সুযোগ পাইলেই বাংলাদেশের মানুষ কেন পুলিশ পিটায় তার লোভনীয় একটা উদাহরণ রাইখ্যা গেল চিটাগাংয়ের পুলিশ। জাতীয় দলের এক ক্রিকেটাররে পিটাইছে তারা। মেল্যা রাইতে বিমানে কইরা আইয়া স্কুটারে কইরা ঘরে ফিরা যাইবো অথচ পুলিশের কাফফারা দিবোনা, বাংলাদেশে কোন মার পুতের এত বড় সাহস!
ঘটনা ৩৩ বছর আগের (কম বেশী হইতে পারে)। মাঞ্জা মারা যুবক আমি। কেবল চাকরির বাজারে না বিয়ার বাজারেও কাটতি সন্তুষজনক। নাট্য জগতের উঠতি এক নায়িকার লগে ভাবসাব। রোজার শেষ প্রায়। তেনার জন্যে ঈদের কেনাকাটি সাইরা দুইজনে গেলাম সংসদ ভবনের চত্ত্বরে। জোৎস্না রাইত। চান্দের ঝলমলে আলোয় ভাইস্যা গেছে ভবনের আঙ্গিনা। মায়াবি ভাব চাইরদিকে।
ফুচ্চুত কইরা বাইর হইলেন তিনি। মাথা গুলিস্তানের মাফলার দিয়া আটকানো। কান্ধে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ৩০৩ রাইফেল। মুখে লাল রক্ত। পান চিবাইচ্ছেন। পুলিশ!
- আপনে ধরা খাইসেন।
- ধরা খাইসি, কি কন আপ্নে?
- হ, আপনে ধরা খাইসেন। এত রাইতে বাজারের বেটি লইয়া ঘুরাফেরায় ধরা খাইসেন। দেশে আইন কইর্যা এইসব নিষেধ আছে।
- কি করতে অইব আমার?
- খারান, স্যাররে ডাইকা আনি।
- কোন স্যার?
- আমার বস। তাইনে ঝোপের ঐ পারে আছেন।
স্যার আইলেন। কথা কইলেন। বললেন ঈদের বাজার তাই রেইট একটু বেশী। থানার বড় হুজুররেও ভাগ দিতে হইবো।
আমার এক কালের বড় ভাই কাজী জাফর তখন সংসদের প্রধানমন্ত্রী। কইলাম, পুলিশ ভাই, ঠ্যালা সামলাইতে পারবেন তো?
- কি ঠ্যালা?
- বান্দরবন যাওনের ঠ্যালা।
বাকি কাহিনী না জানলেও চলবো। কাহিনীর মাজেজা হইল, ৪০ বছর আগের পুলিশ আর আইজকার পুলিশ কুনু পার্থক্য নাই। পাকিস্তান আমলে পুলিশ দেখলে আমরা শ্লোগান দিতাম,
...পুলিশ তুমি যতই মার
বেতন তোমার ২১২