Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

১০ টাকা কেজির চাল চাইনা, আপনি 'কুত্তা' সামলান

Awami League
চালের দর ১০ টাকা। কেজি অথবা সের যে কোন হিসাবেই হোক না কেন, স্তিমিত হয়ে গেছে এ নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা। প্রথমত, বাংলাদেশের কথা বাদ দিলেও এমন একটা দামে চাল বিক্রির অবস্থায় নেই সমাসাময়িক বিশ্ব। তেল, গ্যাস, পানি আর গতর খাটুনি এক পাল্লায় দাঁড় করিয়ে কোন ভাবেই ১০ টাকার বাটখারা দিয়ে সমান করা যাবে না হিসাবের দাঁড়িপাল্লা। এমন একটা সমীকরণ শুধু অসম্ভবই নয়, এ অলিক ও অবাস্তব। দ্বিতীয়ত, ১০ টাকায় এক কেজি চাল না হলেও না খেয়ে মরবে না এ দেশের মানুষ। মানুষ এখনো টোটাল হার মানেনি অসত্যের কাছে। মিথ্যা, ধাপ্পাবাজি আর ছলচাতুরীর ফাঁদে বার বার ধরা খেয়ে কিছুটা হলেও তারা বুঝতে শিখেছে সত্য মিথ্যার পার্থক্য। ২৫০ টাকা গো মাংসের বাজারে ১০ টাকা সের চাল, এ শুধু চাল নিয়ে চালবাজি নয়, বরং চাল উৎপাদনে জড়িত খেটে খাওয়া মানুষের জন্যে মৃত্যু ঘোষনার শামিল। শেখ হাসিনা এমন একটা ঘোষনা দিয়েই ভোট বানিজ্যে লাভবান হয়েছিলেন। নেত্রীর আগাম ঘোষনায় যারা বিশ্বাস করেছিলেন হয় তারা উনার গৃহপালিত ভৃত্য, নয়তো ভিন গ্রহে হতে উড়ে আসা এলিয়ান। হাজারা চেষ্টা করেও নেত্রী চালের দর ওয়াদাবদ্ধ দরের কাছাকাছি আনতে পারবেন এমনটা মনে করার বিশেষ কোন কারণ নেই। অর্থনীতি চলে তার নিজস্ব নিয়মে। তার সাথে যদি যোগ হয় পলিটিক্যাল ক্রাইম এর নিয়ন্ত্রণ শেখ হাসিনা অথবা খালেদা জিয়ার মত অল্প ও স্বশিক্ষিত গৃহবধূদের পক্ষে সম্ভব হওয়ার কথা নয়। তাই চালের বর্তমান দর ১০ টাকা নেই বলে দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে আদালতে দাঁড় করায়নি, অথবা মিথ্যা বলার অভিযোগে আন্দোলনে নামেনি। রাজনীতিতে মিথ্যাচারিতা সর্বস্বীকৃত অপরাধ, এ হতে কেউ মুক্ত নয়। তবে চালের দর নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব না হলেও শেখ হাসিনার পক্ষে যে জিনিসটা নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব ছিল তা হল, উনার ’কুত্তা’দের উন্মাদনা।

মালিকানা প্রকারভেদে বাংলাদেশে দুই প্রকার কুত্তার দেখা পাওয়া যায়। এক, রাস্তাঘাটের বেওয়ারিশ, দুই, গৃহপালিত। ছাত্রলীগ নামের কুত্তালীগকে উইকিপিডিয়ার কোন সংজ্ঞাতেও বেওয়ারিশ বলা যাবে না, কারণ এর মালিক জীবিত আছেন এবং তিনি আছেন বেশ বহাল তবিয়তে। কুত্তাদের নির্দিষ্ট একটা মাস থাকে যে সময়টায় তারা উন্মাদ হয়ে যায় পাশবিক ইচ্ছা চরিতার্থের লালসায়। প্রধানমন্ত্রীর কুত্তার কাফেলাও তেমনি একটা সময় পার করছে এ মুহুর্তে। তাদের লালসা কার্তিক মাসের লালসাকেও হার মানিয়ে এমন একটা উচ্চতায় ঠাঁই নিয়েছে যেখান হতে চাইলেই তারা ৫টনের সমগ্র বাংলাদেশকে যখন খুশি ধর্ষণ করতে পারে, দলিত মথিত করতে পারে, ফুটবল খেলতে পারে। এবং তারা তা করছে অতীতের সব রেকর্ড ভংগ করে। কুত্তালীগের মালিক যদিও বলছেন এ দল বেওয়ারিশ দল, কিন্তু ভুক্তভোগি মাত্রই জানে গৃহপালিত এসব কুত্তাদের উন্মাদনার শক্তি কোথায়।

