দিপু মনির কেচ্ছা...

Submitted by WatchDog on Wednesday, August 19, 2026

দিপু মনির স্বামী মারা গেছেন। এ নিয়ে অবশ্য স্থানীয় প্রিন্ট মিডিয়ায় তেমন কোন তোরজোড় নেই। হয়ত সরকারী বিধিনিষেধ আছে পতিত সরকারের কাউকে নিয়ে ফিচার করায়। আমি বা আমার মত অনেকে সরকারী বিধিনিষেধের আওতায় নেই তাই চাইলে অনেক কিছু লিখতে পারি আমরা। আসুন এ যাত্রায় দিপু মনির পৃথিবীতে কিছুটা সময় কাটিয়ে আসি।

এক কালের দাপুটে মন্ত্রী দিপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আজ ১৮ই আগস্ট মারা গেছেন। তিনি কিডনি লিভার সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জটিলতায় ভুগছিলেন। কারও লিভার নষ্ট হলে কেন জানি দিপু মনির সৃষ্টিকর্তা শেখ হাসিনার কথা মনে পরে যায়। খালেদা জিয়ার লিভার খারাপ তা নিয়ে তিনি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে ইঙ্গিত পূর্ণ হাসি হেসেছিলেন। আমিও বাঁকা একটা হাসি দিয়ে সে পথ মাড়ানো হতে বিরত থাকলাম।

অনেকের মতে শেখ হাসিনার সাথে ডক্টর মোহম্মদ ইউনুসের সংঘাতের সূত্রপাত নাকি এই তৌফিক নেওয়াজের হাত ধরে। যদিও এ তথ্যসূত্রের পক্ষে কোন প্রমাণাদি নেই। নেওয়াজ সাহেব নাকি ভাল বাঁশি বাজাতে পারতেন।
দিপু মনি তখন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, রাষ্ট্র প্রধান ও রাজা বাদশাহদের সাথে ফটো সেশনের মিশন নিয়ে দুনিয়া চষে বেড়ান। এমন ব্যস্ততার মাঝে নেওয়াজ সাহেবের কোথাও বাঁশি বাজানোর প্রোগ্রাম থাকলে প্রিয় স্ত্রী সব ফেলে হাজির থাকতে চেষ্টা করতেন। এ যেন সাপুড়ের নাগিন বাঁশির সুরে সাপের বাধ্যতামূলক আগমন। দিপু মনি রাষ্ট্রের কাছে একটা ডেডিকেটেড বিমান চেয়েছিলেন যেন নিজের কর্ম-দিবসকে আরও ঘটনাবহুল ও বৈচিত্র্যময় করে তুলতে পারেন। দুর্জনেরা বলে থাকে বিমান চাওয়ার অন্যতম কারণ নাকি ছিল স্বামীর অনুষ্ঠানে সময়মত হাজির হওয়া।

ব্যক্তিগত বিমান যাত্রা ভোগ করার সৌভাগ্য হয়নি দিপু মনির। তার আগেই মন্ত্রিত্ব চলে যায়। কথা আছে কোন এক অনুষ্ঠান সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতিতে সামনের সাড়িতে বসে পুট করে পশ্চাৎ-দেশ হতে বিকট শব্দে বায়ু নিষ্কাশনের কারণে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন। এহেন কাজের শেষে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা না চাওয়ায় গোস্বা করেছিলেন তিনি। ফলাফল, লম্বা সময় ধরে ক্যাবিনেটের বাইরে থাকা।
যাই হোক, দিপু মনির এসব ইতিহাস এখন অতীত। সে রামও নাই রাজত্বও নাই। জেলে বসে নিজে হয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। হয়ত থেমে থেমে ফিরে যাচ্ছেন ফেলা আসা সোনালী অতীতে।

আসুন ওখানেই রেখে আসি এককালের আওয়ামী লীগের বাঘা এই মন্ত্রীকে। বরং চলুন তার বড় ভাই জাওয়াদুর রহিম ওরফে টিপুর জগত হতে ঘুরে আসি। কারণ দিপু মনি, তার স্বামী ও তাদের আওয়ামী অপরাধের মাত্রা জানতে চাইলে ভাই টিপুর দুনিয়া ঘুরে আসাটাও জরুরি।

টিপুনগরের টিপু...
যদি ভুল না হয় এই টিপু আমাদের সেই টিপু যার সাথে আমার পরিচয় সোভিয়েত দেশের রাজধানী মস্কোতে। মস্কোর 1st Medical (Московски первой медицинский институт)'এর ছাত্র টিপু দেশে ফিরে ভাগ্য চাকা কোন পথে সচল রেখেছেন তার হদিস রাখতে পারিনি। রাখার প্রয়োজন ছিল বলেও মনে করিনি। গেল শতাব্দীর ৮০ দশকে সোভিয়েত দেশে পরিচয় হওয়া অনেকের সাথেই যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়নি। কারণ জীবিকার সন্ধানে আমরা একেক জন পা রেখেছি একেক পথে। এই দৌড়ে অনেকের স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে প্রবাস। আমিও তাদের একজন।
মাথার উপর ছাদ ও পায়ের নীচের মাটি শক্ত করতে আমার মত বিদেশ যেতে হয়নি টিপুকে। কারণ দেশে বসেই যদি বিদেশের তুলনায় ১০ গুন ভাল থাকা যায় তাহলে কে যায় ঐ পথে!

ছোট বোন দিপু মনি শিক্ষামন্ত্রী তাই নিজ নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটানো মাস্ট-ডু আইটেম তার জন্যে। তারই ধারাবাহিকতায় জনাবা দিপু মনি সিদ্ধান্ত নেন চাঁদপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। প্রস্তাবটা মন্ত্রী সভার আলোচ্য-সূচীতে আসার আগে তিনি একটা কাজ করেন যা বদলে দেয় আমাদের টিপু সহ দিপু মনি পরিবারের বাকি সবার ভাগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে নির্ধারিত স্থানের বিস্তারিত তুলে দেন পরিবারের সবার হাতে। জমি ক্রয়ের প্লাবন বয়ে যায় পরিবারে। এ যাত্রায় মস্কো ফেরত ডাক্তার টিপুর ভাগে পরে প্রায় ৭ একর।

চাঁদপুর সদরের ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে নতুন ক্যাম্পাস তৈরির জায়গা নির্ধারিত হওয়ার পর বের হয় সমস্ত জায়গা ইতিমধ্যে দিপু মনি পরিবার কিনে নিয়েছে। জমি অধিগ্রহণ শুরু হলে এর ক্রয় মূল্য বেড়ে যায় কয়েক গুন। অর্থের পাহাড় এসে কড়া নাড়ে মন্ত্রী পরিবারের ঘরে ঘরে। আমাদের কমরেড টিপুও রাতারাতি কয়েক কোটি টাকা কামিয়ে নেয়ার বন্দোবস্ত করে ফেলেন।

বেঁকে বসেন চাঁদপুরের ডিসি। ভেতরের খবর বাইরে এনে মুখোশ উন্মোচন করেন মন্ত্রী নামের দস্যু ফুলন বাহিনীর। টনক নড়ে জাওয়াদুর রহিম টিপুর। হাজার হলেও উন্নতির দুল দুল ঘোড়ায় সওয়ার মন্ত্রীর ভাই!
সমালোচনার মুখে ওই জমি তিনি আমমোক্তারনামার মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর ইউপির ‘বালু-খেকো’ চেয়ারম্যান সেলিম খানের কাছে হস্তান্তর করেন। সশরীর গিয়ে অধিগ্রহণের টাকা নেওয়া এড়াতেই তিনি এই কৌশল বেছে নেন বলে অভিযোগ আছে।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ভাগ্য কোন দিকে গড়িয়েছে তার আপডেট নেই আমার কাছে। তবে যে ডিসি এই অভিযোগ এনেছিলেন তাকে বদলি করা হয়েছিল চাঁদপুর হতে।

বিশ্ববিদ্যালয় কেলেঙ্কারির ঘটনা চাপা পরে যায় আরও অনেক কেলেঙ্কারির নীচে। টিপু খবরে এসেছিলেন আরও অনেক কারণে। তদন্তে বের হয়ে এসেছিল বিপুল পরিমাণ সরকারী খাস জমি দখল নিয়ে মাছের ঘের, গবাদিপশুর খামার ও সবজি বাগানের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন এই আদম। তার সাম্রাজ্যের ঠিকানা হাইমচর উপজেলার ৪ নম্বর নীলকমল ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকা।

চর এলাকা বাহেরচর। হাইমচর সদর থেকে বাহেরচরে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। হঠাৎ করে খবর হয় সরকারী উদ্যোগে এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে যাচ্ছে হাসিনা সরকার। সবার আগে এ খবর পৌছায় টিপু নগরের রাজাধিরাজ টিপুর দরবারে। এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ার আগেই তৎপর হয়ে উঠেন ততদিনে চাঁদপুর আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ বাগিয়ে নেয়া টিপু। প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি নিজের কবজায় নিতে শুরু করেন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সঙ্গে যোগসাজশ করে ৪৬৫ টাকা দরে দলিল করে নেন ৪ হাজার ৮৫২ শতাংশ জমি।

ছোট বোন মন্ত্রী। হয়ত সম্মান শ্রদ্ধার দায়বদ্ধতা হতেই ভাইয়ের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। ভাইকে নিরাশ করেনি বোন। অনেকের মতে ডাক্তার জাওয়াদুরের সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাঁকার উপরে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

চাঁদপুরের টিপুনগরে এক সময় সবাই টিপুদের গান গাইত। এলাকার পথে প্রান্তে কান পাতলে শোনা যেত উন্নয়ন ঘোড়ার দাপাদাপি। সাথে শোনা যেত মুক্তিযুদ্ধের গান। জমির অবৈধ দখলের প্রসঙ্গ এলে কান্না ভেজা গলায় দিপু মনি পরিবার তুলে ধরতেন ৭১'এর বিষাদময় দিনগুলোর কথা। পাকিস্তানি ও রাজাকারদের যৌথ মিলনে ৩০ লাখ হত্যা, ২ লাখ ধর্ষণের লোমহর্ষক কাহিনী। দুঃখে কষ্টে এলাকা ও দেশবাসীর চোখ ভিজে যেত। ওদের চোখ ও নাকের পানির জোয়ারে ধুয়ে মুছে পবিত্র হয়ে যেত একজন মন্ত্রী ও তার পরিবারের পাপ।

কিন্তু হায় সে টিপু নগরের টিপু এখন ফেরারি। কোথায় আছে কেউ জানেনা। তার সাম্রাজ্য বেহাত হয়ে গেছে। জায়গা জমিতে ঘুঘু চড়ছে। অনেকের মতে বাতাসে কান পাতলে এখন নাকি শোনা যায় টিপু আর দিপু মনিদের চাপা কান্না।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন