হাসনাত আবদুল্লার বিলাত যাত্রা

Submitted by WatchDog on Tuesday, June 16, 2026

হাসনাত আবদুল্লাহ এমন একটা দেশের রাজনীতিবিদ যার সবকটা অলিগলি ঘাত-সংঘাতে ভরা। এখানে দিনের ভোট রাতে হয়, আমি তুমি ও ড্যামির ভোটে প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায়। প্রকাশ্য দিবালোকে খুনি ভাড়া করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে খুন করে পার পাওয়া যায়। লবণ চুরি, ডাইল চুরি, কম্বল চুরি যে দেশের রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ সে দেশের দুই রাজনীতিবিদকে খোদ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ দাওয়াত দিয়ে তাদের ভাষণ শুনতে চাইবে এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন। হতে পারে ঐ ইউনিভার্সিটির কোন গ্রুপ যাদের গোঁড়া বাংলাদেশে তারাই আয়োজন করেছিল এই rond de veau'র। শোনা যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন (Oxford Union) এবং অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির যৌথ আয়োজন ছিল হাসনাতদের এই সফর।

নিশ্চয় প্রচারণায় কিছু গ্যাপ ছিল। তাকে কি মহাভারত কি অশুদ্ধ হয়ে গেছে? অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক অডিটোরিয়ামে একদল তরুণ জমায়েত হয়ে বাংলাদেশের দুই তরুণের মুখ হতে কিছু শুনতে চাইছে, এর চাইতে রিফ্রেশিং কোন ইভেন্ট আছে কিনা আমার জানা নেই। স্বাধীনতার পর পর আমি নিজে সোভিয়েত ইউনিয়নের অনেক শহরের অনেক প্রতিষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েছিলাম দেশকে তুলে ধরার জন্যে। সোভিয়েতরা ছিল আমাদের স্বাধীনতার ঘোর সমর্থক, তাই তারা চাইছিলে দেশটার পরিচয় খোদ ঐ দেশের কোন নাগরিকের মুখ হতে শুনতে। তালিকায় ছিল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাব, হাসপাতাল সহ আরও অনেক কিছু। যেখানেই গেছি সেখানে আমার নিজ পরিচয় মুখ্য ছিলনা, মুখ্য ছিল আমার দেশ বাংলাদেশ। আমি নিজেই বাংলাদেশ হয়ে সে সব জায়গায় হাজির হয়েছি। আমি বলেছি, ওরা শুনেছে।
হাসনাত আবদুল্লা কি নিজ মুখে প্রচার করেছিল যে সে খোদ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইনভাইটেড গেস্ট হয়ে ভাষণ দিতে যাচ্ছে? করে থাকলে তা হবে প্রতারণা এবং তার জন্যে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ ।

হাসনাত আবদুল্লাকে পতিত স্বৈরাচার ও তার দোসরদের পছন্দ করার কোন কারণ নেই। নিজেদের পলাতক জীবনের জন্যে কাউকে দায়ী করতে চাইলে তাদের তালিকায় হাসনাত আবদুল্লার নাম থাকবে সবার শীর্ষে। বিদেশের মাটিতে পেয়ে নিজেদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ প্রকাশ করার এমন মোক্ষম সুযোগ পলাতক সন্ত্রাসী ও লুটেরার দল যে কাজে লাগাবে তা অপ্রত্যাশিত ছিলনা। তারা নিজেদের মত করে প্রতিবাদ জানিয়েছে যেমনটা করতো এক কালের বিএনপির পলাতক নেতারা। এ তুচ্ছ ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে আকাশে উঠানোর কোন কারণ আছে বলে মনে করিনা। ওদের বুকের ভেতর লুকানো কষ্টগুলোও আমাদের বুঝার চেষ্টা করতে হবে। এক কালের পরাক্রমশালী পাপনকে যখন দেখা যায় লন্ডনের ফুটপাথে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনতে তখন হাসনাত আবদুল্লার ভূত নিশ্চয় তাড়া করে পতিত স্বৈরাচারের এই লুটেরা দোসরকে।
এবার আসুন ফিরে যাই স্বৈরাচারের পালের গোদা শেখ হাসিনার আমলে।

তিনি ১৭ বছরের অবৈধ ক্ষমতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমন বহুবার বিদেশ গেছেন যা রাষ্ট্রীয় সফরের ধারে কাছেও ছিলনা। তিনি গেছেন ভুয়া পিএচডি ডিগ্রী আনতে, পোলার ঘরে নাতনী হয়েছে তাকে দেখতে। মেয়ের জামাই মেয়েকে তালাক দিচ্ছে তার সূরাহা করতে। যাওয়ার আগে এয়ারপোর্টে ঘটাকরে সেনাবাহিনীর গার্ড অব অনার নিতেন, হাত মেলাতেন নিজ দলের টপ লুটেরাদের সাথে। অনেক সময় স্থানীয় ডিপ্লোম্যাটদের ডেকে এনে নাটক সাজাতেন।
সাথে শ'দুয়েক উচ্ছিষ্ট খেকো দালাল নিয়ে ছুড়ে ফেলতেন নিউ ইয়র্কের অলিগলিতে। নিজে ফ্লোরিডা অথবা ভার্জিনিয়ার ছেলের বাসায় বাস করে আমেরিকা বিজয়ের বাণী পাঠাতেন দেশে। আমেরিকান সরকারের উচ্চপদস্থ কারও সাথে এক মিনিটের ফটোশেসনের জন্যে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশের গোটা হাইকমিশনকে লেলিয়ে দিতেন। ব্যর্থ হয়ে লুটের অর্থে পিএইডি ডিগ্রী নেয়ার নাটক মঞ্চস্থ করে বিপুল বিক্রমে ফিরে যেতেন দেশে।

দেশে ফেরার দিন এয়ারপোর্টে হাতি সাজতো ঘোড়া নাচতো, সাথে নাচতো ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ নামের ছাগলের কাফেলা। আজকে যারা হাসনাত আবদুল্লার অক্সফোর্ড সফরকে নিয়ে পানি ঘোলা করতে চাইছেন তাদের অনুরোধ করবো নিজেদের পশ্চাতদেশে লম্বা একটা আয়না লাগিয়ে নোংরা পাছা দেখে নিতে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন