দেশের সাথে যোগাযোগ নেই বললেই চলে। আসলে মা-বাবা না থাকলে শিকড় এমনিতেই উপড়ে যায়। কোন পিছু টান থাকেনা।
তারপরও আজ অনেকদিন পর কথা বললাম। ঠিক বুঝতে অসুবিধা হলো আসলে হচ্ছেটা কি ওখানে? এমনিতেই আমাদের বিশাল বাড়িটায় থাকার মত তেমন কেউ নেই। রাত নামলে ভুতুড়ে দেখায়। আজ নাকি এগার দিন বাসায় বিদ্যুৎ নেই। কোন ফাঁকে আসে আর কখন যায় কেউ বলতে পারেনা। ছোটবেলায় দেখতাম পাড়ায় আমাদের বাড়ি সহ আরও ৪/৫টা বাড়িতে বিদ্যুৎ আছে কেবল। বাকি সব বাড়িতে কেরোসিনের রাজত্ব। আমাদের গ্রাম এখন আর গ্রাম নেই, উন্নত হয়ে শহরের সাথে মিশে গেছে। একজন বলল, আমরা অতীতে ফিরে গেছি। গোটা শহরই এখন অন্ধকারে। রাত নামার সাথে স্থানীয় ছাত্রদলের ক্যাডাররা বের হয়। হাতে থাকে টর্চ আর অস্ত্র। ব্যবসা বাণিজ্যে হানা দেয়। রাস্তায় নতুন কাউকে দেখলে ঠেক দেয়।
আমাদের শত বর্ষের পুরানো শিল্প-প্রতিষ্ঠান এখন লাশ হয়ে দাফনের অপেক্ষায় আছে। প্রায় শতাধিক শ্রমিক কর্মচারীর বেতন টানতে গিয়ে তহবিল প্রায় তলানিতে। কারখানায় গ্যাস নেই। কবে আসবে অথবা আদৌ আসবে কিনা তা কেউ জানেনা। সিলিন্ডারের গ্যাস দিয়ে বয়লার টুকটাক চালু করলেও সেটাও নাকি এখন দুষ্প্রাপ্য। বাসার রান্নার জন্যে বাগানের গাছ কেটে শুকানো হচ্ছে। অনেকের জন্যে জীবন থমকে গেছে। কোথায় কার কাছে গেলে এ হতে উদ্ধার পাওয়া যাবে তা কেউ জানেনা।
হায় বিএনপি!
কথা ছিল নির্বাচিত সরকার এলেই নাকি পূব দিগন্তে সুখসূর্য উঠে পশ্চিম দিগন্তে অস্ত যাবে। মানুষ হাসবে। পরীরা নাচবে। সুখ পাখিরা কিচির মিচির করে সুখের গাই গাইবে। দেশ বিনিয়োগের জোয়ারে তলিয়ে যাবে।
ক্ষমতার চেয়ারে বসার জন্যে ইউনুস মাস্টার সরকারের পিছনে লেলিয়ে দিল ৪১ রকমের আন্দোলন। গণভোটের নামে জনগণের সাথে প্রতারণা করল এবং প্রকাশ্য দিবালোকে সে প্রতারণা পক্ষে সাফাই গাইল।
সেই ক্ষমতাই তো মুঠোয় এলো। অথচ ক্ষমতায়নের চার মাসের মধ্যে মানুষের মৌলিক চাহিদা ও সমস্যাগুলো চলে গেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বাজারে আগুন। বিদ্যুৎ নেই... খা খা করছে গ্যাসের ভাণ্ডার...বিরামহীন চাঁদাবাজিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে উঠেছে নাভিশ্বাস। আর যাকে চেয়ারে বসানোর জন্যে এত আয়োজন তিনি খোলাফায়ে রাশেদিনের খলিফাদের মত রাতের অন্ধকারে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখতে লোকালয়ে যান। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া জীবনকে কাছ হতে দেখতে নিশিথে নিজে গাড়ি চালিয়ে চলে যান উপদ্রুত এলাকায়। প্রধানমন্ত্রীর এসব 'অতিমানবীয়' কর্মকাণ্ড নিয়ে মিডিয়া দালালদের দালালিপনা সেই আগের মতই চালু হয়েছে।
জনাব তারেক জিয়া কি বুঝতে পারছেন তিনি টিকিং টাইম-বম্বের উপর বসে আছেন? খাম্বা আর হাওয়া ভবনের যুগ হতে বেরিয়ে এসেছে জনগণ। তাদের চোখ খুলে গেছে। দানবীয় এক স্বৈরাচার ও তার চৌদ্দ গুষ্টিকে লাথি মেরে বিদায় করেছে তারা। সেই মানুষের পেটে লাথি পরলে তারা জেনারেল ও খালেদা জিয়া বন্দনায় বুদ হয়ে থাকবে ভেবে থাকলে ভুল করা হবে। ছয় মাসও হয়নি দেশে নির্বাচন হয়েছে। গণতন্ত্র নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে। এত অল্প সময়ে ব্যর্থতার ঝুলি টইটম্বুর করে কতদিন ক্ষমতায় থাকা যাবে তা সময়ই বলে দেবে। অনেকের মত আমি নিজেও চাই সরকার ৫ বছর টিকে থাকুক। গণতন্ত্রের ভীত শক্ত হোক। দেশ হতে ফ্যাসিবাদ সৃষ্টির সব কলকব্জা বঙ্গোপসাগরে সমাহিত হোক।