দাঁড়ান, এই আপনি এখন যা বলছেন তার সাথে তো ক'দিন আগে বলা কথার কোন মিল খুঁজে পাচ্ছিনা। কোথা হতে এলো এই পরিবর্তন? নিশ্চয় কিছু ঘটেছে ইনবিটুইন?
খুলে বলবেন কি আপনার এই পরিবর্তনের হেতু?
এই তো সেদিনই অভিযোগ করলেন তল্পি তল্পা নিয়ে বিদেশ যাওয়ার আগে পুলিশ বাহিনী আপনাকে ও আপনার পরিবারের সবাইকে কতটা হেনস্তা করেছে। বললেন পুলিশের ঘুষ খাওয়ার কাহিনী। এই পুলিশের কারণে গোটা দেশের গুষ্টি উদ্ধার করলেন। সুযোগ পেলে কুত্তার মত পেটানোর কথাও বললেন... অথচ আজ বলছেন অন্য কথা!
চাকরিতে পুলিশের মৃত্যু কোন অস্বাভাবিক ঘটনা না। নিয়োগপত্রে সই করার আগে এমন একটা সম্ভাবনার কথা চিন্তা না করে যারা সই করে ধরে নিতে হয় তাদের পুলিশের স্কোপ অফ ওয়ার্ক সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। আওয়ামী ১৭ বছর কোন পরিচয়ে পুলিশ বাহিনীতে চাকরি দেয়া হয়েছে তা উৎঘাটন করতে সিআইএ অথবা মোসাদ এজেন্ট হওয়ার দরকার হবেনা। ২৪'এর গণঅভ্যুত্থানে আসলেই যদি পুলিশের পোশাকে কেউ প্রাণ হারিয়ে থাকে তারা ছিল ছদ্মবেশী আওয়ামী। ছাত্র-জনতাকে দমনের উদ্দেশ্যে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। মাটিতে সাঁজোয়া যান আর আকাশে হেলিকপ্টার উড়িয়ে গুলি চালিয়েছিল।
যুদ্ধের মাঠে কেবল একপক্ষ মারবে আর অন্যপক্ষ মার খাবে এমন সোগা মারা তত্ত্ব আপনি কোথায় পেলেন? আপনি বলছেন ২৪'এর উত্তাল দিনগুলোতে কয়েক হাজার পুলিশ প্রাণ হারিয়েছে। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেই আপনার সংখ্যা সঠিক তাহলে প্রশ্ন জাগবে,এ কেমন পুলিশ যাদের হাতে ছিল আধুনিক অস্ত্র অথচ প্রাণ হারাল নিরস্ত্র জনতার হাতে? এর অর্থ আওয়ামী লীগ তার পুলিশ বাহিনীকে সঠিক ট্রেনিং দিয়ে তৈরি করেনি এ দিনটার জন্যে! অথবা তাদের জন্যে বরাদ্দ করা তহবিলও তারা মেরে দিয়েছিল!
