বন্যেরা বনে সুন্দর...

Submitted by WatchDog on Saturday, October 10, 2026

ক্রিং ক্রিং ক্রিং...
আওয়াজটা এরকম না হলেও এর প্রায় কাছাকাছি। বাসায় ল্যান্ড ফোন নেই প্রায় দুই দশক... বলতে বাধা নেই মাঝে মধ্যে মিস করি চারদিকের নীরবতা ভেঙ্গে আঁতকে উঠা এ আওয়াজ। কে করতে পারে এ সময়ে ভেবে চিন্তিত হয়ে পরলাম। খারাপ কিছু না তো!

রাত প্রায় বারটা। এত রাতে নিশ্চয় স্থানীয় কেউ ফোন করেনি। ইস্ট কোস্টে ওরা দু'ঘণ্টা এগিয়ে, ওখান হতে কারও ফোন করার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
ভ্যানকুভার এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকলেও রহমানের সময় জ্ঞান আছে তাই তার ফোন করার সম্ভাবনাও কম। লন্ডনে এখন সকাল ৮টা। হাছান অনেক রাতে বিছানায় যায়, এত সকালে সাংঘাতিক কিছু না ঘটলে ফোন করার কথা না।

কলার আইডিটাও রহস্যজনক। সব বিবেচনায় ইগ্নোর করাটাই ছিল সমীচীন। কিন্তু সাতপাঁচ না ভেবে টিপ দিলাম রিসিভ বাটনে...
- সেলাম বড় ভাই।
- আপনাকে তো চিনতে পারলাম না
- আমি রিয়াজুল হাসান রাজু। রাজু কসাই নামে সবাই ডাকে। আপ্নেও এই নামে আমাকে চেনেন।
ভেতরটা ঠাণ্ডা হয়ে গেল নামটা শুনে। মেরুদণ্ড বেয়ে উত্তর মেরুর হিম প্রবাহ বয়ে গেল। আমাদের শহরের রাজু কসাই!

শহর যুবলীগের সহ সাধারণ সম্পাদক। পরিচয়টা যুবলীগের হলেও ঠাট্টা করে কসাই লীগের সভাপতি হিসাবে ডাকে অনেকে। রিয়াজুল তাতে রাগ করেনা, বরং এ নিয়ে সে গর্বিত।

অনেক ব্যবসার মত ইটার ভাটায় ইট পোড়ানোও তার একটা ব্যবসা। এই ইটের ভাটার অলিগলি ঘাঁটলে হারিয়ে যাওয়া অনেকের লাশ পাওয়া যাবে, এমনটাই তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মন্তব্য।
- আমার এখানে রাইত এখন অনেক। তা তুমি এখন কোথায়?
- আমি ভাই কলিকাতায়। শইলডা বেশি বালা না। প্রেসার। সাথে ডায়াবেটিকস। দুইদিন আগে ডেঙ্গু ধরছিল। এখন একটু বালা। তয় শইলডা খুব দুর্বল।
- তা কি মনে কইরা ফোন করলা? জরুরি কিছু? আমার নাম্বারডা পাইলে কেম্নে?
- হ ভাই, অবশ্যই জরুলি। একটা বিশেষ দরকারে আপ্নেরে ফোন করছি।

আলাপের বাকিটা রাজু কসাইয়ের মুখ হতে শোনাটা খুব জরুরি না।
তার মধ্যরাতের ফোন কলের সারমর্ম হচ্ছে:
ভারতে থাকা তার জন্যে বিপদজনক হয়ে পরছে। কি একটা ঝামেলা বেধে গেছে যার জন্যে স্থানীয় পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। গলার আওয়াজ হতে আন্দাজ করা গেছে নতুন কোন খুনের কেচ্ছা।

আমেরিকায় আসতে চায় রাজু কসাই। কোন পথে আসা যায় তার একটা হদিস দরকার। এ জন্যেই ফোন করা।
এমন প্রশ্নের উত্তর আমার মুখস্থ! আগেও অনেককে দিয়েছি, রাজু কসাইকে দিতে অসুবিধা হয়নি। উত্তর দেয়া আমার জন্যে ছিল বাধ্যতামূলক কারণ সময়ের পালাবদলে রাজুর হাতে চাপাতি কিরিচ বৈধ হয়ে গেলে সে আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজবে প্রতিশোধের জন্যে।

বৈধ-অবৈধ পথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকায় আসা এখন কতটা জটিল তা কিছুতেই মানতে চাইছিলনা এক কালের মাটি কাঁপানো এই যুবলীগ নেতা। তার একটাই কথা, চাইলে আমি নাকি সবই পারি!

সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশ হন্ডুরাস, এল সালভাদর অথবা গুয়েতেমালা হয়ে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকো পৌঁছানো সম্ভব হলে ওখান হতে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করে আমেরিকায় ঢুকা এখনও সম্ভব, আমার এ প্রস্তাবে রাগান্বিত হয়ে গেল রিয়াজুল হাসান রাজু ওরফে রাজু কসাই। আমি জানি হন্ডুরাসের তেগুসিগাল্পা অথবা এল সালভাদরের সান সালভাদরের নাম সে জীবনে শুনে নাই, অস্ত্রের মুখে মানুষকে পদানত করায় অভ্যস্ত একজনের কাছে এসব ঠাট্টা মনে হতেই পারে।
একটাই কথা তার, কাড়ি কাড়ি টাকা আছে তার কাছে যা দিয়ে চাইলে চাঁদে যাওয়াও সম্ভব।
রাগ আমারও আছে, বিশেষকরে মধ্যরাতে ফোন করে ঘুম ভাঙ্গানোর রাগ। আমিও কড়া ভাষায় উপদেশ দিলাম, আমেরিকা না, বরং চাঁদে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ।

আলাপচারিতার শেষ পর্যায়ে জিজ্ঞেস করে বসলাম মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন...ডিসেম্বরেই তো ফিরছেন শান্তির পায়রা, বিশ্বমাতা শেখ হাসিনা। নেতার দেশে ফেরা স্মরণীয় করতে সাথে যাচ্ছেন ভারত, আম্রিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক বাঘা বাঘা নেতা। ওরা যাচ্ছে নিজ নিজ দেশের ডিফেন্স ফোর্স নিয়ে। বিশ্বমাতাকে গণভবনে বসিয়ে তারপরই নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন সবাই। দুই মাসের ভেতর ফিরছেন আপা, ফিরছে তার ক্ষমতা। সাথে ফিরবে উজির নাজির কোতোয়ালের দল। এমন মোক্ষম সময়ের পূর্বক্ষণে আমেরিকায় হিজরত করার মোজেজাটা কি জিজ্ঞেস করতে রাজু কসাই গলে গেল। বদলে গেলে তার গলার আওয়াজ...
- ভাই আপ্নেও বিশ্বাস করেন এসব ভাঁওতাবাজি? আমি তো জানতাম রাজনীতির অনেক অলিগলির লগে আপনার জানাশুনা। তা জেনেও কি আপ্নে বিশ্বাস করবেন তাইনে ফিরবেন? আবার ফিরলেও ক্ষমতা ফিরা পাইবেন?
- তা ছোট ভাই দুই দিন আগে তুমিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৃদয় নিংড়ানো এক পোষ্ট দিয়ে জানিয়েছে তিনি আসছেন...
- তা দিসি সত্য, তয় পোষ্টের কারণ অনেকটাই ব্যক্তিগত।
- একটু বুঝাইয়া কও।
- আমার বৌরে আর মানাইতে পারতাসিনা। তার সাফ কথা, হয় দেশে ফের, অথবা তালাক দাও।
- তোমার তো অনেক ধনসম্পদ, তারপরও এমন কঠিন শর্ত কেন রে ভাই?
- আমার বৌডা আবার খুব সুন্দরী। সুসময়ে লীগের রাজনীতি করত। পয়সাকড়ি ছাড়াও আরও বহুদিকে নজর তার। হুনছি স্থানীয় এক শ্রমিক দলের নেতার আশ্রয়ে নিরাপদে আছে আপাতত। ঐ নেতা আমার ব্যবসা বাণিজ্য সহ সবকিছুর দখল নিসে। আমার বৌরে বিয়া করার চাপ দিচ্ছে। না করলে জেল-হাজতের ডর দেখায়। বৌ'রে শান্ত করতে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গল্প করি।

স্থানীয় মহিলা লীগের সুন্দরী আপা রাহেলা আক্তার রাহি ইতিমধ্যে যুবলীগের রিয়াজুল রাজুকে তালাক দিয়ে বিয়ে তথা রাজনীতির বাজারে নিজকে ব্যাচেলর পাত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। কসাই রাজু নিজের এই বিপর্যয়কে লুকানোর জন্যে আমার কাছে মিথ্যা বলেছিল। আসলে তার আসল উদ্দেশ্য ছিল রাহেলা আক্তার রাহির বর্তমান জগত হতে আরও অনেক দূরে সরে যাওয়া।
আমেরিকা হতে পারতো রাজুর জন্যে নিরাপদ এক আশ্রয়। কিন্তু এখানে অন্য এক সমস্যা, ডোনাল্ড ট্রাম্প!!!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন