প্রচারের প্লাবন বয়ে যাচ্ছে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে। এ যেন অচেনা অদেখা এক সুনামির পূর্বাভাষ। দিন দিন বয়ানের ন্যারেটিভ বদলাচ্ছে। প্রথম দিকে ছিল কেবল ফেরা। এখন সে ফেরা ডাল-পালা মেলে পরিণত হয়েছে বিশাল এক মহিরূহে।
এমনটাও শুনতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসে নাকি ফেরার বন্দোবস্ত পাকা করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে যাবেন এবং ওটাই হবে তার শেষ যাওয়া। এক কথায় পালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি বীরের বেশে হাতী ঘোড়া পাইক পেয়াদার বিশাল বাহিনী নিয়ে তিনি প্রবেশ করবেন। একজন একধাপ এগিয়ে নির্দিষ্ট করে বলছেন তিনি এয়ারপোর্ট হতে সরাসরি গণভবনে প্রবেশ করবেন।
তারপর নাকি শুরু হবে প্রতিশোধ পর্ব।
সারজিস আলম হাসনাত আবদুল্লাহ সহ জুলাই অভ্যুত্থানের নায়কদের নাড়িভুঁড়ি কোথায় ফেলা হবে সে জায়গাও নাকি ঠিক করা আছে।
প্রতিশোধের হিসাব মেলাতে গেলে আমাদের ধরে নিতে হবে ডিসেম্বরে শুরু করে মধ্য জানুয়ারির ভেতর কয়েল লাখ লাশ পরবে বাংলাদেশে! কেবল শেখ পরিবারের ৩২নং মাজার ভাঙ্গার কারণেই নাকি হাজার দশেক লাশ পরবে।
পলাতক বাহিনীর সবার মুখে একই কথা... কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।
বাংলায় একটা কথা আছে
কোলকাতায় পালিয়ে থাকা মধ্য ও নিচু লেবেলের নেতাছাল নাই কুত্তার বাঘা নাম! -কর্মীদের দুর্দশার করুণ কাহিনী পড়লাম ওপার বাংলার এক ম্যাগাজিনে। সময় ভাল যাচ্ছেনা তাদের। পকেটের সাথে তাল দিয়ে পেটও খালি যাচ্ছে ইদানীং। গ্রোসারী বিলের জন্যে দোকানদার কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করছে। তরকারী ওয়ালা পর্যন্ত বাপ-মা তুলে গালি দিচ্ছে। ভাড়ার জন্যে বাড়ির মালিক গায়ে হাত দেয়াও শুরু করেছে।
ফেরারি এই কাফেলা যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসছে নিজদের অক্ষমতার কষ্ট লাঘব করতে প্রতিশোধের আগ্নেয়গিরি হতে লাভা উদ্গিরণ করছে।
যারা করছে তারাও জানে এ কষ্ট সহজে দূর হচ্ছেনা। অনিশ্চয়তার মহাসমুদ্র অপেক্ষা করছে তাদের জন্যে। পাশাপাশি দেশ হতে আসছে আরও হৃদয়বিদারক সব সংবাদ...
যুব নেতাদের অনেকের বৌ অন্যের হাত ধরে পালিয়ে যাচ্ছে। মা-বাবা সম্পত্তি বিক্রি করে ওপার বাংলার জীবন চালিয়ে নিতে অস্বীকার করছে। সোজা বাংলায়, ছোট হয়ে আসছে তাদের পৃথিবী।
নেতা-কর্মীদের ভেঙ্গে যাওয়া মনোবল চাঙ্গা রাখতেই নাকি শেখ হাসিনা তার দেশে ফেরার উপন্যাস বাজারে ছেড়েছেন। এ উপন্যাস এখন বেস্ট সেলার। একেক জন একেক ভাবে বাজারজাত করছেন এ পণ্য। ফেরার এ গল্প যেন মৃত্যুর মিছিলে শামিল হওয়া একদল ভক্তের জন্যে সঞ্জীবনী সুধা।
তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তিনি ফিরবেন। অথবা ফেরার ইচ্ছা পোষণ করছেন। এমন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আমরা যদি ফেরা পর্বের অটোপসি করতে যাই কিছু প্রশ্ন সামনে আসতে বাধ্য। এই যেমনঃ
-ফেরার জন্যে একটা বৈধ ট্রাভেল ডকুমেন্ট থাকা বাধ্যমূলক। তেনার কি আছে তেমন কিছু?
- ট্রাভেল ডকুমেন্ট ছাড়া দিল্লির বিমানবন্দর হতে ঢাকাগামী বিমানে চড়বেন কোন দাবিতে?
- যদি আকাশপথের ক্লিয়ারেন্স না থাকে নিশ্চয় বিকল্প হিসাবে বেছে নেবেন স্থলপথকে।
কোন সীমন্ত দিয়ে দেশে ফেরার ইচ্ছা করছেন তিনি?
- স্থলপথেও দরকার হবে ট্রাভেল ডকুমেন্টের। এমন ডকুমেন্ট না থাকায় তিনিও কি দেশের গরু ব্যবসায়ীদের মত রাতের অন্ধকারে চেষ্টা করবেন সীমান্ত অতিক্রম করতে?
- সীমান্তের ওপারে থাকবে বিএসএফ আর এপারে থাকবে থাকবে বিজেবি। দুপক্ষের হাতেই থাকবে আধুনিক মারণাস্ত্র। কে নিশ্চয়তা দেবে ফেলানীর মত তাকে মেরেও কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখবেনা ওপার বাংলার খোলা আসমানের নীচে মল-মূত্র ত্যাগে অভ্যস্ত সৈনিকেরা?
- তিনি ফিরে আসার আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার বিশাল মন্ত্রীসভা নিয়ে পালিয়ে যাবেন কোন কারণে? জনগণ কি তাদের তাড়া করবে? তারা অযোগ্য অপদার্থ ও চৌকশ চাঁদাবাজ হতে পারেন কিন্তু দিনশেষে জনগণের ম্যাণ্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় বসা একটি রাজনৈতিক দল।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত একজন আসামীর ভয়ে দেশের বাকি জনগণ হ্যামিলনের বংশীবাদকের পিছু নিয়ে মিলিয়ে যাবে গহীন অরণ্যে, এমনটাই কি আপার ফিরে আসার স্ক্রিপ্ট?
খুবই দুর্বল এ স্ক্রিপ্ট! বাংলাদেশের কয়েক কোটি মানুষ এখন আর খায় না এসব বটতলার গল্প। পলাতক স্বৈরাচার খুনি শেখ হাসিনা নিজেও জানেন তার ফিরে আসার গল্প ফেইক। তিনি নিজে হয়ত মনে করছেন এ গল্প আশার আলো হয়ে জ্বল জ্বল করবে বাংলাদেশের আকাশে। গুম খুন ও লুটের সহযাত্রীদের বাঁচিয়ে রাখবে ভবিষ্যৎ অপকর্মের সৈনিক হিসাবে।
বাস্তবতা হচ্ছে, পতন হয়েছে শেখ ডাইনাস্টির। বীর বিক্রমে দেশে ফিরে বিনা বাধায় গণভবনে প্রবেশ করবেন এবং স্বল্প সময়ে বিরোধী পক্ষের লাখ লাখ মানুষ হত্যা করবেন, এ স্বপ্ন দিবাস্বপ্ন হিসাবেই থেকে যাবে শেখ সাম্রাজ্যে!