চলুন ইতিহাসের মেঠো-পথ ধরে ১৯৭১ সাল হতে ঘুরে আসি। আপনি যেহেতু চেতনার বহুমূত্র রুগী তাই ৭১ হতে পারে আপনার জন্যে এফেক্টিভ ইনসুলিন।
ঐ সময়ও দেশে পুলিশ ছিল। পাকিস্তানী পুলিশ। গেরিলারা গোপন অপারেশন চালিয়ে দখলদার পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করতো। তখনও আপনার মত কেউ কেউ পুলিশ হত্যার বিচার নিয়ে সোচ্চার ছিল। ঐ একই পুলিশের হাতে নিরপরাধ নিরস্ত্র মানুষ খুনের রক্ত ছিল তাদের বিচারে ইসলাম রক্ষার পাক-পবিত্র রক্ত। ইতিহাসের এ প্রান্তে এসে আওয়ামী পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়ার মাধ্যমে আপনি জানান দিচ্ছেন একটা দল ও ব্যক্তি বিশেষের প্রতি আপনার লয়্যালটি। এক অর্থে আপনি রাজাকার। ২০২৪'এর রাজাকার। গণহত্যার দোসর।
এবার আসি আপনার দ্বিতীয় বয়ানে।
আপনি ইউনুস মাষ্টারের ঘোর বিরোধী কারণ তার নেতৃত্বে ইন্টেরিম সরকার দেড় বছরে দেশে মব রাজত্ব কায়েম করছে এমনটাই আপনার অভিযোগ। তার মানে ইন্টেরিম আসার আগে দেশে মব বলতে কিছু ছিলনা তাইতো বলতে চাইছেন? আপনার ক্ষয়িষ্ণু স্মৃতি শক্তিতে যদি মক্কা-মদিনার পানি ঢালি অলজাইমার হতে কি মুক্তি পাবেন কি? যদি পান তাহলে চলুন এ যাত্রায় ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঢাকায় ঘুরে আসি।
আমেরিকার বন্য পশ্চিমে মববাজি্র সাথে আমাদের পরিচয় হলিউডের কাউবয় সিরিজের মুভি হতে। শত শত বছর আগের ঐ বন্যতার কোথাও কি দেখেছেন দলবেঁধে দুর্বল কাউকে হত্যা করে মৃতের লাশের উপর নাচতে? আপনি যাদের হয়ে দালালি করছেন তাদের ইতিহাসে আছে এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের অধ্যায়। ওরা দিনের আলোতে পিটিয়ে মানুষ খুন করে থেঁতলানো লাশের উপর শকুনের নাচ নেচে উল্লাস করেছিল। এটাকে আপনি কি বলবেন, দেশপ্রেম? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রেম? নাকি মব?
মবের শিকার হয়ে কজন প্রাণ হারিয়েছিল ইন্টেরিমের আমলে? এক শ? দুই শ? এক হাজার? ভুলে গেলেন আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক কি ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন? ক্ষমতা হারানোর প্রথম প্রহরে লাখ খানেক নিহত হওয়ার ভয় করছিলেন তিনি। কজন প্রাণ হারিয়েছিল ইন্টেরিম আমলে?
মব ইউনুস সরকার প্রচলন করেনি। এ দেশে মবের জন্ম দিয়ে যে দল লালন পালন করে লতায় পাতায় বেড়ে উঠায় ভূমিকা রেখেছে তার নাম আওয়ামী লীগ। আপনি ১৭ বছর অবৈধ পথে ক্ষমতা ধরে রাখবেন, গুম খুনের অভয়ারণ্য সৃষ্টি করবেন, লুটে পুটে নেংটা করে ফেলবেন দেশের অর্থনীতি সে দেশের মানুষ আপনার বিদায়ে ফুলের মালা দিয়ে জামাই আদর করবে এমনটা ভেবে থাকলে আপনি সভ্যতা বিবর্তনে ইতিহাসের উপর নূন্যতম জ্ঞান রাখেন না।
পুলিশের জন্যে আপনার মায়া! আর ইউ কিডিং মি! আপনার সমস্যা কথিত পুলিশ হত্যা না, সমস্যা কোথায় তা আপনি যেমন জানেন আমিও জানি। পুলিশকে ঢাল বানিয়ে আপনি নিজের দেউলিয়াত্ব, দাসত্বকে আড়াল করতে চাইছেন কেবল। মূল সমস্যা সমাধানেরও দাওয়াই আছে আমার কাছে...
এক বাটি মুড়ি নেন, সাথে নেন সরিষার তেল, পেয়াজ আর ঝাল মরিচ। এবার শক্ত করে কচলিয়ে ভেতরের ঝাল বাইরে এনে ফেলুন...সাথে ধরুন সময়োপযোগী একটা গান...
এ জীবন শেষ হয়না তোমায় ছাড়া ভাল্লাগেনা
সবকিছু আন্দাইর লাগে বেঁচে থাকার কি যন্ত্রণা...
হয়ত ওপার হতে তিনিও গানে গানে উত্তর দেবেনঃ
আমারে পরলে মনে তুমিও কাইন্দো গোপনে
সুখে থেক প্রাণের প্রিয় আমার ভালবাসা নিও...