ডিসেম্বর এখন দরজায় কড়া নাড়ছে। মাস-খানেকের ভেতর কোন এক সূর্যস্নাত সকালে বাংলাদেশে পা রাখবেন তিনি। একটা তারিখও সামনে আসছে...১০ই ডিসেম্বর। অনেকে বলছেন ১০ তারিখে ফিরে ১৬ তারিখ মানিক মিয়া এভিনিউতে বিজয় দিবসে সেনাবাহিনীর গার্ড অব অনার নেবেন।
আমিও আমার কাউন্ট ডাউন শুরু করলাম...টিক টক...টিক টক... নভেম্বর ...ডিসেম্বর...১ তারিখ...২ তারিখ...
অন্য এক পোষ্টে দেখলাম ঢাকায় ফিরে তিনি কোথায় উঠবেন এ নিয়ে কষ্টের কথা বলেছেন...
দেশে ফেরা নিয়ে আসলেই কি এমন কাব্যময় বক্তব্য দিয়েছেন তিনি? নাকি সবটাই শেখ মাজারের দানবাক্সে দান করা মুরিদানদের হাদিয়া মাত্র?
কোনটা যে সত্য আর কোনটা যে মিথ্যা তা যাচাই বাছাই করার পরিসরও ছোট হয়ে গেছে। সাথে চেপে বসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভূত! জীবন্ত আগ্নেয়গিরি হতে গরম গনগনে লাভা যে গতিতে উপরের দিকে ধাবিত হয় তেনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফুলে ফেঁপে আকাশে উঠে যাচ্ছে।
তিনি দেশে ফিরবেন কেবল ভারতীয় না, সাথে থাকবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ ন্যাটোর বিশাল এক বাহিনী...পালিয়ে যাওয়া সিলেটের মেয়রের কথা বিশ্বাস করলে সেদিন বোয়িং ও এয়ারবাসের মেলা জমবে ঢাকার বিমান বন্দরে...
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক রাজা-বাদশাও নাকি নিজেদের বিলাসবহুল বিমান বহর অফার করে অংশীদার হতে চাইছেন ঐতিহাসিক এ ঘটনার...
আড়াই বছর ধরে ঘর ছাড়া আওয়ামী নেতাদের অনেকেই এখন প্রহর গুনছেন কে কখন কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিবেন। এ কাজে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ওলামা লীগও পিছিয়ে নেই। তারাও নিজ নিজ চাওয়া পাওয়ার হিসাব মেলাচ্ছে।
তিনি পালিয়ে গেছেন। তড়িঘড়ি করে বিমানে চড়ে দেশের সীমানা পাড়ি দিয়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশ প্রেমের এই যে পাহাড় সমান ভালবাসা দেখাচ্ছেন তাতে আমার মত অপরিশোধিত মগজের একজন জিজ্ঞাস করতে বাধ্য হবে, এতই যদি ভালবাসা তাহলে পালাতে গেলেন কেন?
ইচ্ছা করলেই তো থেকে যেতে পারতেন। আরও অনেকের মত সেনাবাহিনীর হেফাজতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারতেন। বিপ্লবের হাইপ থিতু হয়ে আসার পর বিপুল বিক্রমে পাব্লিক স্কয়ারে ফিরে আসতে পারতেন।
তিনি ওসবের কিছুই করতে যাননি। বরং গাট্টি-বোস্কা নিয়ে সদলবলে 'বীরবিক্রমে' পালিয়ে গেলেন। সাথে নিয়ে গেলেন বায়তুল মোকারমের খতিবকেও।
ক্ষমতার ভরা যৌবন হতে বাঘ-ভল্লুকদের বিদায় নেয়ার তালিকায় তিনিই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন না। এরশাদ ও খালেদা জিয়ার ভাগ্যও একদিকে ধাবিত হয়েছে। কই ওনারাতো পালাতে যাননি! দেশে থেকে নিজেদের ভাগ্য বরণ করে নিয়েছিলেন। বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। জেল খেটেছিলেন। রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার জন্যে তাদেরকে তো এত আয়োজন করতে হয়নি!
আচ্ছা ধরে নিলাম সব অড উপেক্ষা করে তিনি দেশে ফিরবেন।
কিন্তু কোন পথে, কি ভাবে?
পৃথিবীর যে কোন দেশ হতে অন্য কোন দেশে যেতে ট্রাভেল ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়। এ তালিকায় থাকে পাসপোর্ট, ভিসা।
তেনার কি আছে এসব? না থাকলে কিভাবে কমার্শিয়াল ফ্লাইটে চড়বেন? নাকি দিল্লীর বিমান বন্দরও সেদিন আওয়ামী দখলে চলে যাবে?
অনেকে বলবেন দিল্লি তো খুব দূরের শহর না, চাইলে স্থলপথেও যাত্রা করা যায়। কথা সত্য। আমাদের তিন দিকে যে দেশের সীমান্ত তার কোন একটা দিয়ে টুপ করে ঢুকে গেলেই হয়।
তিনি কি আসলেই তা করতে যাবেন?
তেনার প্রভুরা কি এমনটা হতে দেবে?
বাংলাদেশের বর্ডার সিকিউরিটি গার্ড কি সেদিন মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে জিন্দা-লাশ হয়ে থাকবে? তিনি গায়ের জোরে সীমান্ত অতিক্রম করবেন আর দেশের হরেক রকম বাহিনী বন্দুক কামান নিয়ে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানাবেন...এমন কাহিনীও আমাদের বিশ্বাস করতে হবে?
মানলাম সেনা, পুলিশ ও বিজিবির একটা বিরাট অংশ তেনার দেয়া উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেড়ে উঠেছে। প্রয়োজনে তারা হয়ত কৃতজ্ঞতা-বোধ ফিরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এই আড়াই বছরে তারেক জিয়ার যে বিশাল বাহিনী তৈরি হয়ে গেছে তাদের সবাই কি একসাথে গণ স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে ঘরে বসে থাকবে? ২৪'এর গণআন্দোলনে অংশ নেয়া এনসিপি কি এই এক দেড় মাসে মরে হরুভূত হয়ে যাবে? তাদের সংখ্যাটাও কিন্তু নেহাত কম না।
ধরলাম বাধার সবকটা দেয়াল অতিক্রম করে তিনি দেশে ঢুকে পরলেন। তারপর?
তেনার গলায় ঝুলছে ফাঁসির পরওয়ানা। সে পরওয়ানা আদালতের। ডিসেম্বরের ভেতর তারেক সরকারের পতন না হলে আদালতের রায় সচল থাকবে। চক্ষু লজ্জার খাতিরেও তেনাকে জেলে পুরতে হবে। রাখতে হবে কনডম সেলে। প্রহর গুনতে হবে মৃত্যুর।
পালানোতে অভ্যস্ত শেখের বেটি জেনেশুনে মৃত্যু-কুপে পা রাখবেন এমনটা বিশ্বাস করার আমাদের কি কোন কারণ আছে? ডিসেম্বরে দেশে ফেরার এ সমীকরণ তাই আমার কাছে খুব জটিল ও কুটিল মনে হয়।
পাঠক, আপনাদের কারও কাছে এ ফিরে আসার সহজ সরল কোন সমীকরণ জানা থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন। নিজকে কনভিন্স করার জন্যে আমি ও আমার মত আরও কয়েক কোটি স্বদেশী মুখিয়ে আছে।