পলাতকা তিনি...

Submitted by WatchDog on Tuesday, June 16, 2026

প্রশ্ন কিছু থেকেই যায়। উত্তর কার কাছে চাইবো তারও কোন ঠিক ঠিকানা নাই। সবাই পলাতক।
আমার এলাকার ইউনিয়ন পর্যায়ের সামান্য এক সহ-সাধারণ সম্পাদক সেও পালিয়ে গেছে। শোনা যায় আগরতলায় কোন এক পরিত্যক্ত জঙ্গলে মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেশে তার স্ত্রী সন্তান আছে। আছে বৃদ্ধ মা-বাবা। সবাই তার আয়-রোজগারের উপর নির্ভরশীল। ক্ষমতার ভরা যৌবনে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার পুত্রবধূকে উঠিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করেছিল। বিচার চাওয়ায় তাদের ভিটেমাটি হতে উচ্ছেদ করেছিল। পুরানো পাপ তাড়া শুরু করেছিল নেত্রী পালানোর দিন হতে। এক বছর প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল দৃশ্যপট হতে।
কিন্তু কোথায় যেন কি ঘটল আর অমনি হুরমুর করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বীর বিক্রমে ফিরে এলো সময়ের আবর্তে হারিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সহ-সাধারণ সম্পাদক।

পলাতকের মা-বাবাকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে কোলকাতায় শুভেন্দু বাবুর ক্ষমতায়ন তাদের উজ্জীবিত করেছে। তাদের ধারণা বাবু তার নির্বাচনী ওয়াদা রাখবেন। গেরুয়া বাহিনী পাঠিয়ে বাংলাদেশ 'মুক্ত' করে নেত্রীকে বসিয়ে দিবেন সিংহাসনে। নেত্রীর ইদানীংকালের এক সাক্ষাতকার নাকি তারই ইঙ্গিত বহন করে।
জবাব দেয়ার কেউ নেই। সময়ও নেই, কারণ ওরা আছে প্রতিশোধ মুডে। কাকে কোথায় ধরবে, মারবে, জবাই করবে তার তালিকা প্রস্তুতে ব্যস্ত সবাই।
'৭১ সালের নয় মাসের প্রায় সবটাই কাটিয়েছিলাম গ্রামের বাড়িতে। ঐ অঞ্চলে বিদ্যুৎ আসতে তখনও ২০ বছর বাকি। সন্ধ্যা নামার সাথে রাতের খাবার সেরে নিয়ে কেরোসিনের কুপি নিভিয়ে দিনের ইতি টানতো গ্রামবাসী। এবং তখনই শুরু হতো শেয়াল রাজত্ব। গ্রামের শেষ প্রান্তে গোরস্তান। ওটাই ছিল ওদের ঠিকানা, অনেকটা আগরতলার জঙ্গলের মত। হয়ত নেতা গোছের কোন শেয়াল প্রথম ডাক দিত। তারপর ছয় তার ওয়ালা গীটারের মত বাকি শেয়ালরা গলা মেলাতো...হুঁকা হুয়া...হুক্কা হুয়া...
২৬'এর হুক্কা হুয়া শুরু হয় দিল্লী হতে আর গীটারের ছয় তার বাজে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক আর ব্রাসেলসের চোরাগলিতে!

প্রশ্নগুলো কিন্তু আমার খুব সহজ সরল। কেউ সামনে থাকলে প্রথমে জানতে চাইতাম,
- আর কতদিন এভাবে মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী সন্তানদের ফেলে বনে জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াবেন? সজীব জয় আর হাসান মাহমুদদের মত অংক না সরিয়ে থাকলে পকেট নিশ্চয় একসময় গড়ের মাঠ হয়ে যাবে, কি করবেন তখন?
- নেত্রী আছেন রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে। শোনা যায় প্রায়ই লন্ডন হতে বোন বেড়াতে আসেন। সুখ দুখের গল্প করেন। কোলকাতা হতে ইলিশ মাছ আনিয়ে পিকনিক করেন। দিল্লীর আকাশে চাঁদ উঠলে ঘরের বাতি নিভিয়ে স্বপ্ন জগতে ফিরে যান দুজনে। স্বপ্ন দেখেন গণভবনে ফিরে যাওয়ার।ভবনের সরোবরে জলকেলিরত হাঁস গুলোকে আদর করেন।
আটলান্টিকের ওপার হতে ছেলে ফোন করে জানতে চান রাতের মেনুর খবর। ব্রাসেলস হতে হাসান মাহমুদ, সিঙ্গাপুর হতে আজিজ খান ফোন করে খোঁজ নেন দুপুরে মুরগী না কবুতরের মাংস ছিল।
কিন্তু আগরতলার জঙ্গলে কে কাকে ফোন করবে! যারা করবে তারা শুধু কষ্টের কথা জানাবে। অর্থ কষ্ট, বেঁচে থাকার যন্ত্রণা সহ নানাহ কষ্ট।
সরিষা ইলিশ আর কবুতরের মাংস দিয়ে আহার সেরে তিনি যখন মাঠে নামার ডাক দেন আগরতলার জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা সহ-সাধারণ সম্পাদকের মগজে কি একবারও ধাক্কা দেয়না প্রশ্নটা, এখানে আমি কি করছি?
- ফেরার দুই ঘণ্টার ভেতর এয়ারপোর্ট দখলের যে হাইপ রাজত্ব করছে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার মগজ কি একজনেরও নেই? অষ্টম শ্রেণী ফেল হতে শুরু করে সুদূর কেমব্রিজে পিএইচডি করা দলদাসদের একজনেরও কি চিন্তা করার মগজ নেই এ রকম আকাশ কুসুম সম্ভাবনা নিয়ে? যারা ক্ষমতায় আছে তারা কি এতটাই অসহায় যে তিনি এয়ারপোর্টে নামবেন আর তেনার আণ্ডা-বাচ্চার তা দখল করে নেবে? বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ও দলের অনেক ভুল আছে, অন্যায় আছে, কিন্তু দিন শেষে তারা গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত হয়ে এসেছে। এবং সে নির্বাচনে দেশের কোটি কোটি মানুষ অংশগ্রহণ করে রায় দিয়েছে।
সে নির্বাচন দিনের ভোট রাতে হয়নি, হয়নি আমি তুমি আর ডামির ভোট।
তিনি ফিরলে নির্বাচিতরা ভয় পেয়ে ক্ষমতা হতে সরে যাবে এমন বিশ্বাসের গোঁড়া নিয়ে কেউ কি ভেবে দেখছেন?
উনার ঈশ্বরীয় ও বায়বীয় ক্ষমতার ভিত্তি ছিল সশস্ত্র পুলিশ। নির্বাসন হতে ফিরে এলে এই বাহিনীর সবাই কি তেনাকে আদর-যত্ন করতে এয়ারপোর্টে হাজির হবে? ক্ষমতার সমীকরণ কি এতই সোজা? এতই সস্তা? তিনি আসবেন আর কয়েক ঘণ্টার ভেতর এয়ারপোর্টের দখল নিয়ে শুরু করবেন প্রতিশোধ পর্ব, ক্ষমতাসীনরা তখন কি পাছায় বদনা আর মুখে আঙ্গুল চুষে জয়বাংলা মাতম করবে? খোয়াব দেখতে যেমন পয়সা লাগেনা তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় হাইপ তুলতেও আগরতলার জঙ্গল হতে বেরিয়ে আসতে হয়না। বাস্তবতা বড় কঠিন, বড্ড জটিল ও নির্মম।
নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামী লীগের পতন হয়ে গেছে। গণহত্যার দায় নিয়ে দলের আণ্ডাবাচ্চা হতে শুরু করে রুই-কাতলরা পর্যন্ত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দেশের মানুষ তাদের ঝেটিয়ে বিদায় করেছে। রক্তের দাগ শুকানোর আগেই যারা এয়ারপোর্ট দখলের খোয়াব দেখছেন তাদের বলবো মানিক মিয়া এভিনিউর সংসদের দিকে চোখ রাখতে। ওখান হতে আপনাদের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ না হওয়ার পর্যন্ত আগরতলার জঙ্গল, দিল্লীর জোৎস্নাভরা রাত আর ব্রাসেলসের ব্যস্ত পথঘাটই হবে আপনাদের ঠিকানা। পেরিয়ড।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন