চপ্পুর বিদায় ও তারেক জিয়া...

Submitted by WatchDog on Friday, July 24, 2026

বয়স হওয়ার সাথে শুনে আসছি এক গালে চড় মারলে যিশুখ্রিস্ট নাকি অন্য গাল বাড়িয়ে দিতেন আরও একটা চড়ের জন্য। বড় হয়েছি গৌতম বুদ্ধের বাণী শুনে... অহিংসা পরম ধর্ম। মাদার তেরেসাকে দেখেছি ভোগ বিলাসের জীবন ত্যাগ করে কোলকাতার ছিন্নমূল মানুষের সেবা করতে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া কি গৌতম বুদ্ধের শিক্ষায় উদ্দীপ্ত হয়ে যিশুখ্রিস্ট বনে দেশ শাসন করতে চাইছেন? অবস্থাদৃষ্টে তো তাই মনে হচ্ছে।

কথিত আছে সুযোগ পেয়ে সেনাবাহিনীর কতিপয় জেনারেল তারেক জিয়াকে দু'হাত বেধে সিলিং'এ ঝুলিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে নিজেদের আক্রোশ মিটিয়েছিল। কিছুদিন আগে সাংবাদিকরা এ প্রসঙ্গ টেনে উনার মতামত জানতে চাইলে অনেকটা গৌতম বুদ্ধের কায়দায় উত্তর দিয়ে বলেছিলেন, মৃত মা বেঁচে থাকলে নাকি প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের পথে যেতেন না। তাই তিনিও যাবেন না সে পথে।
অতি উত্তম সিদ্ধান্ত!

তাহলে এখন কেন চপ্পুকে বিদায় করা? যীশুর পথে হাটতে গেলে অনেক কিছুই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হয়। চাইলে তাকেও তো ক্ষমা করা যায়! অন্তত এমন ইশারাই তো ক্ষমতা আরোহণের ঊষালগ্নে দিয়েছিলেন। অন্তরের অন্তঃস্থল হতে মুসাবিদা করেছিলেন। প্রেমাসক্ত হাসি বিনিময় করে নিশ্চিত করেছিলেন চপ্পুর টিকে থাকা।
গণেশ কি উলটে গেলে দিল্লিতে করা একটা ফোন কলে?

গায়ে ১৪০০ খুনের রক্ত নিয়ে আপা কি এমনি এমনি ডিসেম্বরে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন? উনি কি এতটাই পাগল যে আয়োজন না সেরে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে আসবেন? যে মহিলা বিপদের গন্ধ পেলে হাগুমুতু না করেই দেশ হতে পালায় সে ফিরবে ফাঁসির মঞ্চে, আমরা কি ছাগলের ৩নং বাচ্চা যে এসব বিশ্বাস করবো?

অসুখের ভান ধরে সরকারী অর্থে লন্ডন গিয়ে কেনাকাটার ফাঁকে নিজের আসল প্রভুর সাথে যোগাযোগটা নিশ্চয় দৈব কোন ঘটনা ছিলনা। এ ছিল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ফিরে আসার ওয়েল কো-অর্ডিনেটেড প্লানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উত্তর পাড়ার জলপাই রঙের পোশাকের নীচে লুকিয়ে আছে এ প্লানের সূতিকাগার। জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান আর চুপ্পুর যৌথ প্রযোজনায় সীমান্তে রক্তাক্ত হাঙ্গামা বাধিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে জরুরি অবস্থা জারী করা ছিল প্লানের অংশ। পলাতক আওয়ামী বাহিনী লাগাতার বলে আসছে তাদের নেত্রী যেদিন ফিরবে ৫ কোটি কিন্তা-কুন্তির দল নিয়ে তারা স্বাগত জানাবে। একধাপ এগিয়ে সিলেটের পলাতক মেয়র বলছেন ১০ বিমান ভর্তি করে দেশে ফিরবে ম্লেচ্ছের দল। জনাব তারেক জিয়া কি এসবের কোন কিছুতে বিপদের গন্ধ পান না?

বিপ্লবের পর পর লুটেরা ও গণধিকৃত ৮৫০ জন আওয়ামী নেতাকে কারা ঠাঁই দিয়েছিল, কেন দিয়েছিল এবং কোন পথে বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল তার উত্তর পাওয়া কি তারেক জিয়ার জন্যে জরুরি ছিলনা? নাকি এখানেও তিনি যিশুখ্রিস্টের ভূমিকা পালন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

জুলাই বিপ্লব নিয়ে রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপির বেশকিছু রিজার্ভেশন আছে। তারা দলবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়নি। বিপ্লবের সাফল্যে তাদের কোন ভূমিকা নেই। তাই বিপ্লবকে গ্লোরিফাই করার প্রসঙ্গ আসলে তারা লজ্জা পায়। বেড়াল যেমন মল ত্যাগ করার সময় চোখ বন্ধ করে ভাবে কেউ তাকে দেখছে না তেমনি বিএনপিও আন্ধা বোবা বনে জুলাইকে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করে।

২৪'এর জুলাইকে বিএনপি কবর দিতে চাইলে আওয়ামী লীগ তা হতে দিবে এমনটা ভেবে থাকলে তারেক জিয়া গং ভুল করবে। গত ৫০ বছর ধরে আওয়ামী নামের যে দানব এ দেশের লতায় পাতায় বেড়ে উঠেছে কেবল চোখ ফিরিয়ে নিয়ে তাদের কবর দেয়া যাবে এমনটা ভেবে থাকলে তারেক জিয়া স্বপ্ন দেখছেন। আওয়ামীরা সেই দানব যারা প্রকাশ্য রাজপথে জীবন্ত মানুষকে লাশ বানিয়ে তার উপর নেচে গেয়ে উল্লাস করতে অভ্যস্ত। সুযোগ পেলে তারা আবারও ছোবল মারবে। খোদ তারেক জিয়াকে রাস্তায় ঝুলিয়ে ছেড়ে দেবে হায়েনাদের হাতে। উপর হতে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এমন হুমকিই দিনরাত দিয়ে আসছে। এসব হুমকি হালকা ভাবে নিলে ভুল হবে।

ইউনুস মাষ্টার ও তার প্রশাসন দেড় বছর চপ্পুকে এক কথায় গৃহবন্দী করে রেখেছিল। নিশ্চয় তার পেছনে যথেষ্ট কারণ ছিল? জিয়া প্রশাসন কি ঘেঁটে দেখেছিল এর কারণ? বোধহয় না। তা করলে অনেক আগেই চপ্পুকে বিদায় নিতে হতো। এই আওয়ামী কুকুর বঙ্গভবনে বসে নিশ্চয় ২৪/৭ ব্যস্ত ছিলেন আসল প্রভুকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রে।

মার্ক্সীয় দর্শনের উত্তরসূরি ভ ই লেনিন, স্তালিন, মাও সে তুং ভাল করেই জানতেন বিপ্লব করা যতটা সহজ ততটাই কঠিন তাকে টিকিয়ে রাখা। তাই তাদের কেউ প্রতিপক্ষকে ক্ষমা করেনি। নির্মম ও কঠিন হস্তে দমন করেছিল কথিত বুর্জুয়া ও প্রতিবিপ্লবীদের। তারকে জিয়া কোন দর্শনে দেশ শাসন করতে চাইছেন তা তিনিই ভাল জানেন। তবে আওয়ামী লীগকে জিইয়ে রেখে কুসুম কুসুম ভালবাসা দিয়ে দেশ চালাতে চাইলে তিনি হোঁচট খাবেন। একটা সত্য দেশের বাকি রাজনৈতিক দলকে মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ কোন রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র। এস আলম গং'কে শেখ হাসিনা এমনি এমনি ব্যাংক লুট করতে দেয়নি। দিয়েছিল আপদ-কালীন অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্যে।

লন্ডনে বসে চপ্পুর দিল্লীতে জল্লাদ হাসিনাকে ফোন কল কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এ ছিল একটা অর্গেনাইজড নেটওয়ার্কের ফলোআপ কল, যার সাথে জড়িত একদিকে খোদ চপ্পু, ওয়াকার, অন্যদিকে এস আলম গং ও শিলং আহমেদ।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন