এন্ডিস পর্বতমালার বাঁকে বাঁকে - ১২তম পর্ব
বেলা পরে আসছে, রওয়ানা হওয়ার উৎকণ্ঠা সবার চোখে মুখে। সূর্য্যাস্তের পর এন্ডিসের এ এলাকাটা মোটেও নাকি নিরাপদ নয়। বন্য হায়েনা আর অপহরনকারীদের অভয়ারন্যে পরিনত হয় অরক্ষিত মাঠ ঘাট । বলিভিয়া পৃথিবীর অন্যতম গরীব দেশ।
বেলা পরে আসছে, রওয়ানা হওয়ার উৎকণ্ঠা সবার চোখে মুখে। সূর্য্যাস্তের পর এন্ডিসের এ এলাকাটা মোটেও নাকি নিরাপদ নয়। বন্য হায়েনা আর অপহরনকারীদের অভয়ারন্যে পরিনত হয় অরক্ষিত মাঠ ঘাট । বলিভিয়া পৃথিবীর অন্যতম গরীব দেশ।
দূর হতে দু’মাইলের পথ মনে হলেও দূরত্ব বোধহয় এক মাইলের বেশী ছিলনা। ক্লান্ত, শ্রান্ত এবং বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে বাসটার কাছাকাছি আসতেই স্বাগত জানাল পটকা মাছের মত ফুলে উঠা কতগুলো মুখ। ডায়নামাইটের মত বিষ্ফোরিত হল ট্যুর গাইড, সাথে গলা মেলাল ড্রাইভার এবং তার হেল্পার।
হে ধন্য পিতার ধন্য সন্তান,
সন্তান প্রসবা মাতা যেমন সন্তানের আগমনী বার্তা টের পায়, তোমার পত্রাগমনের বার্তাও আমি আগাম পাইয়া থাকি। চারদিকে হাবিয়ার লু হাওয়া বহিতে থাকে, ইবলিশ আর আজরাইলের দল নাচিতে থাকে পৈচাশিক নৃত্য, সূর্য্যমন্ডল হইতে খসিয়া পরে নতুন একটা নক্ষত্র। আমি বুঝিতে পারি সময় হইয়াছে
ব্লগারগন,
আপনাদের কি সৌভাগ্য হইয়াছে খবরটা পড়িবার? না হইয়া থাকিলে লিংকটা রাখিলাম, গুতা মারিয়া পড়িয়া লইবেন। আল্লহর দোহাই লাগে পড়িবেন। যাহারা অলস এবং গুতা মারিতে আলস্য বোধ করিয়া থাকেন তাহাদের জন্য সংক্ষেপে তুলিয়া ধরিলাম সংবাদটা।
মাইল খানেক হাটার পর জট্লাটা চোখে পরল। ড্রাইভার এবং ট্যুর গাইডদের সাথে পাহাড়ি এলাকার মাম্বো জাম্বো টাইপের ক’জন কি নিয়ে যেন দরকষাকষি করছে। দু’পক্ষকেই বেশ উত্তেজিত মনে হল। বন্দী দশা সইতে না পেরে অনেক যাত্রীও নেমে এসেছে খোলা বাতাসে।
উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ১৮ জন যাত্রী নিয়ে বাসটা নড়তে শুরু করল শেষ পর্য্যন্ত। স্বস্তির পাশাপাশি এক ধরনের নীরবতা গ্রাস করে নিল বাসের পরিবেশ। কারও মুখে কোন কথা নেই, সবাই ক্লান্ত এবং সামনে কি অপেক্ষা করছে এ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত।
রাথমিক ধাক্কা সামলে ঠিকঠাক হয়ে বসতেই ড্রাইভার জানাল দুঃসংবাদটা, আমরা কোপাকাবানা হয়ে লা পাস যাচ্ছিনা। ও পথটা ধর্মঘটকারীদের দখলে চলে গেছে। রক্তারক্তির খবরও নাকি বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। অজানা আশংকায় মনটা অস্থির হয়ে উঠল, এমন একটা ঘোলাটে পরিবেশে ঠিক হচ্ছে ত বলিভিয়া যাওয়াটা!
অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকে গেল ঘুমের পৃথিবী। এপাশ ওপাশ করেই কাটিয়ে দিলাম বাকি রাতটা। শেষ রাতের দিকে তন্দ্রামত আসতেই ঘড় ঘড় শব্দে বেজে উঠল এলার্ম ঘড়িটা। মিনিট খানেকের ভেতর রিসিপশন ডেস্ক হতে কেউ একজন ওয়েক-আপ কল দিয়ে জানিয়ে দিল এবার উঠতে হবে।
দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছি মাত্র। আবেগের ডানায় চড়ে মাটি এবং মানুষকে বিচার করার বয়স পার হয়নি তখনও। এমনই একটা সময় এবং দিনের কথা। ট্রামে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি সোভিয়েত রাশিয়ার অন্যতম বড় শহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে। সন্ধ্যা হয় হয়। কাজ কর্ম শেষে সবাই ঘরে ফিরছে, শহরমূখী ট্রানস্পোর্টে তাই প্রচন্ড ভীড়।
ভিসা নিয়ে আমেরিকান দূতাবাস হতে বেরুতে বেরুতে বেশ বেলা হয়ে গেল ছ্যারছ্যার আলীর। ভিসা তদ্বীরে ঢাকা ফেনী দৌড়াদৌড়ি আর নেতা-নেত্রীর পা ধরাধরি করতে গিয়ে জীবনটাই ওষ্ঠাগত হওয়ার মত অবস্থা। ভিসাটা হাতে আসতেই নিজকে বেশ হাল্কা মনে হল ছ্যারছ্যারের।