আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও বাংলাদেশের দুর্নীতি!

Submitted by WatchDog on Monday, October 5, 2026

বাংলাদেশে মন্ত্রীর চেয়ারে কেউ বসলে তাকে দুর্নীতির সন্ধানে কোথাও যেতে হয়না, বরং দুর্নীতি নিজে এসে দরজায় কড়া নাড়ে। হরেক রকমের মানুষ হরেক রকম প্রস্তাব নিয়ে সচিবালয়ে হাজির হয়। চ্যানেলের মাধ্যমে মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে। সচিবালয়ে মুড অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং হলে রাত নামার পর মন্ত্রীর বাড়িতেই মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং ফাইনাল করা হয়। এভাবেই দুর্নীতি লতায় পাতায় বেড়ে উঠে মহি-রূহে পরিণত হয়। মন্ত্রীর তেলেসমাতিতে যে দানবের জন্ম হয় সে ক্ষুধার্ত হায়েনা হয়ে চষে বেড়ায় গোটা বাংলাদেশ।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সচিবালয়ের 'পবিত্র' চেয়ারে বসে অলি ওলামা বনে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। নিশ্চয় কোথাও কিছু ঘটেছে এবং তিনি তার বেনিফিট নিয়েছেন।
তবে প্রশ্ন উঠবে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার আকার ও আকৃতি নিয়ে।

তিনি আসলেই কি দাও মেরে বাংলাদেশকে খণ্ডন করে তার অর্ধেক বিদেশে পাচার করেছিলেন? দুর্নীতি দমন কমিশন নামে আমাদের যে কমিশন আছে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে তাদের ব্যস্ততা দেখলে এমনটাই মনে হবে ।

কে না জানে বাংলাদেশের দুর্নীতি কমিশনের মূল কাজ হলো সরকারী দলের চুরি চামারি প্রটেকশন দেয়া। এ কাজের মোক্ষম অস্ত্র হচ্ছে সরকার দলের প্রতিপক্ষকে দৌড়ের উপর রাখা।
এই কাজে অতীতের ফ্যাসিষ্ট সরকার বেশ সাফল্য দেখিয়েছেন। দেশের গোটা অর্থনীতিকে যখন মহীয়সী তার উজির নাজির কোতোয়ালদের নিয়ে চেটেপুটে খেয়ে সোগা মেরে তালগাছের আগায় তুলে ফেলেছিলেন তখন কোথাকার কোন মধ্যপ্রাচ্যের রাজার দেয়া ২ কোটি টাকার গতিপথ সন্ধান করতে গিয়ে এই দুদক খরচ করে ফেলে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এবং নিজেদের ধাপ্পাবাজির অনুসন্ধান শেষে ফাঁসিয়ে দেয় ক্ষমতাসীন দলের প্রতিপক্ষ বিরোধী দলের নেত্রীকে।

বাংলাদেশের দুদক হচ্ছে কোটিপতিদের ক্লাব।
দুর্নীতির অভিযোগ খণ্ডাতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যে বক্তব্য রেখেছেন বুঝাই যাচ্ছে দুদকের কোটিপতিদের তা পছন্দ হয়নি। কেবল পছন্দ-অপছন্দের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখেনি নিজেদের গোস্বা, বরং চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছে জনাব ভূঁইয়ার প্রতিবাদ। তারাই ধারাবাহিকতায় ইউনুস সরকারের এই উপদেষ্টার দেশত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে হাজির হয়েছে।

কেউ বলছে ১১ হাজার কোটি, আওয়ামী মিডিয়া যন্ত্র তা ম্যাগনিফাই করে সংখ্যাটা নিয়ে গেছে ১১ লাখ কোটিতে। ১৮ মাসে একজন তরুণ, অনভিজ্ঞ মন্ত্রীর পক্ষে আদৌ কি সম্ভব ছিল এই বিশাল অংকের টাকা বিদেশে পাচার করা?
আওয়ামী মেগা লুটেরাদের লুটের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল লুটের পাশাপাশি তৃতীয় দেশের নাগরিকত্ব নেয়া। কারণ তাদের জানা ছিল একদিন এসব অর্থ কালনাগীন হয়ে ফিরে আসবে, ছোবল মারবে সর্বাঙ্গে। এ ছোবল হতে সেইফ এক্সিটের জন্য বিদেশী নাগরিকত্ব ছিল বাধ্যতামূলক। আওয়ামী লুটেরাদের আজকের প্রবাস জীবন তারই সফল বাস্তবায়ন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কি কোন বিদেশী নাগরিকত্ব আছে? থাকলে তা কোন দেশের এবং ঐ দেশের কোন ব্যাংকে পাচার করা অর্থ জমা হয়েছে তা জানা থাকলে দুদকের উচিৎ হবে তা সামনে আনা।

দুদকের সজীব ভূঁইয়া মিশনের মাঝপথে হাটি হাঁড়ি ভেঙ্গে দিল ঢাকার এক ওসি। ফাঁস হওয়া ফোনালাপে জানা গেল পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আগমনের অপেক্ষায় আছেন ওসি সাহেব। একধাপ এগিয়ে তিনি উপদেশ দিচ্ছেন ডিসেম্বর কেন, এখনই ফিরে আসা উচিৎ।

কেবল থানা পুলিশ না, গোটা বাংলাদেশ জিম্মি হয়ে আছে আওয়ামী নিয়োগ পাওয়া ছাত্রলীগ যুবলীগ ক্যাডারদের সমন্বয়ে তৈরি প্রশাসনের হাতে। দুদকও এর বাইরে না। আমাদের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে টার্গেট করে দুদক একই ম্যাসেজ পাঠাচ্ছে পতিত স্বৈরাচারকে, যে ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলেন গুলশান থানার ওসি। সাধু সাবধান!!!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন