ্গে দিতে হবে

সব বিবেচনায় বলা যায় বাজেমাল দোকানের এই দুই প্রোডাক্ট তাদের এক্সপারেশন ডেট পার করে ফেলেছে। তাই ডাস্টবিন হতে পারে তাদের উত্তম আশ্রয়। কথায় বলেনা পচা কাঠালের পচা খদ্দের! তো এখানে এক চৌধুরী যদি হয় পচা কাঁঠাল অন্য চৌধুরী তার পচা খদ্দের!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন