খবরে প্রকাশ সৌদি আরবের রিয়াদ বিমান বন্দরে হুতিদের হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছে। এই ১২ জনের দুইজন আবার বাংলাদেশি।
এবার আসা যাক গেল আগস্টে ন্যাটোর আদেলে গড়ে তোলা মক্কা প্যাক্টের ভূমিকায়। চুক্তিতে কথা ছিল প্যাক্টের এক দেশ আক্রান্ত হলে বাকিরা ঝাঁপিয়ে পরে রক্ষা করবে তাদের পার্টনার-ইন-কমবাটকে। সৌদি আরব আক্রান্ত, কিন্তু যুদ্ধের ময়দানের ধারে কাছে নেই বাকি দুই সদস্য তুরস্ক ও পাকিস্তান। তুরস্ক বলছে তারা অস্ত্র ও প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করছে। পাকিস্তান তার মিত্র দেশের জন্যে কিছু করছে তার কোন প্রমাণ নেই কারও কাছে। কিছুই করছেনা তারা কারণ করার মত তেমন কিছু নেই তাদের হাতে। সৈন্য পাঠিয়ে সন্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়ার মত আহাম্মক না তারা।
এই প্যাক্টে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে যারা আসমান জমিন উলট-পালট করে ফেলেছিলেন তাদের কাছে জিজ্ঞাসা, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে কোন ভূমিকায় দেখতে চাইতো প্যাক্টের বাকি সদস্যার? দেশটার শ্রমবাজারে আদম সাপ্লাই দেয়ার মত যুদ্ধের মাঠেও কি আদম সাপ্লাই চাইতো না সৌদি সরকার? এ ছাড়া প্যাক্টে কনট্রিবিউট করার মত আর কি থাকতো বাংলাদেশের হাতে? সৌদি ও ইয়েমেনি হুতিদের ঝগড়া অনেক দিনের। দুই পক্ষের লড়াইয়ে এক পক্ষের সমর্থনে যুদ্ধে যাওয়ার মত অবস্থায় আছে কি বাংলাদেশ?
প্যাক্টে যোগ দেয়ার পক্ষে যারা ছিলেন তাদের বক্তব্য ছিল বাংলাদেশের যোগদান তাকে ভারতের সামরিক সুপ্রেমেসি হতে প্রটেকশন দিবে। আসলেই কি তাই?
ধরি আমরা মক্কা প্যাক্টে যোগ দিয়েছি। কাল ভারত যদি আমাদের দেশ আক্রমণ করে প্যাক্টের বাকি সদস্যরা কি দেশটার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে মাঠে নামবে? এমন সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। পাকিস্তান তার স্বার্থের বিরুদ্ধে না গেলে বাংলাদেশের হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এমনটা যারা ভাবেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। অন্যদিকে সৌদি আরব ও তুরস্কের জন্যে ভারত হচ্ছে বিশাল এক বাজার। ১৪৭ কোটি মানুষের বাজার। বাংলাদেশের জন্যে এই দুই দেশের এক দেশও তার বাজার নষ্ট করবে বলে মনে হয়না।
এক কথায় মক্কা প্যাক্টের বাকি সদ্যসরা বাংলাদেশকে তাদের ডার্টি লণ্ড্রি পরিস্কার করার কাজে দেশটার সেনাবাহিনীকে মাঠে দেখতে বাধ্য করতো। পাশাপাশি মিশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দেশে দেশে তৈরি করতো নতুন নতুন শত্রু। সংকুচিত হত তার শ্রমবাজার। ইমপ্যাক্ট পরতো তার পোশাক রফতানীতে।