যতদূর মনে আছে তেনার বাড়ি যেতে শীতলক্ষ্যা পাড়ি দিতে হয়। হবে হয়ত বন্দর এলাকার কোথাও। প্রোফাইলে নিজকে মহিলা পৌর কমিশনার হিসাবে দাবি করেন। নাম রুজিনা আক্তার।
কোন আউলা চক্করে আমার বন্ধু তালিকায় যোগ হয়েছিলেন মনে নেই। এ নিয়ে আমার কোন অভিযোগ অথবা আক্ষেপ নেই।
বন্ধু তালিকায় এমন অনেকেই আছেন যাদের উপস্থিতি সহজে চোখে পড়েনা। তবে আমাদের রুজিনা কমিশনারের উপস্থিতি চোখে পরতে সময় লাগেনি। ছবি সহ নিয়মিত পোস্ট দিতেন। সবটাই ছিল একান্ত ব্যক্তিগত এবং চমকপ্রদ। কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলনা। বিশেষকরে পুরুষদের।
রুজিনা কমিশনারের দাবি বিশ্বাস করলে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে তিনি ছিলেন (হয়ত এখনও আছেন) একই সাথে তিন স্বামীর স্ত্রী। এবং তিন জনই নাকি বন্দুকের নলের মুখে অপহরণ করে বিয়ে করেছিল।
সময় অসময় তিন স্বামীর ডাকে সাড়া দিয়ে স্ত্রী দায়িত্ব পালন করতে হয়, এ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে এই তিন জনকে ডিঙ্গিয়ে রুজিনা কমিশনার চতুর্থ একজনকে ভালবাসেন। মনেপ্রাণে তাকেই আসল স্বামী বলে মানেন। সুযোগ বুঝে শারীরিক মিলনে ঐশ্বরিক প্রেমকে সার্থক করেন।
কাহিনী এক পর্যায়ে এতটাই টুইষ্টেড হয়ে যায় যে শেষপর্যন্ত কমিশনার বিবিকে আন-ফ্রেন্ড করতে বাধ্য হই।
আমার এই লেখার মূল চরিত্র কিন্তু রুজিনা কমিশনার না। যার উপর লেখা তেনার নাম কোবরাতুল হাঞ্জালা জাতিয় কিছু একটা। আমাদের এলাকায় অনেকে সন্ধ্যাবেলাকে হাইঞ্জা বেলা বলে চেনে। মিল থাকায় হাঞ্জালা ভাবি অত্র এলাকার হাইঞ্জা ভাবি হিসাবে পরিচিত।
সন্ধ্যাবেলার সাথে ভাবির একটা যোগসূত্র আছে। অনেকে বলেন হাইঞ্জা নামার সাথে ভাবির চেহারা চরিত্রও নাকি বদলে যায়। বাজারে অনেক রমরমা কাহিনী চালু আছে ভাবির অন্ধকার জীবন নিয়ে। এক সাথে তিন স্বামী না রাখলেও নাগর রাখেন একাধিক। সাহিত্য রসিক। গান গাইতে পারেন। কথায় কথায় কবিতা আওড়ান। প্রথম স্বামী কুয়েত গিয়ে সেই যে নিখোঁজ তার খবর আর কেউ কোনদিন পায়নি। দ্বিতীয় স্বামী মোটর সাইকেল এক্সিডেন্ট করে দুনিয়া হতে বিদায় নিয়েছিল। তৃতীয় স্বামীর সাথে ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ে কি এক গোলমাল হওয়ায় তালাক দিয়েছিলেন।
হাইঞ্জা ভাবি আওয়ামী লীগ করেন। স্থানীয় যুব মহিলা লীগের কি যেন একটা পদে ছিলেন। ভাবির ভবদরিয়ার সবকিছু উৎসর্গিত ৭১'এর চেতনায়। শয়নে স্বপনে বঙ্গবন্ধু। জীবনে মরণে শেখ হাসিনা আর শয়নকক্ষের বিছানায় চেতনার ফেরিওয়ালাদের কাফেলা।
সজলে গুঁজলে হাইঞ্জা ভাবিকে খুব সুন্দর লাগে। তিনি প্রায়ই গল্প করতেন ওবায়দুল কাদের ও শেখ সেলিম সহ অনেক বাঘা বাঘা নেতার বাঁকা চাউনির।
২৪'এর পরিবর্তনের সাথে ভাবিও হাল্কা বাতাসে কোথায় যেন মিলিয়ে যান। আন্টিল নাউ কেউ জানতে পারেনি তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন।
সনাতন ধর্মীদের দুর্গা পূজায় অনেকটা দেবীর মতই আমাদের হাইঞ্জা ভাবি দৃশ্যপটে উদয় হলেন। কপালে আলীশান এক লাল টিপ। মাথার মাঝ বরাবর লাল সিঁদুর। লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। সি-থ্রু হাতাকটা ব্লাউজ...এক কথায় অপূর্ব!
ভিডিও পোষ্ট করেছেন ফিরে পাওয়া যৌবনের। দলবেঁধে নাচ, গান, মা দুর্গার স্তুতি, কোনকিছুই বাদ ছিলনা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাবির ফিরে আসায় অবাক হইনি। আমি জানতাম পৃথিবীর কোন শক্তিই তাকে আটকে রাখতে পারবেনা। চেতনার বর্ম ভেদ করে তাকে ভেঙ্গে ফেলার মত কোন অপশক্তির জন্ম হয়নি বাংলাদেশে।
ফোন পেয়ে আমার উপর রাগ ঝাড়লেন দুঃসময়ে যোগাযোগ করিনি বলে। আর্থিক না হোক অন্তত মৌখিক সাহায্যটাও নাকি তেনার পাওনা ছিল। যথারীতি ক্ষমা চেয়ে জানতে চাইলাম এ যাত্রায় মা দুর্গাকে ঘিরে কেন এই উচ্ছ্বাস।
উত্তরে যা বললেন তা শুনে আমার টাসকি খাওয়ার অবস্থা!
সারমর্ম করলে বুঝতে হবে, আসলে মা-দুর্গার চেহারায় আসনে বসেছিলেন ভাবির গণতন্ত্রের মা জননী জননেত্রী শেখ হাসিনা। রাজনীতির মাঠ বলতে গেলে অবরুদ্ধ, তাই পূজাকে উপলক্ষ করে আসলে এ ছিল আওয়ামী গেট-টুগেদার। তারা নেচে গেয়ে নেত্রীর দেশে ফেরার রিহার্সাল দিয়েছিল মাত্র। জাতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও নাকি বার্তা চলে গেছে 'জননেত্রী'র আগমনী বার্তা। ঢাকাস্থ মার্কিন হাইকমিশনার ওয়াশিংটনে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে দেশটার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন আসন্ন পরিবর্তন। প্রেসিডেন্টও নাকি গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন।
এবার ছিল আমার উত্তর দেয়ার পালা। রাখঢাক না করে নিজের অসন্তুষ্টির কথা জানালাম। এই দুর্গা বিজয়ার রঙ মাখামাখি আওয়ামী লীগের কতটা ক্ষতি করেছে তার একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিলাম। এতদিন ধরে চালু থাকা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর নির্যাতনের যে হৃদয়বিদারক কাহিনী তার গোঁড়া সমূলে উৎপাটন করে দি্যেছে রাস্তার এই ক্ষেমটা নাচ। বিশ্ব দেখল বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির হারমোনি। সাথে বেড়ে গেলে তারেক জিয়া সরকারের সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা। এই নর্তন কুর্দনের বদলে দেশে যদি দু'চারটা প্রতিমা ভাঙ্গা যেতো তাহলে হয়ত শুভেন্দু অধিকারী বজরং বাহিনী নিয়ে বিপুল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পরত গো-খেকো বাংলাদেশিদের উপর। নতুন এক মহাভারত লেখা হয়ে যেত এ দেশে। ঘোড়ায় চড়ে হাতে খোলা তরবারি নিয়ে বিজয়িনী সোনাভানের মত ফিরতে পারতেন হাঞ্জেলা ভাবির মা দুর্গা শেখ হাসিনা।
পালটা কোন জবাব না দিয়ে খট করে লাইনটা কেটে দিলেন যুব মহিলা লীগের নেত্রী কোবরাতুল হাঞ্জালা।
আমি কিছুটা হলেও হতাশ হলাম অন্য কারণে।
ও হ্যাঁ, ক'দিন আগে বন্দরের রুজিনা কমিশনারের প্রোফাইলে চেক করেও হতাশ হলাম। তিন স্বামীর রসালো কাহিনীর সবটাই উধাও। কমিশনার আপার মাথায় এখন হিজাব। হাতে তসবি। সর্বশেষ স্বামীর ছবিটার সাথে আগের তিন স্বামী ও প্রেমিকের ছবির কোন মিল খুঁজে পেলাম না।