আমার ময়না টিয়া...

Submitted by WatchDog on Wednesday, July 22, 2026

আমার ময়না টিয়া
আগুন মাসে ধান কাটিয়া করমু তোমায় বিয়া...
জামাতি নেতা বলছেন তিনি বিয়ে করা স্ত্রীকে নিয়ে ওখানে গিয়েছিলেন। তেনার জন্যে আগুন (ফাল্গুন) মাস আগেই এসেছিল এবং যা কাটার তা কেটে বিয়েও করে ফেলেছেনে। বিয়ের পক্ষে সাফাই গাইতে তিনি বিভিন্ন ডকুমেন্টও হাজির করছেন। আসলেই কি এসবের প্রয়োজন ছিল?

দু'জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ তাদের মনের ও শরীরের চাহিদা মেটাতে সরকারী ও সামাজিকভাবে বৈধ যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন তাতে তৃতীয় কারও গাত্রদাহ হওয়ার কথা না। জামাতি নেতার বেলায় গাত্রদাহ হচ্ছে এবং হওয়াটা বৈধ কারণ তিনি ধর্মীয় রাজনীতি করেন এবং নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন ধর্মীয় শাসন অনুশাসনের ছত্রছায়ায়। আমাদের ধর্মে ৪ বিয়ে বৈধ, তারই সুযোগ নিতে চাইছেন সাতক্ষীরা ৪ আসনের জামাতি এমপি জনাব গাজী নজরুল ইসলাম।

ধর্মীয় বয়ান দিয়ে নিজ এলাকার ভোটারদের মন জয় করে তিনি সংসদ সদস্য হয়েছেন। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ইসলাম ধর্ম কিভাবে দেখে এবং এর শাস্তি কি তা নিয়ে নিশ্চয় তিনি বয়ান করে থাকবেন। এখানেই ভদ্রলোকের প্রথম অপরাধ, ভোটারদের সাথে প্রতারণা। একই অপরাধ আফগানিস্তানের মত ধর্মীয় শাসনের দেশে করলে এমপির কাউন্টার পার্টকে গর্তে পুতে পাথর মেরে হত্যা করা হত। খোদ এমপি পেতেন প্রকাশ্য দিবালোকে বেত্রাঘাত। এমন একটা সমাজ প্রতিষ্ঠার রাজনীতিই তো তিনি করছেন।

গাজী নজরুল ইসলাম যে বিবাহিত স্ত্রী নিয়ে কোয়ালিটি সময় কাটাতে নির্জন জায়গায় যাননি তা দিনের আলোর মত স্পষ্ট। নিজের করা অন্যায় বুঝতে পেরে তা ঢাকার জন্যে এখন বিয়ের আশ্রয় নিচ্ছেন। আশ্রয় নিচ্ছেন ডকুমেন্ট জালিয়াতি করার প্রতারণায়। এটা উনার দ্বিতীয় অপরাধ। এর আগেও দেশের অন্য এক বুজুর্গ হুজুর একই কাজ করেছেন এবং প্রচলিত পথে বিবাহিত স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে পার পেতে চেয়েছেন।

হুজুরদের জন্যে বহু বিবাহ কাজটা খুব সহজ একটা কাজ, কারণ তাতে ধর্মীয় এপ্রুভাল আছে। সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশের অনেক বিত্তবান শেখরা ভারতে এসে এক রাতের জন্যে মুতা বিয়ে করে নারীদের বিছানায় নেয়। তাতে সবকুল রক্ষা হয় তাদের। বাংলাদেশের ধর্মীয় লেবাসে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এ বিষয়টার দিকে নজর দিয়ে সংসদে একটা আইন পাশ করানোর চেষ্টা করা উচিত। আমি নিশ্চিত প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের অনেক সদস্য এই আইনকে সমর্থন করবে নিজেদের স্বার্থে।

আমরা যারা রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে দেশের পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করতে যাই না তাদের জন্য এ ধরণের ঘটনা কোন ঘটনা হওয়ার কথা না। আমি আমার স্ত্রী অথবা বান্ধবীকে নিয়ে যেখানে খুশি যাব তাতে ব্যক্তি যদু মধু রাম শ্যাম অথবা রাষ্ট্রের মাথা ব্যথা হওয়ার কথা না। দেশে এমন কোন আইন নেই যা দিয়ে এসব মেলামেশার শাস্তি দেয়া যাবে।

দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জৈবিক চাহিদা তার জন্মগত প্রাপ্তি। এ প্রাপ্তি মেটানোতে সামাজিক কিছু রেডলাইন থাকলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন করে তা সীমিত করার সুযোগ নেই। আমার শয়নকক্ষ আমার নিজের। চার দেয়ালের ভেতর আমি কি করবো তা নান অব ইউর বিজনেস। দেশে শরিয়া আইন চালু থাকে তাহলে অন্য কথা। বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে এমন আইন চালু নেই।

আমার ও আমার স্ত্রী অথবা বান্ধবীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে যারা সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের দাবি তুলছেন এ ক্ষেত্রে তারাই মূল কালপ্রিট। গোপনে ছবি ও ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা ঘোরতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যারা এমন কাজ করে সমাজকে কলুষিত করছেন তাদের শাস্তি হওয়াটা জরুরি।

সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজি নজরুল ইসলাম যদি নিজের ধর্মীয় মূল্যবোধকে জৈবিক চাহিদার উপরে স্থান দিতে চান তাহলে উচিৎ হবে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে সংসদ হতে পদত্যাগ করা।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন