J D, হাবিবি...
উপরের দুটো শব্দ আমাদের অনেকের কাছে অপরিচিত মনে হতে পারে; কারণ একটা ইংরেজি অন্যটা বাংলা লেখায় আরবী শব্দ। বাইরের পৃথিবীতে শব্দ দুটো অপরিচিত হলেও আমেরিকায় না। গোটা আমেরিকায় শব্দ দুটো এ মুহূর্তে সবার মুখে মুখে; বিশেষকরে রাজনৈতিক মঞ্চে।
জে ডি ভ্যান্স আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট। ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রানিং-মেট হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন, যদিও একসময় মিঃ ভ্যান্স ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বর্তমান যুগের হিটলার হিসাবে অভিহিত করেছিলেন। তবে এ লেখায় ওদিকে যাচ্ছিনা। সময় পেলে অন্য একদিন এ নিয়ে লেখা যাবে। জে ডি ভ্যান্সকে লেখায় টেনে আনছি অন্য কারণে।
মঙ্গলবার ৩রা নভেম্বর আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে সুনামি বয়ে গেছে। Blue (ডেমোক্রেটদের রঙ) ওয়েভে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে পরাক্রমশালী ট্রাম্পের রাজত্ব। উত্তর হতে দক্ষিণ, পূব হতে পশ্চিম দেশটার কোন দিকেই রিপাব্লিকানরা রেহাই পায়নি এ তান্ডব হতে। এ নির্বাচন আমেরিকায় অনেক নতুন মুখের জন্ম দিয়েছে, যার অন্যতম আবদুল আল সাইয়েদ। পুরো নাম আবদুল রহমান মোহম্মদ আল সাইয়েদ।
আমেরিকার রাজনীতি ও নির্বাচনকে গত ২৬ বছর ধরে খুব কাছ হতে লক্ষ্য করছি। এর নাড়ি নক্ষত্রের সাথে খুব কাছ হতে পরিচিত হয়েছি। নিজেও নাম লিখিয়েছি ডেমোক্রেটিক পার্টিতে। দলের শহর কমিটির সাথে কাজ করতে গিয়ে অনেকের সাথে পরিচিত হয়েছি, কাছাকাছি এসেছি। আমার সাথে পরচিত অপরিচত অনেকেই একমত আমেরিকান কংগ্রেসের আপার চেম্বার সিনেটে এ পর্যন্ত যত প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে এসেছেন আবদুল আল সাঈদ তাদের মধ্যে অন্যতম স্মার্ট সিনেটর।
নামটা অন্যরকম হলে তিনি সামনের প্রেসিডেন্টশিয়াল নির্বাচনে হতে পারতেন অন্যতম যোগ্য প্রার্থী, সাধারণ আমেরিকানদের অনেকেরই এমন মত। অনেকেই আবদুল আল সাইয়েদের মাঝে এক কালের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ওবামার মিল খুজে পান।
আবদুল আল সাইয়েদের সিনেট জার্নি খুব সহজ ছিলনা। ইসলামোফবিয়ার সুনামি বয়ে গেছে তার উপর দিয়ে। প্রথমে দলীয় মনোনয়ন (প্রাইমারি) পাওয়ার নির্বাচন, ও পরে ৩রা নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন।
AIPAC (American Israel Public Affairs Committee) এ দেশে ইসরাইল লবির এপি সেন্টার। এরাই দেশটার নির্বাচন নিয়ন্ত্রন করে থাকে। এ তালিকায় কংগ্রেস সদস্যদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টরাও থাকেন। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যায় করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়ী করে আনে এবং পরিবর্তীতে ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষা করতে বাধ্য করে।
এই বাধ্য করার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে নির্বাচনত্তোর বিজয়ী প্রার্থীদের বিনাখরচে ইসরায়েলে প্লেজার ট্রিপ, হানিট্র্যাপ ও ব্লেক-মেইলিং। দেশটার সবধরণের অপকর্মে মার্কিন সরকারের সমর্থন এভাবেই তারা নিশ্চিত করে থাকে। AIPAC'এর মূল ডোনার হচ্ছে দেশটার অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক ও মিডিয়া মোগল ইহুদি জনগুষ্টি।
প্রাইমারিতে আবদুল আল সাইদকে হারানোর জন্য AIPAC ৫৪ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল। মিশিগান অঙ্গরাজ্যকে আবদুল বিরোধী প্রচারণায় তলিয়ে দিয়েছিল। সন্ত্রাষী, ৯/১১'র টুইন টাওয়ার আক্রমনের সমর্থক, মুসলিম ব্রাদারহুডের অর্থ যোগানদাতা, চরম ইহুদি বিদ্বেশী, সহ এমন কোন অপপ্রচারনা নেই যা তারা করেনি। খোদ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন আবদুল নির্বাচনে পাশ করলে সিনেট কক্ষে প্রবেশের আগে তাকে মেটাল ডিটেক্টটর পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। অপপ্রচারণার শীর্ষে ছিলেন দেশটার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যন্স। ভ্যান্স হুমকি দিয়েছিলেন আবদুলের মার্কিন নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাকে তার পুর্বসূরীদের দেশ মিশরে পাঠিয়ে দেয়ার।
এসব নোংরামি সিনেটর ইলেক্ট আবদুল আল সাইয়েদ যেভাবে মোকাবেলা করেছিলেন এটা এখন গোটা আমেরিকা প্রশংসায় ভাসাচ্ছে। ৩রা নভেম্বরের নির্বাচনে AIPAC ৩৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল আবদুলকে হারাতে। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বিশাল ইহুদি গুষ্টিকে দাঁড় করাতে চেয়েছিল তার বিরুদ্ধে। খোদ ডেমোক্রেটিক পার্টিতে ভাঙ্গন ধরিয়ে নিশ্চিত করতে চেয়েছিল আবদুলের পরাজয়। কারণ AIPAC জানতো আমেরিকান সিনেটে একজন মুসলমানের পা রাখা মানে ইসরায়েল নামক দেশটার শেষের শুরু।
হরেক রকম বাধা, অপপ্রচারণার সমুদ্র আর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের সুনামি আটকাতে পারেনি আবদুল আল সাইয়েদকে। বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে সিনেট কক্ষে পা রাখতে যাচ্ছেন দেশের প্রথম মুসলিম সিনেটর।
নির্বাচনের রাতে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এ দেশের প্রার্থীরা নিজেদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে থাকেন। ৩রা নভেম্বর রাতে আবদুল আল সাইয়েদও দিয়েছিলেন। এবং ঐ ভাষণের এক পর্যায়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের উদ্দেশ্য কিছু বলেছিলেন, যার শুরুটা ছিল এরকম....
.. জে ডি, হাবিবি...