ইতিহাস কথা বলে!

Submitted by WatchDog on Monday, October 5, 2026

ওসমান হাদির ইনকিলাব মঞ্চ নাকি পাকিস্তানের জনক মোহম্মদ আলী জিন্নার জন্মদিবস পালন করেছে। কতিপয় গুষ্টি এ ঘটনা নিয়ে দেশকে কারবালার মাঠ বানানোর চেষ্টা করছে। প্রথমত, ঘটনা কি আসলেই সত্যি? দ্বিতীয়ত, সত্য হয়ে থাকলে তাতে দেশ ও জাতি হিসাবে আমাদের কতটা ক্ষতি হয়ে গেছে?
অনেক খুনি স্বৈরাচারের জন্মদিনও তো আমরা কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে পালন করি, ইনকিলাব মঞ্চের পালনে তেমন কি কোন শান শওকত ছিল?
আসলে সমস্যা মোহম্মদ আলী জিন্না না, সমস্যা পাকিস্তান। পাকিস্তান নাম মুখে আনলে অনেকে নাকি দাঁত ব্রাশ করার তাগাদা অনুভব করেন। অনেকের আবার দেশটার ৪০ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় বমি চলে আসে। দাঁত ব্রাশ আর বমি দুটোই ব্যক্তিগত বিষয়, তাতে বাধা দেয়ার আমি আপনি কেউ নই।

যারা জিন্নার জন্মদিন পালন নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করছেন তারা আদৌ কি বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে পরিচিত?
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত না হলে দেশ হিসাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটতো না, এটা কি মিথ্যা? ১৯৪৭ আর জিন্নাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে গেলে সে ইতিহাস হবে খণ্ডিত ইতিহাস, ব্রাহ্মণ্যবাদের ইতিহাস।
মোহম্মদ আলী জিন্নার আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যাদের জানা নেই তাদের উচিৎ হবে পূর্ব পুরুষদের কেউ বেঁচে থাকলে তাদের জিজ্ঞাস করা কেন অবিভক্ত ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি দেশ সৃষ্টির তাগাদা ছিল।
ব্রেইন ডেমেজেড আওয়ামী লীগারদের জানা থাকলেও প্রভুদের সন্তুষ্টির জন্যে তারা কাহিনী সামনে আসবেনা। কথা বলবে না অবিভক্ত ভারতে হিন্দু জমিদারদের রক্তচোষা অত্যাচার নিয়ে। কেন ওসব জমিদারদের বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে মুসলমানরা তাদের পায়ের জুতা হাতে করে হাঁটতে বাধ্য ছিল তার গল্প। মুসলমান কৃষক পরিবারের সন্তানদের স্কুলে যাওয়ায় কারা বাধা দিত তার কাহিনী বললে তারা বলবে এ তো রাজাকারের গল্প। বাস্তবতা হচ্ছে সব বাধা পেরিয়ে স্কুল আঙ্গিনায় পা রাখতে সক্ষম হলেও তাদের জন্যে নির্ধারিত থাকতো চটের বস্তার আসন। আর বাবুদের সন্তানরা টুল-টেবিলে বসে কথিত যবন সন্তানদের নিয়ে হাসি-তামাসা করতো।
এসব বই-পুস্তক অথবা উপন্যাসের কোন কাহিনী হতে নেয়া না, এ গল্প আমার নিজ পরিবারের গল্প। আব্বা নিজে আমাকে সে পথ দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে গেছেন যে পথে তিনি নিজে ধুতি পরে জুতা হাতে নিয়ে শিশু কৈশোর কাল পার করেছিলেন।

জিন্নার জন্মদিন পালনে আমাদের নৈতিক অথবা ঐতিহাসিক কোন বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু কেউ পালন করলে তা নিয়ে কারবালার মাঠ বানানো কেবল নিজের অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। সে অজ্ঞতা হতে পারে ইচ্ছাকৃত অথবা মগজের দৈণ্যতা।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন