অনেস্ট ব্যবসার ডিসঅনেস্টি...

Submitted by WatchDog on Sunday, July 5, 2026

সর্বশেষ কবে আপনি প্রেক্ষাগৃহে একা, সপরিবারে অথবা বান্ধবীকে নিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন? মনে করতে অনেকেরই হয়ত কষ্ট হবে। বোধহয় ১৯৯২ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশি সিনেমা হলে যাওয়া। উপলক্ষ হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত শঙ্খনীল কারাগার ছবিটা দেখা। এ এডভেঞ্চারে আমার চাইতে আমার প্রেমিকার তাগাদা ছিল বেশি।ঢাকা কলেজ পর্ব শেষকরার পর কোনদিনও ওদিকে যাওয়া হয়নি, তাই বলাকার প্রস্তাব করার পর আমি না করতে পারিনি।
সুখের হয়নি ভালবাসার মানুষের সাথে বাংলা ছায়াছবি দেখা পর্ব। প্রচণ্ড ভীরের সুযোগ নিয়ে কেউ একজন হাত দিয়েছিল তার গায়ে। চোখের পানিতে ভেসে গিয়েছিল আমাদের প্রেম পর্ব। সেদিন কেন আমি অক্ষয় কুমার বনে ডাসুম ডিসুম কিল ঘুষি দিয়ে কালপ্রিটকে শিক্ষা দিইনি এ নিয়ে ছিল পাহাড় সমান অভিযোগ।
এ ঘটনার পর আর কোনদিন সিনেমা দেখতে বাংলাদেশের কোন প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া হয়নি। আমি নিশ্চিত ভবিষ্যতেও আর যাওয়া হবেনা।

কাহিনী আমার মত না হলেও নিশ্চয় অনেকেই আমার মত আর সিনেমা হলে গিয়ে 'স্বামী কেন আসামী' 'কাজের মেয়ে জরিনা'র মত মুভি দেখতে যান না। সে সময় আমরা পার হয়ে এসেছি। নতুন প্রজন্মের ইতিহাস ভিন্ন হলেও আল্টিমেট রেজাল্ট একই। না, দেশের শিক্ষিত অংশ এখন আর বাংলাদেশি সিনেমা দেখে সময় নষ্ট করেনা। হল দূরে থাক, প্রযুক্তির অন্যান্য মাধ্যমেও না।

উপরের বক্তব্য আমলে নিলে দুটো প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন চলে আসতে বাধ্য:
- বছরে কয়টা ছায়াছবি নির্মিত হয়ে দেশ
- এসব ছবির দর্শক এখন কারা

তথ্য ভাণ্ডার বলছে গেল বছর দেশে ৩৪ টি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যে সংখ্যা স্মরণকালের সবচাইতে কম। এ সংখ্যা সত্য হলে আরও একটা প্রশ্ন সামনে চলে আসবে; সংখ্যাটা ক্ষুদ্র অথচ ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নায়িকার সংখ্যা কয়েক গণ্ডা। যৌবনা, বিগত যৌবনা, উদীয়মান যৌবনা নায়িকাদের কোলাহলে মুখরিত আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
পরীমনি অথবা মাহিয়া মাহি নিশ্চয় এককভাবে ডমিনেট করেননি ৩৪ চলচ্চিত্রের নায়িকার রোল। বলাহয় নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে গড়ে ১০ লাখ টাকা করে পান পরী মনি গং। যদি সংখ্যাগুলো সত্য হয় তাহলে এখানে ফলো-আপ প্রশ্ন হবে, ৩/৪টা ছবিতে অভিনয় করে তেনারা নিজেদের লেভিস লাইফ কিভাবে মেইনটেইন করেন?

সোনা দিয়ে মোড়ানো গা-গতর, দামী পোষাকে ডুবে যাওয়া শরীর, শরীর হতে ভেসে আসা বিশ্বখ্যাত আতর-গোলাপের গন্ধ... এসবের যোগান আসে কোত্থেকে? কারা থাকে বিহাইন্ড দ্যা সীন? বছরে ৩/৪টা সিনেমা করে সম্ভব কি এ ধরণের রাজকীয় জীবন যাপন?

পালিয়ে যাওয়া নায়ক ও স্বৈরাচারের দোসর ফেরদৌসের সাথে রাতের কে আড্ডায় শুনেছিলাম সিনে জগতের অনেক অজানা কাহিনী। এই চিত্র নায়ক (অনেকে বলেন ছিদ্র নায়ক) নিজের কাহিনী বলতে গিয়ে বলেছিলেন বিদেশের মাটিতে নিজের যৌন জীবনের চমকপ্রদ গল্প। বলিউডের এক কালের নায়ক গোবিন্দের প্রাক্তন স্ত্রী নাকি হোটেল বুক করে তাকে সিঙ্গাপুর ব্যাংককের টিকেট পাঠান যৌন সম্ভোগে যোগ দিতে। পাশাপাশি নায়িকাদের কাকে কোথায় নিলে কত দিতে হয় তারও একটা হিসাব দিয়েছিলেন মদারু এই ছিদ্র (চিত্র) নায়ক।
ফেরদৌসের কথার সোজা বাংলার সারমর্ম হবে:
ঢাকার সিনেমায় উঠতি যুবতীরা নাম লেখায় ছায়াছবির আড়ালে নিজেদের দেহব্যবসা প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে। ওদের অনেকের আসল ইনকাম হচ্ছে খেপে বিদেশ দিয়ে বিত্তশালীদের মনোরঞ্জন। এসব দেহপসারীনিদের আসল খাদক ক্ষমতাসীন দলের বড় বড় নেতা, মন্ত্রী এমপি, অস্তগামী যৌবনের ভাঁড়ে নেতিয়ে যাওয়া আমলা, সিনে জগতে বিনিয়োগকারী উঠতি ব্যবসায়ী, পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার সহ আরও অনেক হোমরা চোমরা।

অর্থাৎ ইদানীং যে সকল ছিদ্র নায়িকা দেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে স্বৈরাচারের পক্ষে নিজেদের কমিটমেন্টে জাহির করার চেষ্টা করছে তারা সবাই (অনেকেই) দেহব্যবসার ভাড়াটিয়া পতিতা।

পতিতা ব্যবসা একটি পুরানো ব্যবসা। কুইক টু-পাইস কামাতে চাইলে এ ব্যবসার দ্বিতীয় কোন বিকল্প নেই। আমার বিচারে দেহব্যবসা একটি অনেস্ট ব্যবসা। শরীর বিনিয়োগ করে যারা আয়-রোজগার করে তাদের আমরা কন অর্থেই বিচারের পাল্লায় উঠাতে পারিনা। তবে প্রশ্ন উঠবে দেহ-ব্যবসায়ীরা কেন রাজনীতি নিয়ে এত ব্যস্ততা দেখাচ্ছে? বিশেষকরে স্বৈরাচার ও তার আপাদমস্তক দুর্গন্ধে ভরা পলাতকদের নিয়ে।

দুইয়ে দুইয়ে চার...
আওয়ামী পতন ও পালানোর পর নায়িকাদের (ছিদ্র পড়তে হবে নামের আগে) আয়-রোজগারে বড় ধরণের আঘাত এসেছে। ব্যাংক লুটের টাকায় মাহি, মেঘনা, তিথি, শাওন, পিয়া, আমিনা, জরিনাদের নিয়ে যারা মাস্তি করত তারা এখন পলাতক। ভিসা বন্ধে কোলকাতার ব্যবসায়ীদের যেমন অকাল গেছে তেমনি অকাল যাচ্ছে এপারের সিনে জগতের নায়িকাদের। কোলকাতার বিলাস-বহুল এলাকায় বাস করে তারা নাকি এখন ওপারের দিদিদের এন্টারটেইন করছে।

এখন আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ছিদ্র নায়িকাদের রাজনৈতিক বয়ান নিয়ে আমরা সময় নষ্ট করবো, নাকি তাদের নাম তুলে রাখবো নিজেদের পতিতা ভোগের তালিকায়। পকেটে লুটের টাকা আর হাতে ঘণ্টা-খানেক সময় থাকলে আপনি ভাড়া করতে পারেন শাওন আর পরীমনিদের! তাদের মৌখিক সমালোচনা না করে বরং সার্ভিস দিতে নিয়মিত ভাড়া করুন, দেখবেন মুখের ভাষা আপনা আপনি উলটে যাবে। পতিতাদের অনেস্ট ব্যবসার এটাই হচ্ছে সবচেয়ে ডিসঅনেস্টি। টেইক ইট, অর লীভ ইট!!!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন