Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা ঢাকা কলেজের শিক্ষকদের

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের যেন লাঞ্ছিত হতে না হয় সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষকেরা। তাঁরা বলেছেন, একটি কলেজের স্বাভাবিক ভর্তি কার্যক্রম চালাতে গিয়ে শিক্ষকেরা লাঞ্ছিত হবেন, সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ঢাকা কলেজের শিক্ষক পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় শিক্ষকেরা এ দাবি জানান। ছাত্রলীগ সমর্থিতদের তাণ্ডবে কলেজের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ এবং শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার কলেজ মিলনায়তনে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দিন আহমেদ।

এদিকে ঢাকা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান গতকাল প্রথম আলোকে জানান, দেশের প্রায় সব কলেজে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ঢাকার দুটি কলেজে কিছু শিক্ষার্থী ও বহিরাগত অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ করছে। এতে ভর্তি-প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত এবং ভর্তি-ইচ্ছুকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তাই এ দুটি কলেজে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। তবে এরই মধ্যে যাঁরা ভর্তি হয়ে গেছেন, তাঁদের এই আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই দুটি কলেজে ভর্তি-ইচ্ছুকদের nu.admission.info@gmail.com এবং info@nuadmission.com এই দুটি ই-মেইল ঠিকানায় ভর্তির রোল নম্বর, শিক্ষার্থীর নাম, মেধাক্রম, মেধাস্কোর, কলেজ কোড ও কলেজের নাম এবং পছন্দের বিষয়-সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে হবে। ই-মেইলের এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত বিষয় জানানো হবে। শিক্ষার্থীরা ওই বিষয়ে ভর্তি হতে চাইলে পুনরায় ই-মেইলের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে জানাবেন। পরে তাঁদের প্রয়োজনীয় ফি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা করতে হবে। এতে কোনো রকম মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে পরে ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজকে মেধাতালিকা অনুসারে ভর্তির জন্য পুনরায় অনুরোধ করা হয়েছে। এর কোনো ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে এবং এ জন্য কেউ দায়ী থাকবে না।

প্রতিবাদ সমাবেশ: ঢাকা কলেজে আয়োজিত গতকালের প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা নিগার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে স্বাভাবিকভাবে ভর্তি কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছিলাম। কিন্তু একটি গোষ্ঠীর বাধার কারণে সেটি হচ্ছে না। এর মধ্যে ২ ফেব্রুয়ারি ভর্তি কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার সময় শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা হয়। এটি ঢাকা কলেজের ইতিহাসে একটি কলঙ্কের দিন। আমরা এভাবে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই মহলটি শুধু শিক্ষকদেরই লাঞ্ছিত করেনি, যেসব মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি হতে কলেজে এসেছিল, তাদেরও মারধর করেছে। তাদের কাগজপত্র, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে যেন এমন আর না ঘটে, সে জন্য আমরা সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সুলতানা নিগার বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি এমন একটি পরিবারের সন্তান, যেই পরিবারে শিক্ষকদের সম্মান করার ঐতিহ্য আছে। কাজেই আপনার কাছে অনুরোধ, শিক্ষকদের মর্যাদা দিন।’ রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক চৌধুরী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক লাঞ্ছনার এই ঘটনার প্রতিবাদে আমরা আগামী তিন দিন কালোব্যাজ ধারণ করে কলেজে আসব।’ ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘কলেজে যে তাণ্ডব গত কয়েক দিনে হয়েছে, তাতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’ কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ শিক্ষকদের অনুভূতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, সরকার তাঁদের সব ধরনের সহায়তায় আশ্বাস দিয়েছে। এখন থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

ছাত্রলীগের বাধার কারণে ঢাকা কলেজের প্রথম বর্ষ সম্মানে ভর্তি-প্রক্রিয়া তিনবার বন্ধ হয়ে যায়। কলেজের শিক্ষকেরা জানান, ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এবার ভর্তি-প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই ৫০০ আসন দাবি করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি না মেনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে। এতে গত শনিবার ছাত্রলীগের কিছু নেতা ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীদের অস্ত্রের মুখে বাধা দেন। পরে তাঁরা কলেজে ভাঙচুর করেন। এ কারণে সে দিনের মতো ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রোববার আবারও ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতারা আবারও একই দাবি জানিয়ে অধ্যক্ষসহ সবাইকে হুমকি দেন। আবারও ভর্তি-প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় বাধার কারণে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

প্রথম আলো রিপোর্ট | তারিখ: ০৪-০২-২০১০

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla