Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ছাত্রজীবন, বাংলাদেশী ছাত্রজীবন

Bangladeshi Education
হতে পারে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়েছিলেন দেশ বিক্রীর মিশন নিয়ে, হতে পারে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া পুনঃক্রয় করে নেবেন বিক্রীত দেশ। ক্রয় বিক্রয়ের গ্যাড়াকলে বাংলাদেশ নামের একটা দেশ কতবার হাতবদল হয়ছে তার হিসাব স্বয়ং ঈশ্বরও রাখেন কিনা সন্দেহ আছে। তৃতীয় বিশ্বের লুটেরা গণতন্ত্রকে ভালবাসতে চাইলে আমাদের মেনে নিতে হবে বাংলাদেশ নামের একটা দেশ কেনাবেচার লাভজনক পন্য এবং তা পৃথিবীর বিভিন্ন পূঁজিবাজারে বিক্রী হচ্ছে চড়ামূল্যে। দেশ নিয়ে রাজনীতিবিদ্‌দের এই পুরানো বানিজ্য আমাদের জন্যে নতুন কোন চমক নয়। হতে পারে তাদের জন্যে এ হচ্ছে বেচে থাকার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, কিন্তূ আমার মত বাবুর হাটের পান-তামুক খাওয়া স্বদেশীর কাছে দেশের মালিকানা ব্যাপারটা কেবলই আদার বেপারী হয়ে জাহাজের খবর নেয়ার মত। তবে যে খবরটা জাহাজের খবর নয় তা হল, গতকাল ঘটে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নামের জনৈক ছাত্র(!) ক’মাস আগে জাতিয়তাবাদী ছাত্রদল নামের চৌকস সেনাদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন জনৈক মরহুম নেতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের মিশন নিয়ে। এ নির্বাচন সন্তূষ্ট করতে পারেনি সেনাদলের অনেক জেনারেল ও ব্রিগেডিয়ারদের। অভিযোগ, সেনাপতি টুকু নিজে এবং তার পারিবার মৌলবাদী সন্ত্রাসের সাথে জড়িত। তাই মৌলাবাদী সন্ত্রাষকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত শান্তিকামী গ্রীন জোনে ঢুকতে না দেয়ার পবিত্র দায়িত্ব নিয়ে সার্বক্ষনিক পাহাড়ায় দাঁড়িয়ে যায় জাতিয়তাবাদী সন্ত্রাস। আফটার অল জাতিয়তাবাদী সন্ত্রাস যে কোন মানদন্ডে মৌলবাদী সন্ত্রাসের চাইতে অধিকতর বৈধ ও গ্রহনযোগ্য। এমনই এক গ্রহনযোগ্য সন্ত্রাষে আহত হয়ে জাতিয়তাবাদী জেনারেল সুলতানউদ্দিন টুকু ঠাই নিয়েছেন হাসপাতালে।

বাংলাদেশী ইতিহাসের সাথে যাদের পরিচয় নেই তাদের হয়ত বুঝতে অসূবিধা হবে রাজনীতির মাঠে চর দখলের মত বিশ্ববিদ্যালয় দখল কেন এতটা জরুরী। বাংলাদেশটাই এ রকম, এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চর্চা হয় হাতিয়ার তত্ত্ব, গণতন্ত্রের উঠানে অনুষ্ঠিত হয় পরিবারতন্ত্রের ওরস মাহফিল। আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ত্ব, গণতন্ত্র, ইতিহাস, ভূগোল, পৌরনীতি, সবকিছুকে আগলে রাখার দায়িত্বে থাকতে হয় ছাত্রদের। উচ্চমাধ্যমিক পাশ, মা-বাবার মাসিক মাসোহারার উপর নির্ভরশীল ১৭/১৮ বছরের একজন যুবককে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেই লাভ করতে হয় গণতন্ত্র, সমাজতত্ত্ব, অর্থনীতি, ধর্ম, মুক্তিযুদ্বের ইতিহাস, রাজাকার তত্ত্ব সহ তাবৎ ভাল-মন্দের নবুয়ত। মরহুম নেতাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রদের নামতে হয় সঠিক ইতিহাস প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে, গণতন্ত্র নিশ্চিত করার যুদ্বে, রাজাকার নিধনের ঐতিহাসিক দায়িত্বে। মাল্‌টি ফ্রন্টে যুদ্ব চালাতে প্রয়োজন হয় পূঁজির। স্বভাবতই পূঁজির যোগার করতে ছাত্রদের নামতে হয় চাঁদাবাজী, ব্ল্যাকমেইলিং, হত্যা, ধর্ষনের মত ততোধিক পবিত্র কাজে। বাংলাদেশের তাবৎ ব্যবসা বানিজ্য ছাড়াও কমিশনের ধান্ধায় ছাত্রদের ঢু মারতে হয় পতিতালয় পর্য্যন্ত। এমন মহানুভবতার ছাইভস্ম হতেই জন্ম নেয় আমানুল্লাহ আমানের মত নতুন এক মহামানবের, যার উত্থানে বাংলাদেশ আলোকিত হয়, আলোকিত হয় তার শিক্ষা ব্যবস্থা, ধন্য হয় ছাত্রজীবন, ধন্য হয় রাজনীতি।

Future of Bangladesh!
ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক

এই একটা সত্য হজম করতে আমার কেন জানি কষ্ট হয়, বাংলাদেশী শিক্ষাংগনে নেতা/নেত্রীর সন্তানাদির অনুপুস্থিতি। এক নেত্রীর সুপার ট্যালেন্টেড সন্তান সুদূর মার্কিন মুলুকে লেখাপড়া শেষে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক হিসাবে। অন্য নেত্রীর দুই সন্তান আদৌ লেখাপড়া করেছেন কিনা কেউ বলতে পারেনা। শোনা যায় জাতিয়তাবাদের অকুতভয় সৈনিক জেনারেল নাজমুল হুদার দুই কন্যাসন্তান লন্ডনে লেখাপড়া করছেন মাসে ২০ লাখ টাকা খরচ করে। বাবুরহাটীয় রক্ত পানি করা অর্থে সন্তানাদি বিদেশ পাঠানো বাংলাদেশের বাস্তবতায় অকল্পনীয় ও অবাস্তব, যার কারণে একজন কৃষক তার সমস্ত সম্পদ বাজি রেখে সন্তানকে স্থানীয় স্কুল কলেজে পাঠায় নতুন দিনের আশায়। নতুন দিন আসে ঠিকই, তবে সে দিন হয় হতাশার, আশা ভংগের।

ছাত্রদের কাজ লেখাপড়া, পৃথিবীর দেশে দেশে এ প্রতিষ্ঠিত সত্য। পৃথিবীতে দ্বিতীয় এমন দেশ নেই যেখানে জাতীয় রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহ্রত হয়ে বলি হচ্ছে ছাত্রদের শিক্ষা জীবন। নেত্রীরা দেশ বিক্রী করে পারিবারিক পিকনিক করবেন তাতে জাতির বিশেষ কোন আপত্তি আছে বলে মনে হয়না, পথে পথে কাটা বিছিয়ে দেশ বিক্রী কন্টকাকীর্ন করলেও কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে হয়না। কিন্তূ জাতির মেরুদন্ড শিক্ষাকে পংগু করে দিনের পর দিন নেত্রী পূজাঁর বলি বানাতে হবে এমন একটা সত্য মেনে নিতে কোথায় যেন বাধা রয়ে গেছে।

Comments

পুলিশের সামনেই আসামির বৌভাত, দাওয়াতে খালেদা

Photobucket
নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সহিংসতায় পুলিশের করা মামলার আসামি কেবল প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ানোই নয়, জমকালো বৌভাত অনুষ্ঠানও করলেন। আর তাতে অংশ নিলেন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। তাঁদের নিরাপত্তায় সেখানে নিয়োজিত ছিল পুলিশের বিশেষ টিম। গোয়েন্দা টিমের উপস্থিতিও দেখা গেছে অনুষ্ঠানস্থলে। অথচ পুলিশের খাতায় এখনো তিনি পলাতক আসামি। গতকাল শনিবার রাতে এ অনুষ্ঠান হয় রাজধানীর ইস্কাটনের সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে।

বরবেশী এ আসামি হলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন। তাঁর দাওয়াত রক্ষায় বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া গতরাত পৌনে ১০টায় পেঁৗছেন সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে। তিনি অল্প কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। নতুন দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চলে যান। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতাও উপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা জানান, বৌভাত অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ও পুলিশি হয়রানি এড়াতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজার জানান, ২ নম্বর সেন্টারটি আনিসুর রহমান খোকনের নামে বুকিং দেওয়া ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর থেকেই পুলিশ দাবি করে আসছে, মামলার সব আসামি পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতার বাসায় পুলিশ হানা দিলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে রমনা জোনের ডিসি বিনয় কৃষ্ণ সাহা গতরাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কোনো আসামির বৌভাত অনুষ্ঠানের সংবাদ আমার জানা ছিল না। আর মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নির্ভর করে তদন্ত কর্মকর্তার ওপর।' গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক সংঘর্ষে মারাত্দক আহত হন ছাত্রদল সভাপতি সালাউদ্দিন টুকু, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কে এম সাইফুল ইসলাম, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম, এসি (রায়ট) আহাদুজ্জামান, কনস্টেবল ফিরোজ সহ অনেকে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ আটজনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করে। মামলার চার নম্বর আসামি আনিসুর রহমান খোকন। তবে বিএনপি ও ছাত্রদল মামলাটি হয়রানিমূলক বলে দাবি করে আসছে।
http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=single&pub_no=56&cat_...

দেখলাম...

দলীয় রাজনীতির সাফাই গাওয়ার চমৎকার প্রয়াস। ভিডিওর 'লালকুর্তাওয়ালা' বন্দুকধারী কোন নেত্রীর পদসেবক তা এখানে মূখ্য নয়, মূখ্য হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় রাজনীতির চোর, লুইচ্চা, বাটপার, হারামখোর, অশিক্ষিত, স্বশিক্ষিত, চাদাবাজ, লুটেরা নেতা-নেত্রীদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার সাংস্কৃতি। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম "লালকুর্তাওয়ালা" মজনু হাসিনা নামের দেওয়ানা। এই একটা ফ্যক্টরই কি বাংলাদেশের অন্য লাইলী খালেদা নামের দেওয়ানাদের পুত পবিত্র বানিয়ে ফেলে? আমাদের ভাল করেই জানা আছে তাদের আসল পরিচয়। বেরিয়ে আসুন এ চক্র হতে, তাকিয়ে দেখুন চারদিকে। পৃথিবীর কোন দেশে জাতীয় রাজনীতির নেতা-নেত্রীদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় শিক্ষাংগনে অস্ত্রবাজী করতে দেখা যায়না।

এসব ভিডিও একদলকে সাফ সুতরা বানিয়ে অন্যদলকে গন্ধময় করতে সহায়তা করবে ঠিকই, কিন্তূ তাতে আমাদের শিক্ষাংগনের সামগ্রিক সমস্যার কোন সমাধান হবেনা।

ছাত্রদলের কমিটিতে অছাত্রদের পুনর্বাসন

সমকাল প্রতিবেদক : নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের পরাজিত প্রার্থী তিনি। ছাত্রজীবন শেষ করেছেন প্রায় এক যুগ আগে। সেই চলি্লশোর্ধ্ব ছাত্রনেতা সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি মনোনীত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তারই সহপাঠী সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ। এজন্য ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে হাওয়া ভবনের সাবেক এই কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। অছাত্র এ দুই ছাত্রনেতাকে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। টুকু ও আলিম কমিটিকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন ছাত্রদলের একাংশের নেতারা। এছাড়াও ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ), ঢাবি শাখা ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় একটি অংশ টুকু ও আলীম কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

নতুন কমিটি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, কোনো ক্ষোভ থাকলে শিগগিরই তা নিরসন হয়ে যাবে। কমিটির সবাই কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ছাত্র। আগামীতে ছাত্রদের দিয়েই কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি জানান। নবগঠিত কমিটির সদস্যরা গত রাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। নবগঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির কেউই ছাত্র নন। এরা সবাই টুকুর অনুসারী। ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু এবং তার অনুসারীদের কেউ ৫ সদস্যের কমিটিতে স্থান পাননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাবুর অনুসারীরা। আহ্বায়ক কমিটির আদলে গঠন করা এ কমিটির মেয়াদ ৬ মাস। সূত্রমতে, প্রায় তিন মাস আগে কমিটি ঘোষণা করার জন্য সাবেক ৯ ছাত্রনেতার মতামত নেন খালেদা জিয়া। বেশিরভাগ ছাত্রনেতাই অপেক্ষাকৃত তরুণদের দিয়ে কমিটি গঠনের পক্ষে মত দিয়ে নামের তালিকা দেন। ওয়ান ইলেভেনের পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য তরুণ, ত্যাগী এবং যাদের মধ্যে এখনও ছাত্রত্বের গন্ধ রয়েছে তাদের কমিটিতে রাখার অনুরোধ জানান তারা। সাবেক ছাত্রনেতা আমান উল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন ও তাদের অনুসারী টুকু ও আলীমকে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আনতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। নবগঠিত কমিটি প্রসঙ্গে সাবেক এক ছাত্রনেতা বলেন, ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) অনেকবার বলেছি ছাত্রদলে পরিবর্তন আনতে। কিন্তু তিনি কথা শুনলেন না।

ছাত্রদল ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সমকালকে বলেন, 'সংসদ নির্বাচন করার পর কেউ ছাত্রদল সভাপতি হয়েছেন এমন নজির আর নেই। আর আলীম নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত। এই কমিটি আমরা মানি না। টুকু ও আলীমকে ঢাবি ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি।'
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু '৮৬ সালে এসএসসি পাস করে '৮৯-৯০ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রায় এক যুগ আগে তার ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। তার ভাই আবদুস সালাম পিন্টু ও মাওলানা তাজউদ্দিন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি। তবে এক সন্তানের জনক টুকু ওয়ান ইলেভেনের পর ছাত্রদলকে সংগঠিত করতে কাজ করেছেন। আর তারই মূল্যায়ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনও তাকে সভাপতি করার পক্ষে ছিলেন বলে জানা গেছে। সমকালকে টুকু বলেন, 'সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করব। সারাদেশে তৃণমূলের কমিটি গঠন শেষে আগামী বছর ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন সম্মেলন করার ইচ্ছা রয়েছে।'

আমিরুল ইসলাম খান আলীম '৮৬ সালে এসএসসি পাস করেন। তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ২০০৪ সালে তার জুনিয়র ছাত্রনেতা সালামের প্রেমিকার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে ঢাবির ১২টি হলের ১৯ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলীমের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহিত দেওয়া হয়। এ ধরনের নানা অভিযোগের কারণে ক্যাম্পাসে অনেকে তাকে সেঞ্চুরি মানিকের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বিবাহিত নাকি অবিবাহিত কেউই তা নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। ওয়ান ইলেভেনের পর নিষ্ক্রিয় ছিলেন। দলের সংকট মুহূর্তে নিজেকে আড়াল করে ফেলেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করার ব্যাপারে পটু আলীম।

সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবুল দুই সন্তানের জনক। কমিটি ঘোষণার অনেক আগে থেকেই ছাত্ররাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এর আগেও দু'বার কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ না থাকলেও সংগঠক হিসেবে বাবুল দক্ষ নন। যুগ্ম সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুলও সংগঠক হিসেবে দক্ষ নন বলে তার সহযোগীরা জানান। তবে ছাত্রদলের রাজনীতি তিনি সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের মুক্তির দিন যুবদল সভাপতি বরকতউল্লা বুলু এবং সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলনকে লাঞ্ছিত করার পেছনে সরাসরি তার ইন্ধন রয়েছে। তিনিও বিবাহিত। শিমুল '৮৮ সালে এসএসসি পাস করেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন না। জবির নির্বাচিত কমিটি গঠনের আগে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই করে তৃতীয় হন। পরে প্রভাব খাটিয়ে তিনি সাধারণ সম্পাদক হন। জবি ক্যাম্পাসে তাকে বেশিরভাগ ছাত্রনেতাই সুবিধাবাদী হিসেবে চেনেন। '৯৩ সালে এসএসসি পাস করেন তিনি। নবগঠিত ছাত্রদল কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের একাংশের বিক্ষোভ

টুকুকে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আখ্যায়িত করে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনের একটি অংশ গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বুড়ো-অছাত্রদের কমিটি মানি না বলে স্লোগানও দেন তারা। অন্যদিকে নতুন কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনন্দিত করেছেন সংগঠনের অন্য অংশের নেতারা। মধুর ক্যান্টিনে পুষ্পমাল্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় নয়া সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমকে। নতুন নেতৃত্বকে বরণ করে নেওয়ার কর্মসূচি শেষ না হতেই কমিটির বিরোধিতা করে বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের 'বাবু' ও 'ফিরোজ' গ্রুপের নেতাকর্মীরা। ঘোষিত পাঁচ সদস্যের কমিটিতে বাবু গ্রুপের কাউকে রাখা হয়নি বলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা। ফিরোজের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভ করেন। দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বঞ্চিত নেতারা বলেন, জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত টুকুকে কমিটি থেকে বাদ দিতে হবে। নতুন নেতৃত্বের সবাইকে বুড়ো-অছাত্র হিসেবে উল্লেখ করে কমিটি পুনর্বিবেচনার জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি অনুরোধ জানান তারা।

ছাত্রলীগের নিন্দা

অছাত্র, বয়ঃবৃদ্ধ, সন্তানের জনক, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, জঙ্গি সম্পৃক্ততায় অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা নিন্দা জানিয়েছেন। নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত। শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ছাত্রদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তারা বলেন, আমরা গভীর পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম অছাত্র, বয়ঃবৃদ্ধ, সন্তানের জনক, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, জঙ্গি সম্পৃক্ততায় অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাকে ছাত্রদলের সভাপতি করা হয়েছে সেই সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর এক সহোদর আবদুস সালাম পিন্টু ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কারাগারে আটক এবং অন্য সহোদর জঙ্গিনেতা মাওলানা তাজউদ্দিন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এমন একজনকে ছাত্রদলের সভাপতি বানিয়ে খালেদা জিয়া ছাত্ররাজনীতিতে জঙ্গি আমদানি করলেন। বিবৃতিদানকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা হলেন_ লিয়াকত শিকদার, নজরুল ইসলাম বাবু, বলরাম পোদ্দার, শাহজাদা মহিউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, মারুফা আক্তার পপি, সাইফুজ্জামান শিখর, জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, অসিত বরণ বিশ্বাস, বিশ্বনাথ সরকার বিটু, জাকির হোসেন মারুফ, অলোক বর্ণিক, কামরুল হাসান খোকন, মিরাজ হোসেন, সালাউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, মাসুদ হোসেন খান, মোঃ আলমগীর হাসান প্রমুখ।

চট্টগ্রামে আনন্দ মিছিল

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমসহ নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেছে চট্টগ্রাম মহানগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ থানা ও কলেজ ছাত্রদল নেতাকর্মী। গতকাল বিকেলে নগর ছাত্রদল সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তির নেতৃত্বে নগরীতে বের করা হয় একটি আনন্দ মিছিল। এতে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আহমদুল হক রাসেল, সহ-সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ, কাজী মনসুর, যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ আকবর, কামরুল ইসলাম, মাঈনউদ্দিন শহীদ প্রমুখ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি মোঃ ইলিয়াছের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একটি আনন্দ মিছিল নগরীতে বের করা হয়। বহদ্দারহাট থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি মুরাদপুর মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে মুরাদপুর চত্বরে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে চকবাজার থেকে বের করা হয় আরও একটি আনন্দ মিছিল।
http://www.samakal.com.bd/print_news.php?news_id=1796&pub_no=33

ঢাবিতে ছাত্রদলের গোলাগুলি, ছাত্রলীগের সশস্ত্র মহড়া

Mon, Jan 18th, 2010 12:37 pm BdST

ঢকা বিশ্ববিদ্যালয়, জানুয়ারি ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নতুন কমিটিতে জায়গা পাওয়া নিয়ে সোমবার বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের পদপ্রাপ্ত ও 'পদবঞ্চিত' নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

এসময় সরকারি দলের সমর্থক সংগঠন ছাত্রলীগও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ সম আরেফিন সিদ্দিক।

প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খান, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দীন টুকু ও শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা টুকু আহত হওয়ার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেছে।

সংঘর্ষের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষের পর ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী সশস্ত্র অবস্থায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে। সংঘর্ষ থামাতে কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। তবে প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ অনেককে দেখা গেলেও বরাবরের মতোই পুলিশ তাদের কাউকে আটক করেনি। সংঘর্ষের পর কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে পুলিশ শুধু একটি ককটেল উদ্ধার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারা ক্যাম্পাসে এলে কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে 'বিদ্রোহী' গ্র"পের কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। সেখানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে একজন বহিরাগত আহত হয়। পরে বিদ্রোহী গ্র"পের কর্মীরা প্রশাসনিক ভবন এবং জসিমউদ্দিন ও সূর্যসেন হলের আশপাশে অবস্থান নেয়।

সংঘর্ষের আগে ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ''উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমরা ক্যাম্পাসে যাব বলে সেখানে কর্মীরা সমবেত হচ্ছে। এক্ষেত্রে কেউ বাধা দিলে ছাত্রদল সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে তা মোকাবেলা করবে।''

অন্যদিকে বিদ্রোহী গ্র"পের নেতা ছাত্রদলের সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক আহসান উদ্দিন খান শিপন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ''নতুন কমিটি গঠনে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। ওই কমিটিকে আমরা ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তারা এলে প্রতিরোধ করা হবে।''

নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা মধুর ক্যান্টিন, কলাভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কাছে অবস্থান নেন। এ গ্র"পের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবুল, হায়দার আলী লেনিন, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জাভেদ হাসান স্বাধীন, সাইদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির।

বেলা ১০টার দিকে ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দীন টুকু ও সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান আলিম ক্যাম্পাসে ঢোকেন। এরপর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেওয়া তাদের সমর্থকরা মধুর ক্যান্টিনে জড়ো হয়। তারা একত্রে প্রশাসনিক ভবনের দিকে যেতে থাকেন। মল চত্বরে যাওয়ার পর আগে থেকে অবস্থান নেওয়া বিদ্রোহীরা তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তারাও পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু ককটেলও ছোড়ে। এসময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির আওয়াজও পাওয়া যায়।

ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পর উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। রড, কিরিচ নিয়ে তারা পরস্পরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ আট রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।

ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় টুকু ও আলিম উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাত করতে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে ছিলেন।

সাক্ষাত শেষে পৌনে ১১টায় তারা বের হয়ে এলে বিদ্রোহীরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় সভাপতি টুকু কলাভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পৌনে ১২টার দিকে কলাভবনের পেছনের ফটক দিয়ে তিনি বের হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশ গিয়ে তাকে ঘিরে রক্ষার চেষ্টা চালালে ছাত্রলীগ কর্মীরা পুলিশের বর্ম ভেদ করেই তাকে মারতে থাকে।

সংঘর্ষে ছাত্রলীগ

সংঘর্ষ চলার সময় সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি সাঈদ মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক তুহিনের সমর্থকরা বিদ্রোহীদের সমর্থন ও সাহায্য করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ বিষয়ে সাঈদ মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়াইনি। কিন্তু পুলিশ কোন্দলের সময় হলের দিকে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করায় আমরা ছাত্রদলকে প্রতিহত করেছি।"

খালেদা জিয়া একজন জঙ্গিকে ছাত্রদলের সভাপতি বানিয়ে ক্যাম্পাসে জঙ্গিবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, "সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রলীগ তা কখনোই মেনে নেবে না এবং প্রতিহত করবে।"

এরপর সূর্যসেন হল থেকে একটি সশস্ত্র মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। মিছিলকারীরা প্রকাশ্যে চাপাতি, রড, কিরিচ উচিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

সাঈদের দাবি, সংঘর্ষে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শওকত আহত হয়েছেন।

এদিকে নিজে আহত হওয়ার আগে সকাল ১০টার দিকে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম। তিনি তখন বলেন, ''পর্যাপ্ত পুলিশ ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে।''

ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ১৮ দিন ধরে ঘটে চলা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ধারাবাহিকতায় এটা ঘটেছে। এর সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

আহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কে এম সাইফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসনপাতাল, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও ঢাবি যুগ্ম আহবায়ক মহিদুল ইসলাম হীরু ইসলামি ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম-আহবায়ক মাসুদ খান পারভেজকে বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম কপালে ও কনস্টেবল ফিরোজ বুকে আঘাত নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম দাবি করেছেন, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবুল, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জাভেদ হাসান স্বাধীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম-আহবায়ক এস এম ওবায়দুল হক নাসির, মহিদুল ইসলাম হীরু, আবুল হাসান প্রমুখ আহত হয়েছেন।

হাসপাতালে শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, "রোববার রাত থেকে ছাত্রদলের বিদ্রোহীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে জানার পরই আমরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এক পর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে ছাত্রদলের দু' গ্র"প দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ছাত্রলীগও সেখানে সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় আমরা ছাত্রদলের সভাপতি টুকুকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম। টুকু আহত হন। সে সময় আমিও ইটের আঘাতে আহত হই।"

তিনি বলেন, "আজ (সোমবার) যে অস্ত্র দেখা গেছে পরবর্তী সময় এগুলো উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আমজাদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ছাত্রদলের সভাপতি, শাহবাগ থানার ওসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে আহতের সঠিক হিসাব আমরা এখনও পাইনি। সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের বিদ্রোহীরা মিলে টুকুর ওপর হামলা চালালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।"

তিনি জানান, অনেকগুলো ক্লাস হয়নি। তবে পরীক্ষা হচ্ছে।

পরিকল্পিত ঘটনা: উপাচার্য

সংঘর্ষের ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, "সাত সকালে ঘটা এ ঘটনার হোতারা অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এত সকালে ঘুম থেকে ওঠে না। ঘটনার সাথে জড়িতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। বহিরাগত হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।"

উপাচার্য বলেন, "ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।"

প্রভোস্ট কমিটির জরুরি সভা

এদিকে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনায় সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রভোস্ট কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করে। উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৭টায় সভার পর কবি জসীম উদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্খিত সংঘর্ষের ঘটনায় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে একটি মহল এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তারা মনে করেন।

হল প্রভোস্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে সভায় আহ্বান জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখারও পরামর্শ দেয় প্রভোস্ট কমিটি।

গত ১ জানুয়ারি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সভাপতি ও আমিরুল ইসলাম খান আলিমকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্র"প ওই কমিটিতে 'দুর্নীতিবাজ ও অছাত্রদের' স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এসএম/জিএমএ/এসকে/২৩৩০ঘ.

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla