অপরাধ ও পুরস্কার বাংলাদেশ স্টাইল!
বাংলাদেশের সবকিছুই ঘন কুয়াশার মত অন্ধকার তা বললে নিশ্চয় অন্যায় বলা হবে। লাশের উপর দাড়িয়েও এ দেশের মানুষ হাতে মেহেদী পরতে পারে, ছবি কথা বলে। অপরাধ ও পুরস্কার বাংলাদেশ স্টাইল! প্রশ্ন, এখানে কে অপরাধী আর আর কে জয়ী?
বাংলাদেশের সবকিছুই ঘন কুয়াশার মত অন্ধকার তা বললে নিশ্চয় অন্যায় বলা হবে। লাশের উপর দাড়িয়েও এ দেশের মানুষ হাতে মেহেদী পরতে পারে, ছবি কথা বলে। অপরাধ ও পুরস্কার বাংলাদেশ স্টাইল! প্রশ্ন, এখানে কে অপরাধী আর আর কে জয়ী?
পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবলের। এখন ফুটবলের সময়। উত্তর হতে দক্ষিন, পূব হতে পশ্চিম, পৃথিবীর সব গোলার্ধে কটা দিনের জন্যে হলেও রুটি রুজির জীবন সড়ে যাবে দ্বিতীয় সারিতে। এ সময় রাজত্ব করবে লায়নেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো, ওয়েন রুণি আর দিদিয়ের দ্রগবার মত তারকার দল।
আপনাদের কারও কি ’পিপ’ শো দেখার সুযোগ হয়েছে কোনদিন? জীবন ১৬ আনাই মিছে যদি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেখে না থাকেন। ৭০ দশকের শেষ দিকের কথা। গ্রীষ্মের কোন এক সোনাঝরা দিনে পশ্চিম বার্লিনের জুয়লজিসিয়া খার্ডেন (জুয়লজিক্যাল গার্ডেন) স্টেশনে বসে আছি লন্ডনগামী ট্রেনের অপেক্ষায়। ট্রেনের তখনো অনেক দেরী।
বাবুরহাট হতে সংগ্রহ করা হয়েছিল পিচ্ছিটাকে। পরিচয় জিজ্ঞেস করলে বলত ’আমি রুবেল’। আসল নাম ছিল নাসির মিয়া। শয়নে স্বপনে এই একটা নামই শুধু জপ করতো, রুবেল। বাসার সবাই মিলে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিল লেখাপড়া কাম ফুট ফরমাশের খাটানোর জন্যে। সেই হতে ছায়ার মত ঘুরে বেড়াত ডানে বায়ে।
জুনের শুরুতে গরমের তেজ এতটা তীব্র হবে স্বপ্নেও কেউ কল্পনা করেনি। কিন্তু তাই হল। সূর্যের দাপট এখন এতটাই ভয়াবহ, মনে হবে আসমান ফেটে আগুনের গোলা নেমে আসছে। জনজীবন স্থবির হওয়ার মত অবস্থা অনাকাঙ্খিত অতিথির আক্রমণে। তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রী (ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে ভরদুপুরে।
খবরটা কি আপনাদের জ্ঞানের চেম্বারে ধরা দিয়াছে? না থাকিলে হাল্কার উপর নড়িয়া চড়িয়া বসিবার অনুরোধ করিতেছি। চমকপ্রদ কিছু তথ্য আছে আমার হাতে। এই তথ্যের সহিত রাজনৈতিক বিবাহ শাদীর কোন চ্যাপ্টার নাই, তাই লুঙ্গির গিট্টু হালকা করিলেও মান ইজ্জতে হাত পরিবার সম্ভাবনা থাকিবে না।
মৃত্যু অনাকাঙ্খিত হলেও অপ্রত্যাশিত নয়, এবং তাতে অগৌরবের কিছু নেই। মৃত্যু মৃত্যুই, তা যেভাবেই আসুক। মানুষ জন্ম নেয় মরার জন্যে। আমাদের জীবনটাই পল্লবিত হয় জন্ম-মৃত্যুর লড়াইকে ঘিরে। এ লড়াই জয়ী হওয়ার লড়াই নয়, অবধারিত পরাজয়ের লড়াই। জেনেও আমরা লড়ি, কারণ এর নামই বেচে থাকা।
দেখতে দেখতে আমরা কি অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি এসবে? হ্যা, উপরের ছবিটার কথাই বলছিলাম। শুধু ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকায় কেন, বাংলাদেশের যে কোন গলিতেই অহরহ ঘটছে এমন ঘটনা। একদল অন্যদলকে ধাওয়া করছে, জানোয়ারের মত কোপাচ্ছে এবং একটা দুটা লাশ ফেলে বীরদর্পে চলে যাচ্ছে হত্যাকারীর দল।
বাকশাল নামক একদলীয় শাসন বিদায় নিয়েছে আজ প্রায় ৩৫ বছর। কিছুদিন আগ পর্যন্ত এই নামের একটা রাজনৈতিক দলও সক্রিয় ছিল দেশে। জনবিচ্ছিন্নতার কারণে টিকতে পারেনি, এবং শেষ পর্যন্ত যে জঁড়ায়ুতে জন্ম সেখানে আত্মাহুতি দিয়ে বিদায় নিয়েছে আভ্যন্তরীণ ও বর্হিবিশ্বের চাপে। কিন্তু তাই বলে বাকশাল শব্দটা কি আমাদের জাতীয় জীবন হতে মুছে ফেলা গেছে চিরতরে?
শুধু খালেদা জিয়াই নন, চামড়া বাঁচানোর জন্যে অনেকেই জন্মতারিখ নিয়ে দুই নাম্বারি করে থাকেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার, আমাদের পরবর্তী 'প্রধানমন্ত্রী' সর্ব জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় ভার্জিনিয়া ও টেক্সাস ক্রিমিনাল কোর্টে দুইটা জন্ম তারিখ জমা দিয়ে প্রমান করেছেন মিথ্যাচার হতে কেউ মুক্ত নয়।