তারেক আর খাম্বা মামুনদের কারণে না হয় বিদ্যুৎ খাতে উলাওডা বিবির রাজত্ব চলছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজ দলের ’কুত্তা’দের বৈশাখ মাসে কাতি মাসের রাজত্বের জন্যে দায়ি করবেন কাকে, ককো, ফালু, বাবর অথবা হারিছ চৌধুরীদের? বিদ্যুতের অভাবে ধান উৎপাদন ব্যহত হয়, যার প্রভাবে প্রতিশ্রুত ১০ টাকা কেজি চাল সরবারহেও আসে বাধা। এ মুহূর্তে জাতি ১০ টাকা কেজি চাল না পেয়ে যতটা না কষ্টে আছে তার চেয়ে ঢেড় কষ্টে আছে প্রধানমন্ত্রীর ’কুত্তা’দের যন্ত্রণায়। জনাবা প্রধানমন্ত্রী, আমরা ১০ টাকা কেজির চাল চাইনা, আপনি ’কুত্তা’ সামলান।

টাইটেল প্রথম আলো ব্লগের ব্লগার সাইদুর রহমানের লেখা হতে নেয়া।

Comments

মারামারি করে ভর্তি ইচ্ছুকদের শুভেচ্ছা জানাল ছাত্রলীগ!


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল ভর্তিচ্ছুদের শুভেচ্ছা জানাতে এসে ছাত্রলীগের দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে
ছবি: প্রথম আলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি-ইচ্ছুকদের শুভেচ্ছা জানাতে এসে মারামারি করেছে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ। এ সময় রড-চাপাতি নিয়ে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন এলাকায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ও জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, ভর্তি-ইচ্ছুকদের শুভেচ্ছা জানাতে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গতকাল একটি শুভেচ্ছা মিছিলের আয়োজন করে। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে জড়ো হতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুহসীন হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা এমনই একটি মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে যাচ্ছিলেন। এ সময় কলাভবনের সামনের রাস্তায় দাঁড়ানো জহুরুল হক হলের কর্মী বরকতের সঙ্গে মুহসীন হলের কর্মী তুষারের ধাক্কা লাগে। শুরু হয় দুজনের মধ্যে বাগিবতণ্ডা। একপর্যায়ে মুহসীন হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে বরকতকে বেধড়ক পেটান।

এ ঘটনার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রলীগের শুভেচ্ছা মিছিল বের হলে জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা কলাভবন ও ডাকসুর মধ্যবর্তী স্থানে তুষারকে পেটান। এরপর মুহসীন হলের ছাত্রলীগের সভাপতি মুহাম্মদ আলীর অনুসারী ২৫-৩০ জন কর্মী হলের ৪৬৫ নম্বর কক্ষ থেকে লোহার রড, চাপাতি নিয়ে মধুর ক্যানটিনের দিকে ধেয়ে আসেন। এ সময় পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। দলটি মধুর ক্যানটিনের কাছাকাছি এলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বাধা দিলে মুহসীন হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা পিছু হটেন। তাঁরা অবস্থান নেন জহুরুল হক হলের গেটসংলগ্ন রাউফুন বসুনিয়া চত্বরে। সেখানে পুলিশ অবস্থান নিলে দুপুর সাড়ে ১২টায় মুহসীন হলের কর্মীরা হলে ফিরে যান।

হল সূত্রে জানা যায়, বরকত জহুরুল হক হলের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক গোলাম শাহরিয়ারের কর্মী। শেখ ফরহাদুজ্জামান তুষার ছাত্রলীগের মুহসীন হল শাখার সভাপতি মুহাম্মদ আলীর কর্মী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিলের গতি রোধ করলে মারামারি বাধে। গোলাম শাহরিয়ার বলেন, ‘বরকত একসময় আমার কর্মী ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কে এম সাইফুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ বছরের প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের ৬৩টি কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষায় ২৮ হাজার ৪২২ জন ছাত্র অংশ নেন।

সূত্র: প্রথম আলো
তারিখ: ১০ই অক্টোবর, ২০১০

কুকুরের কামড়ে নাসিমের

কুকুরের কামড়ে নাসিমের মিত্যু!!

লিখেছেন : বাঙালী ২৪ অগাষ্ট (মঙ্গলবার), ২০১০ ১১:২২ পুর্বাহ্ন

হায়রে নাসিম মরতি, মরতি শিবিরের পোলাপাইনের হাতেই মরতি!!
হায়রে নাসিম দুর্ভাগ্য তোমার তুই যদি শিবির বা ছাত্রদলের হাতে মারা জাতি তাহলে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কত মন্ত্রি-মিনিষ্টার আর মিডিয়ার মায়াকান্না আর সহমর্মিতা যে পেতা যেটা তোমার পিতামাতার শোককে কিছুটা প্রশমিত করত আর আওয়ামীলীগও পেত বিরোধীদলকে দমণ করার আরেকটি অস্ত্র। দেকতি আগের মতন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও আইজি মহোদয়কে রাজশাহীতে হেলিকাপ্তারে উড়ে তোকে দেখতে যেত, যেমনটি যায় কিছু দিন পূর্বেও রাজশাহীর আরেকটি ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও আইজি মহোদয়কে রাজশাহীতে হেলিকাপ্তারে উড়ে যেতে আর রাজশাহীর ঘটনায় জেহাদ ঘোষণা করে পুরো দেশব্যাপী চিরুণী অভিযান পরিচালনা করতে। এখন হয়ত স্বরাষ্টমন্ত্রী একে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলবেন যেমনটি বলেছিলেন ঢাবির ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলে নিহত মেধাবী ছাত্র আবু বকরের মৃত্যুতে।

হায়রে তোর কপাল!
মরতি শিবিরের পোলাপাইনের হাতেই মরতি!

আগে জানতেন না সত্যি?

আপনি তাহলে আগে জানতেন না যে আওয়ামী লীগ জঙ্গি সংগঠন? এটা কি বিশ্বাস যোগ্য

চাঁদাবাজি ও জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব

‘ছাত্রলীগ দিচ্ছে ডাক, সন্ত্রাসবাদ নিপাত যাক’। ‘শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি ছাত্রলীগের মূল নীতি’। ‘সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়াই ছাত্রলীগের মূল লক্ষ্য’।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকলেই বিভিন্ন দেয়ালে লেখা এসব স্লোগান চোখে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলমের সৌজন্যে লেখা হয়েছে এ ধরনের স্লোগান। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সমাবেশেও সন্ত্রাস নির্মূলের কথা বলেন এই দুই নেতা। কিন্তু এখন তাঁরাই তাঁদের কর্মীদের সন্ত্রাসে আতঙ্কিত। গত সোমবার তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং কয়েকজনকে মারধর করে হলের তিনতলা থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম বর্বরতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ওই সংঘর্ষের ঘটনায় ১৭ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বহাল তবিয়তেই ক্যাম্পাসে ঘুরছেন। গতকাল ক্যাম্পাসের নতুন কলাভবনের সামনে দুই নেতাকে গল্প করতে দেখা যায়। এই দুই নেতার দাবি, সোমবার ক্যাম্পাসে যা হয়েছে, তা তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও ক্যাম্পাসের আশপাশে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কাজেও জড়িয়ে পড়েছেন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কর্মীদের মধ্যে সোমবার সংঘর্ষ বাধে।
জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা: ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন পান্দুয়া এলাকায় একটি জমির মালিকানা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সমস্যা চলছিল। একপর্যায়ে জমির একজন মালিকের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতির সমঝোতা হয়। পরে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকায় সভাপতির সঙ্গে একজন মালিকের সমঝোতা হয়। ঘটনা জানতে পেরে সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কর্মীরা জমির অন্য মালিকের পক্ষ নিয়ে সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি রাশেদুল বলেন, জমিসংক্রান্ত একটি সমস্যা নিষ্পত্তির বিষয়ে তাঁকে জানানো হলেও তিনি এতে সাড়া দেননি। তবে জমির একজন মালিকের একটি গাড়ি তিনি ভাড়ায় নিয়ে ব্যবহার করতেন বলে জানান।
সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনা জানেন না। তবে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী একটি জমির সাইনবোর্ড ভেঙেছে বলে তিনি শুনেছেন।
ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী জানিয়েছেন, গত ১৯ মে রাশেদুলকে সভাপতি ও নির্ঝরকে সাধারণ সম্পাদক করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এর কয়েক দিন পর ১ জুন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়। এক মাস পর ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় খোলে। নতুন কমিটির দুই নেতাই চাইছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার শুরুতেই নিজেদের শক্তির মহড়া দেখিয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে।
হলের নিয়ন্ত্রণ: আল-বেরুনী হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কর্মীদের মধ্যে কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। নতুন কমিটি গঠনের পর হলটি নিয়ন্ত্রণ করছিল সাধারণ সম্পাদক পক্ষের এনায়েত কবির (এমিল)। সভাপতি পক্ষের কর্মী মোস্তফা মনোয়ার সজীবও হলটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন। এই হলটি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পাওয়া সহজ হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছিলেন শীর্ষ নেতারা। এরই জের ধরে এমিল ও সজীবের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সোমবার সজীবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর জের ধরেই এমিল এবং পরে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে।
আল-বেরুনী হলের ছাত্রলীগের একাধিক কর্মী জানিয়েছেন, সজীব ও এমিলের মধ্যে দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছিলেন রাশেদুল ও নির্ঝর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদুল ইসলাম বলেন, আল-বেরুনী হলের জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে সংঘর্ষের পেছনে অন্য কারও ইন্ধন থাকতে পারে।
সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম বলেন, পদবঞ্চিত কিছু কর্মী ও কয়েকজন শিক্ষকের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটেছে। এগুলো ষড়যন্ত্র।
ক্যাম্পাস থমথমে, পাল্টাপাল্টি মামলা, গ্রেপ্তার ১৬: সোমবারের সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস এখন থমথমে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ও হলগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। সভাপতি পক্ষের কর্মী মালেক এবং সাধারণ সম্পাদক পক্ষের হিমু বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, সোমবার রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আ ফ ম কামাল উদ্দিন, শহীদ সালাম-বরকত ও আল-বেরুনী হলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন আমিনুল, রাহাদ, সিহাব, হাসান, পরিতোষ, ইমন, রোমন, জাহিদ, রিয়াজ, মোস্তাফিজ, মাসুদ ও শামিম। অন্য চারজনের নাম জানা যায়নি। এই ১৬ ছাত্রকে গতকাল ঢাকায় বিচারিক হাকিম শাহরিয়ার আরাফাতের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত দুটি মামলায় তাঁদের প্রত্যেককে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, আহতদের দেখতে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রক্টর আরজু মিয়া জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন সতর্ক আছে।
নিষ্ক্রিয় ছিল পুলিশ: সংঘর্ষের সময় আল-বেরুনী হলের সামনে পুলিশ থাকলেও তারা কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। সংঘর্ষ থামানোরও কোনো চেষ্টা করেনি পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সংঘর্ষে অংশ নেন। সংঘর্ষের সময় ১১টি গুলি ছোড়া হয়। পরে কামাল উদ্দিন ও শহীদ সালাম-বরকত হলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে গোলাগুলির সময় সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁদের কাউকেই আটক করেনি পুলিশ।
এ ছাড়া সংঘর্ষে জড়িত ১৭ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চাঁদাবাজি ও পরিবহন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ: আশুলিয়া থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, চাঁদাবাজি ও পরিবহন ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার-সমর্থক ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সব সময়ই দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। নতুন কমিটি হওয়ার পর ক্যাম্পাসের বিশমাইল এলাকার একটি টেম্পোস্ট্যান্ড থেকে মাসিক হারে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন সভাপতি পক্ষের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া নন্দন-ঢাকা পর্যন্ত চলাচলকারী বাস থেকে মাসিক হারে চাঁদা চেয়ে আসছিলেন তাঁরা। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কর্মীরা সাভার এলাকার চিহ্নিত এক সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় চাঁদার জন্য যান বলে জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কাজে একাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকে চাঁদা নিত দুই পক্ষই। কে, কোন জায়গা থেকে চাঁদা নেবে, এ নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতা হওয়ার কথা ছিল। তার আগে দুই পক্ষই নিজেদের শক্তির মহড়া দেখাতে চেয়েছিল। এসব নিয়ে যেকোনো সময় সংঘর্ষ হতে পারে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মহল থেকে জানানোও হয়েছিল বলে জানিয়েছেন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা।
তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তাঁরা বলেন, স্বার্থান্বেষী কিছু ব্যক্তি তাঁদের বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যর্থতা: গত ১৮ মাসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০টি সংঘর্ষ ঘটেছে। এর মধ্যে সাত-আটটি বড় ধরনের।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যর্থতার কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে। তাঁরা জানান, এই ক্যাম্পাসে কোনো একটি ঘটনা ঘটলে ছাত্রলীগের কয়েকজনকে বহিষ্কার কিংবা বা কিছুদিন কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে কেন্দ্রীয় কমিটির ভূমিকা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান বলেন, এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ। নির্বাচনের পরপরই ওই ক্যাম্পাসে এ ধরনের একটি সংঘর্ষের ঘটনার পর ছাত্রলীগের কার্যক্রম ১৪ মাস স্থগিত ছিল। এবারও কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং ১৩ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটায়, তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সম্পর্ক নেই।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ: ক্যাম্পাসে এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তামান্না, জাহিদ, মমিন ও রাজ বলেন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এ ধরনের ঘটনাগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এ রকম একটি বর্বরোচিত ঘটনার পর ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা ক্যাম্পাসে ঘুরছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জার। তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-07-07/news/76697

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ আবার বেপরোয়া

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ-গুলি আহত ৩৫, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৭ ছাত্র বহিষ্কৃত
Chattro League

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দফায় দফায় এ সংঘর্ষের সময় প্রায় ১৬টি গুলিবিনিময় হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের পর সহকারী প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান রিকশায় করে এক কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার সময় হামলার শিকার হন। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। পরে সিন্ডিকেট সভায় ১৭ জন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ছাড়া ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১৩ কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। জানা যায়, গতকাল সোমবার সকাল নয়টার দিকে আল-বেরুনী হলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সাফিনের সমর্থক কাজী মোস্তফা মনোয়ারকে মারধর করে সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম সাম্য পক্ষের কর্মী এনায়েত কবিরের নেতৃত্বে চার-পাঁচজন কর্মী। বিষয়টি জানতে পেরে রাশেদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদৎ হোসেনের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন কর্মী রড, লোহার পাইপ, চাপাতি, রামদা নিয়ে আল-বেরুনী হলে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক পক্ষের ৩০-৩৫ জনকে বেধড়ক মারধর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় আহত বেশ কয়েকজন কর্মীকে হলের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে উপাচার্য শরীফ এনামুল কবিরসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও তাঁর কথা অমান্য করে সভাপতি পক্ষের কর্মীরা সাধারণ সম্পাদক পক্ষের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন। এ ঘটনায় আল-বেরুনী হলের ‘এ’ ব্লকের ২০টি কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। সহকারী প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান এমিল নামের আহত একজনকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার সময় সভাপতি পক্ষের কর্মীরা আবারও এমিলের ওপর হামলা চালান। সহকারী প্রক্টর এতে বাধা দিতে গেলে তাঁর বাঁ হাতে রডের আঘাত লাগে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাধারণ সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত আ ফ ম কামাল উদ্দিন ও সভাপতি-সমর্থিত সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদৎ হোসেনের নিয়ন্ত্রিত শহীদ সালাম বরকত হলের কর্মীদের মধ্যে পাঁচটি গুলিবিনিময় হয়। এ সময় কামাল উদ্দিন হলের উজ্জ্বল ও সালাম বরকত হলের এনায়েতউল্লাহ শিমুল গুলিবিদ্ধ হন।

সংঘর্ষে আহত আট ছাত্রকে গতকাল দুপুরের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁরা হলেন শিমুল, এমিল, উজ্জ্বল, মুন্না, তন্ময়, তনু, তনয় ও সুজন। পেটে ছুরিকাহত শিমুলের অবস্থা গুরুতর। সাতজন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ও মান্না ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁদের কারও পিঠে, কারও মাথায় কারও বা পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে যাদের ইন্ধনে সভাপতির নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাটি বিভিন্ন হলের ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যকার বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সংঘর্ষের ঘটনাটি তদন্ত করে সাংগঠনিকভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রক্টর আরজু মিয়া বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। ১৭ ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত: সন্ধ্যা ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়েছে। এরপর সাড়ে সাতটায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। সভায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার ৪ ও ৫ এবং ডিসিপ্লিনারি অর্ডিন্যান্সের ৮ ধারাবলে উপাচার্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তের জন্য সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. ফরহাদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আরও কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিন্ডিকেট সভায় জানানো হয়।

বহিষ্কৃত ছাত্ররা হলেন রবিউল ইসলাম (৩৭তম ব্যাচ, গণিত), পরিতোষ চাকমা (৩৬তম ব্যাচ, ফার্মেসি), শাহাদাৎ হোসেন (৩৫তম ব্যাচ, প্রত্নতত্ত্ব), রকিবুল হাসান (৩২তম ব্যাচ, গণিত), ফয়সাল হোসেন (৩২তম ব্যাচ, গণিত), তৌহিদুল ইসলাম (৩৪তম ব্যাচ, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), রাইসুল হাসান (৩৬তম ব্যাচ, নৃবিজ্ঞান), আরেফিন রাব্বি (৩৫তম ব্যাচ, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), এস এম কামরান হাসান (৩৬তম ব্যাচ, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), অভিজিৎ চৌধুরী (৩৪তম ব্যাচ, দর্শন), আরিফুল হক (৩৫তম ব্যাচ, বাংলা), তোফাজ্জল হোসেন (৩৩তম ব্যাচ, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), মহিউদ্দিন আহমেদ (৩৫তম ব্যাচ, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), বিজয় কুমার দাস (৩৫তম ব্যাচ, বাংলা), শুভাশিষ কুন্ডু (৩৭তম ব্যাচ, প্রত্নতত্ত্ব), স্বাধীন (৩৭তম ব্যাচ, প্রত্নতত্ত্ব) ও সুমন (৩৫তম ব্যাচ, রসায়ন)।

ছাত্রলীগের ১৩ কর্মী সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের ১৩ কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান গতকাল সোমবার রাতে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।

এর আগে সন্ধ্যায় মাহমুদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ জনের বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। তাঁরা হলেন কাজী মারুফ সজীব, বিজয় কুমার দাশ, পারভেজ, দেবব্রত প্রিয় জনি, আরিফুল হক, খায়রুল বাশার, শুভাশিষ কুন্ডু, মহিউদ্দিন আহমেদ, উজ্জ্বল কুমার দাশ, চয়ন, সকাল, স্বাধীন ও পলাশ।

এর আগে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের সঙ্গে আজিবুর-অয়ন পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। ফেব্রুয়ারি মাসে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এক বছর পর গত ১৯ মে পুনরায় কমিটি গঠন করা হয়।

সূত্র: প্রথম আলো | তারিখ: ০৬-০৭-২০১০

জাহাঙ্গীরনগরে ভয়ংকর ছাত্রলীগ

July 5th, 2010
আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর কার্যক্রম স্থগিত ১৩ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার ইমন রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন সহকারী প্রক্টরসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শাফিন ও সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম সাম্যের পক্ষের নেতা-কর্মীরা এ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে মারধরের পর ফেলে দেওয়া হয় ৪ তলা হল ভবনের ছাদ থেকে। সংঘর্ষ থামাতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবীর ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরজু মিয়াকেও লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৭ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। ঘটনা তদন্তে উপ-উপাচার্য ড. ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সংগঠন থেকে ১৩ ছাত্রলীগকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রমও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবেরুনী হলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ প্রায় ২০টি গুলি ছোড়ে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত : প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি পক্ষের আলবেরুনী হলের ছাত্রলীগকর্মী কাজী মুস্তফা মনোয়ার সজীব হল থেকে তাঁর নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যাওয়ার উদ্দেশে বের হন। তিনি ক্যাম্পাসের পরিবেশবিজ্ঞান ভবনের সামনে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কর্মী একই হলের এনায়েত কবীর এ্যামিলের (বাংলা বিভাগ) জুনিয়র কর্মীরা তাঁকে রড, লাঠি, হকিস্টিক, রামদা ও চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকদের সামনে আবারও এ্যামিল গ্রুপের ক্যাডাররা রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় মেডিক্যাল সেন্টারের নার্স মাহমুদা পারভিন লাঞ্ছিত হন।
সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে : এ সংঘর্ষের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। সজীবের ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতে মেডিক্যাল সেন্টারের সামনে সভাপতি পক্ষের বিভিন্ন হলের কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, রড, লাঠি ও রামদা নিয়ে একত্রিত হয়। সেখান থেকে তারা আলবেরুনী হলের দিকে অগ্রসর হলে হলের মূল ফটকে তালা দিয়ে আত্দরক্ষা করার চেষ্টা করে সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কর্মীরা। এ সময় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শাফিনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে সেখানে যান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবীর ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরজু মিয়া। এ সময় উপাচার্য সজীবের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডারদের। কিন্তু তারা উপাচার্য ও প্রক্টরের কথা না শুনে হলের মূল ফটকের তালা ভাঙতে শুরু করে। তালা ভাঙতে বাধা দিতে গেলে তাঁদের লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। উপাচার্যের উপস্থিতিতেই সাতটি ফাঁকা গুলি চালায় তারা। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে উপাচার্য তাঁর গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ছাত্রলীগের ওপরই ছাত্রলীগের বর্বর হামলা : উপাচার্য ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর সভাপতি পক্ষের কর্মীরা তালা ভেঙে হলে ঢুকে প্রতিপক্ষের কর্মীদের এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে। তারা হলের তৃতীয় তলায় উঠে সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কর্মীদের মারধর করে জানালা দিয়ে ফেলতে থাকে। সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কর্মীরা হলের চতুর্থ তলায় ছাদে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা চালায় সভাপতি পক্ষের কর্মীরা। এ সময় এ্যামিলসহ সাত-আটজন কর্মীকে পিটিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয় তারা। প্রক্টরিয়ালবডির সদস্যরা অনেক চেষ্টা করেও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের থামাতে পারেননি।
মারধর চলাকালে সহকারী প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া গুরুতর আহত ছাত্রলীগ কর্মী এ্যামিলকে রিকশায় করে মেডিক্যাল সেন্টারের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা সহকারী প্রক্টর ফিরোজের ওপরও হামলা চালায়। এতে তিনি ডান হাতে আঘাত পান।
আলবেরুনী হলে মারধর চলাকালে গুরুতর আহত হন সাধারণ সম্পাদক পক্ষের রিয়াল (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), জয়ন্ত (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), সোহেল (ইতিহাস), জাহিদ (বাংলা), সকাল (বাংলা), বিজয় (বাংলা), আরিফ (বাংলা), তনয় (পরিবেশবিজ্ঞান), মুন্না (পরিবেশবিজ্ঞান) ও রাজিব (প্রত্নতত্ত্ব)।
একই ঘটনার সূত্র ধরে দুপুর ১টার দিকে সাধারণ সম্পাদক নিয়ন্ত্রিত আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল ও সভাপতি নিয়ন্ত্রিত শহীদ সালাম-বরকত হলের ছাত্রলীগের দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষ পরস্পরের প্রতি প্রায় ১৩টি গুলি ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সংঘর্ষে ইতিহাস বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের শিমুল (শহীদ সালাম-বরকত হল) বুকে এবং দর্শন বিভাগের একই ব্যাচের উজ্জ্বল (কামাল উদ্দিন হল) পেটে গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জরুরি বৈঠক ও বহিষ্কার : বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভা করে। ওই সভার সুপারিশ অনুমোদনের জন্য সাড়ে সাতটায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহবান করা হয়। সিন্ডিকেট সভায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে উপাচার্য ১৭ জনকে শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেন। এছাড়া ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ফরহাদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনা তদন্ত করে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বহিস্কৃত শিক্ষার্থীরা ছাড়া আরো কেউ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিন্ডিকেট সভায় জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত ছাত্ররা হলেন রবিউল ইসলাম সূর্য (গণিত), পরিতোষ চাকমা (ফার্মেসি), শাহাদাৎ হোসেন রেজা (প্রত্নতত্ত্ব), রকিবুল হাসান রানা (গণিত), ফয়সাল হোসেন (গণিত), তৌহিদুল ইসলাম জয় (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), রাইসুল হাসান শামিম (নৃবিজ্ঞান), আরেফিন রাবি্ব ছন্দ (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), এস এম কামরান হাসান (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), অভিজিৎ চৌধুরী (দর্শন), আরিফুল হক (বাংলা), তোফাজ্জল হোসেন ইমন (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), মহিউদ্দিন আহমেদ মাহী (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), বিজয় কুমার দাস (বাংলা), শুভাশিষ কুন্ডু টনি (প্রত্নতত্ত্ব), স্বাধীন (প্রত্নতত্ত্ব) ও সুমন (রসায়ন)।
সংঘর্ষের ব্যাপারে ছাত্রলীগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শাফিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাটি আলবেরুনী হলের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম সাম্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সংগঠনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আরজু মিয়া বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রলীগের ১৩ কর্মীকে বহিষ্কার: অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পেয়ে গতকাল বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। পরে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১৩ কর্মীকে বহিষ্কার করে।
দল থেকে বহিষ্কৃত কর্মীরা হলো কাজী মারুফ সজীব, বিজয় কুমার দাশ, পারভেজ, দেবব্রত প্রিয় জনি, আরিফুল হক আরিফ, খায়রুল বাশার রাজু, শুভাশীষ কুণ্ড টনি, মহিউদ্দিন আহমেদ মুহি, উজ্জ্বল কুমার দাশ, চয়ন, সকাল, স্বাধীন ও পলাশ।
গতকাল সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন স্বাক্ষরিত পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিশৃঙ্খল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, 'জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগের আজকের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কার্যনির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সে সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ওই কমিটি বাতিল করে গত ১৯ মে সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শাফিন ও সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম সাম্যের নেতৃত্বে নতুন কমিটি করা হয়।

দৈনিক কালের কন্ঠ হতে নেয়া।

আযিযুল হক কলেজে ভর্তি বন্ধ করে দিল ছাত্রলীগ

বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজে একাদশ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। এ সময় তারা কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এর প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসের সামনের সড়ক অবরোধ করেন।

আযিযুল হক কলেজ সূত্র জানায়, একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য ১৭ জুন মেধা ও অপেক্ষমাণ মিলিয়ে এক হাজার ৪০০ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ৪৩০ জনের অপেক্ষমাণ তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে আপত্তি তোলেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতারা। তাঁরা বলছেন, অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা সবাই এসএসসিতে গড়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক নম্বর কম পাওয়া সত্ত্বেও অনেকের নাম তালিকার প্রথম দিকে। আবার বেশি নম্বর পেয়েও কেউ কেউ নিচে স্থান পেয়েছে। অপেক্ষমাণ ওই তালিকার মধ্যে গ্রামীণ ও মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাদে বিজ্ঞানে ৯০, মানবিকে ৭২ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৭ জনকে ২৩ জুন ভর্তির কথা জানানো হয়।

কলেজের একটি সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ প্রশাসনের অনুরোধে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি করে ২০ জুন কলেজে পাঠায়। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা নতুন তালিকাকেও ‘অস্বচ্ছ’ আখ্যায়িত করে ভর্তিপ্রক্রিয়া বন্ধ রাখার দাবি জানান। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ জুন থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। গতকাল সকালে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নতুন ভবনের কাউন্টারে গিয়ে ভর্তি বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দিয়ে আবারও শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকার শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বের করে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, বিতাড়িত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সংগঠিত হয়ে বেলা দুইটার দিকে ক্যাম্পাসে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। তাঁরা প্রথমে অধ্যক্ষের কক্ষের সামনের জানালার কাচ ও ফুলের টব ভাঙচুর করেন। পরে তৃতীয় তলায় গিয়ে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে স্থাপন করা কেন্দ্রীয় ভর্তি নিয়ন্ত্রণকক্ষের বেঞ্চ ও টেবিল ভাঙচুর করেন। এ সময় তাঁরা বিজ্ঞান ভবনের উদ্ভিদবিদ্যা ও রসায়ন বিভাগেও হামলা-ভাঙচুর চালান। এর পরপরই পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এতে তিনজন সামান্য আহত হন।

শিক্ষকেরা জানান, ভণ্ডুল হওয়ার আগ পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগে অপেক্ষমাণ তালিকার ৯০ জনের মধ্যে ৫১ জনকে ভর্তি করানো সম্ভব হয়েছে। তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ঠিক কত জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পেরেছে, কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি।

পুলিশের লাঠিপেটার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পর তাঁরা ক্যাম্পাসে ফিরে মিছিল-সমাবেশ করেন।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুন্নবী রাসেল অভিযোগ করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে রেখে অধ্যক্ষ তাঁর মনগড়া একটি অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি করে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চান। এটা চলতে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, অধ্যক্ষকে অপসারণ এবং স্বচ্ছভাবে তালিকা না করা পর্যন্ত অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে কাউকে ভর্তি করতে দেওয়া হবে না। কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ছালামত উল্লাহ্ প্রথম আলোকে জানান, ছাত্রলীগ যে অভিযোগ করেছে, তা ঠিক নয়। বোর্ড থেকে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি চলছিল। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগের নেতাদের সুপারিশে অন্যায়ভাবে ভর্তিপ্রক্রিয়া চালাতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা অরাজকতা চালিয়েছেন। অধ্যক্ষ বলেন, আজ বৃহস্পতিবার তিনি ভর্তির কার্যক্রম শুরু করবেন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যদি ভর্তি বন্ধ করে দেন, তাহলে তা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: প্রথম আলো
তারিখ: ২৪-০৬-২০১০

টেন্ডারবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে ‘ছাত্রলীগ’ নামধারীরা

২৬শে মে, ২০১০

সহপাঠীর শ্লীলতাহানি ও শিক্ষিকাকে অপদস্থ করার মতো গুরুতর অপরাধে কিছুদিন আগে বহিষ্কার করা হয় ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তিন ছাত্রকে। তিনজনই পরিচিত ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে। এই ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগের একাংশ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাসহ ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক আরও অনেক অপকর্মে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়ে ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজির ছাত্র অমিত কুমার দে ও সিভিল টেকনোলজির ছাত্র বি এম মোবারক হোসাইনকে এবং শিক্ষিকাকে অপদস্থ করায় যন্ত্র প্রকৌশলের ছাত্র মাহবুবুল আলমকে গত ২৭ এপ্রিল বহিষ্কার করা হয়।
ইনস্টিটিউটের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের নামধারী ২৫ থেকে ৩০ জন ছাত্র চাঁদাবাজি, ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এবং কলেজের কিছু শিক্ষক তাঁদের সমর্থন দিয়ে আসছেন। এভাবে রাজনৈতিক নেতারা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন, আর শিক্ষকেরা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে দল ভারী করেন।
ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি সত্যি, কিছু ছাত্র অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে এক ছাত্রীর সঙ্গে যেটি করা হয়েছে, সেটি কখনোই এই ইনস্টিটিউটে হয়নি।’
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা সূত্রে জানা গেছে, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তারাই ওই এলাকার টেন্ডার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে। গত দুই দশকে ইনস্টিটিউটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিনজন ছাত্রনেতাসহ আটজন নিহত হয়েছেন। গতবছর র্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত দুই ছাত্র মহসিন শেখ ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুর পেছনেও রাজনীতি জড়িত ছিল বলে অভিযোগ আছে।
ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই দুজনই আমার কর্মী ছিল। কিন্তু ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ এই হত্যাকাণ্ডে ইন্ধন জুগিয়েছে।’
গত বছরের মার্চে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে সংগঠনটির কার্যক্রম স্থগিত করে ১৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়। শিক্ষিকা অপদস্থকারী মাহবুবুল আলম তাঁদের অন্যতম। অন্যরা হলেন রাসেল মাহমুদ, কমলেশ মুখার্জী, চিকা রাসেল, ইকবাল হোসেন, মনিম, শ্রাবণ, আবুল হোসেন, সারোয়ার সুমন, সাকিব, মাহাদী, জয় ও মেহেদী হাসান। ছাত্রদের অভিযোগ, বহিষ্কারের পরপরই এই ১৬ জন মিলে একজোট হয়ে ছাত্রলীগ পরিচয়েই বিভিন্ন অপরাধ চালাতে থাকেন। তবে বহিষ্কৃত পক্ষের অভিযোগ, সব অপকর্ম করছেন প্রতিপক্ষের নেতা জাকির হোসেন।
এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার তালুকদার সারোয়ার বহিষ্কৃত ১৬ জনের গ্রুপটিকে সমর্থন দেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাঁরা বলেছেন, উল্লিখিত তিন ছাত্রকে বহিষ্কারের এক সপ্তাহ পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে তাঁদের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন সারোয়ার।
এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘যিনি এসেছিলেন, তিনি এখানকার ছাত্র ছিলেন। তিনি একজনের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেছেন।’
তালুকদার সারোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্প্রতি মাহবুবুল আলম নামের একজন ছাত্রের ব্যাপারে আমি অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে, ছেলেটি বড় অন্যায় করেনি।’
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অপারেশন কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে পলিটেকনিকে। এখানে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি না থাকায় একক কোনো নেতৃত্ব নেই।
পুলিশের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চল এলাকার টেন্ডারবাজি ও ছিনতাইয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পলিটেকনিকের ছাত্রনেতারা জড়িত থাকেন। সম্প্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ পলিটেকনিকের ছাত্র কমলেশ মুখার্জীকে (বহিষ্কৃত) গ্রেপ্তার করে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘কেউ বাইরে থেকে এসে ক্যাম্পাসে ছিনতাই-চাঁদাবাজি করছে, সেটি আমিও বিশ্বাস করি না।’
http://prothom-alo.com/detail/news/66039

বানোয়াট কল্প কাহিনী

এত বড় দেশের কোথাও কোথাও হয়তো কিছুটা গন্ডগোল হচ্ছে কিনতু তাই বলে এমন আবেগ তাড়িত হয়ে মামুর বাড়ির গপ্ল লেখার মত কিছু হয় নাই। এই দেশে ছাত্র রাজনীতির এই হাল অনেক পুরাতন। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেস্টা করছেন তা কমিয়ে আনার। তিনি ক্রমে ক্রমে সফলও হচ্ছেন। কিনতু বিএনপির সহযোগিতার অভাবে ছাত্রদের বাগে আনা একটু কস্ট হচ্ছে। তাই বলে ছোট্ট একটা বিষয়'কে ফাপিয়ে ফুলিয়ে কবিতার ঢঙ্গে বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করার কোন অবকাশ নেই। একটু ধৈর্য্য ধরলে অবশ্যই সুফল পাওয়া যাবে। পুরাতন ভূত ছড়িয়ে নতুন যাত্রায় একটু সময় লাগে। সুতরাং, অহেতুক বানোয়াট গল্প ফেদে কিছু একটা লাভের অপচেস্টার অবকাশ নেই।

ওয়েক আপ আন্ড স্মেল দ্যা কফি...

ওপরের সংবাদের হেডিংগুলো এবং খবরের সূত্রগুলা দেখুন। বাংলাদেশের প্রধান দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত সংবাদকে আপনি কল্প কাহিনী বলছেন? পশ্চিমা দেশে বসে এসব সংবাদ আসলেই 'কল্প কাহিনী' মনে হয়। দেশে গিয়ে থকুন বেশ কয়েক বছর, এসব 'কল্প কাহিনী' আপনার কাছে বাস্তব হয়ে আসবে।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla