হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ...

Submitted by WatchDog on Saturday, September 12, 2026

দুনিয়া এখন অন্যরকম। গেল সহস্রাব্দির দুনিয়ার সাথে এই সহস্রাব্দির দুনিয়ার পার্থক্য এখন অনেক। বাইরের দিকে চোখ না ফিরিয়ে দেশের দিকে চোখ ফেরালেই চোখে পরবে এসব পার্থক্য।
এই যেমন হিউম্যান রিলেশনশিপ।
বাংলাদেশে এখন এরেঞ্জড মেরেজ অনেকটাই থিং অব দ্যা পাস্ট। গ্রামের রক্ষণশীল পরিবারের সহজ সরল মেয়েদেরও এখন বয়-ফ্রেন্ড থাকে। এবং এ সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। মা-বাবা অন্যকিছু চেষ্টা করলে ওরা বাড়ি হতে পালিয়ে যায়। জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হলে অনেকে আত্মহত্যা করতেও দ্বিধা করেনা। শহরের কথা না হয় বাদই দিলাম।
বাংলাদেশের গদিচ্যুত অবৈধ সরকার প্রধানের পারিবারিক রসায়ন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করাটা বোধহয় ভদ্রোচিত হবেনা, কারণ বিয়ে, সংসার, তালাক যে কোন পরিবারের যে কারও সাথে ঘটতে পারে।
কিন্তু খটকাটা অন্য জায়গায়!

আপনি যখন নিজকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির পরিবার হিসাবে দাবি করবেন তখন আপনার নিজের পরিবারেও সে শ্রেষ্ঠত্বের কিছু অবশিষ্ট থাকতে হবে।
আসুন তেমন কিছুর নমুনা সামনে এনে তা বিশ্লেষণের চেষ্টা করি।

- বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ তখন দেশের প্রেসিডেন্ট এবং বাস করেন বঙ্গভবনে। ভবনের গার্ডরা একদিন অবাক হয়ে দেখল সামনের ফুটপাথে বসে এক ভদ্রলোক চোখের পানি মুছছে। পাগল ভেবে বিদায় করতে চাইলে ভদ্রলোক ভেতরে খবর নিতে বললেন। এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পেয়ে উনাকে সম্মানের সাথে নিয়ে গেলেন ভেতর। উনি ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়া। সরকারী বাড়ি হতে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির বংশধর। বিচারপতি শাহবুদ্দিন আহমদের অতি পরিচিতদের একজন ছিলেন এই ওয়াজেদ মিয়া। বেশ কিছুদিন লুকিয়ে ছিলেন ঐ ভবনে এবং নিজের বিবাহিত জীবন নিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন। বাইরের শেখ হাসিনার সাথে ভেতরের শেখ হাসিনার কি ভয়াবহ পার্থক্য তা উল্লেখ করে আফসোস করেছিলেন নিজের বিবাহিত জীবন নিয়ে।

- ৯ই মে ২০০৮ সালে ওয়াজেদ মিয়া মারা যান। মারা যাওয়ার খবর পেয়ে বাবার মরা লাশ দেখতে অনীহা প্রকাশ করেন বিশ্ব আইটি সাম্রাজ্যের দেবদূত, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির দৌহিত্র, ৩০ লাখ শহীদের জন্য সদা অশ্রুপাত করা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।
তিনি ২য় স্ত্রীও হারিয়েছেন। বিদেশী স্ত্রীর সাথে তালাক ফয়সালা করেছেন কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। এখন মায়ের দোয়া অর্থ দিয়ে পই পই করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক দেশ হতে অন্য দেশে।

- একই বংশের আরেক আলোকবর্তিকা শেখ রেহানা যখন বাবার মৃত্যুর পর দেশে ফেরেন স্বামীর মাথার টিউমার অপসারণের খরচ যোগাতে সেদিন দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করতে বাধ্য হন। এবং সে মুহূর্তে ভিক্ষার থালিতে প্রয়োজনীয় অর্থ সাজিয়ে এগিয়ে আসেন এ মুহূর্তে জেলের ভাত খাওয়া দরবেশ বাবা খ্যাত সালমান এফ রহমান। এবং এখান হতেই শুরু হয় দুই পরিবারের ঐতিহাসিক 'পবিত্র' সম্পর্ক।

দরবেশ বাবা তার বিলিয়ন ডলার সম্পদ প্রকাশ্যে এনে ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও তার কাউন্টার পার্ট শেখ রেহানা নীরবে নিভৃতে হাজার কোটির মালিক হয়েছেন। ধন্য করেছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ডাইনাস্টিকে।

শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিক।
শ্রেষ্ঠ বাঙালির শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার অন্যতম কর্ণধার। নানার পরিচয়কে পুঁজি করে নির্বাচনে জিতে পা রাখলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। কিন্তু হায়! ওখানেও গড়বড়! দশ হাত ঘুরিয়ে নিজের কেনা বাড়ির মালিকানা বুঝে পেয়ে ভেবেছিলেন সাদা স্বামী নিয়ে সুখে শান্তিতে বাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট এই এমপির রাজকীয় জীবনও হুরমুর করে ভেঙ্গে পরে। দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে মন্ত্রিত্ব হারান। সামনের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন হারাতে যাচ্ছেন এটাও প্রায় নিশ্চিত।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
শেখ হাসিনার কন্যা। চুরির বস্তা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া মায়ের দোয়া নিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায়। চাকরি নিশ্চিত করতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার উপর দিয়েছিলেন ভুয়া তথ্য। ইউনুস সরকারের দেয়া তথ্য আমলে নিয়ে এই সংস্থা তাকে পাঠিয়েছিল নির্বাসিত 'হানিমুনে'। ওখানে গিয়েও করলেন সেই কাজ যে কাজের জন্যে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি পরিবারের আছে বিশাল ঐতিহ্য। চুরি! তাও আবার ৯০০ ডলার। অবস্থা বেগতিক বুঝে নিজেই বিদায় নিলেন।

হিটলারের পতনের পর তার অনুগত নাৎসি বাহিনী পালাতে বাধ্য হয়েছিল। অনেকে আত্মহত্যা করেছিল। অনেককে জামাই আদর করে পাঠানো হয়েছিল পরপারে। আর্জেন্টিনার জঙ্গলে পালিয়ে থাকা জেনারেলদের অনেককে ধরে এনে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল ইসরায়েল। নুরেমবার্গ ট্রায়াল নাৎসিদের কফিনে ঠুকে দিয়েছিল শেষ পেরেক।

আওয়ামী লীগ ও তার পার্টনার ইন ক্রাইমের অনেক সদস্যকে 'জামাই আদর' করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও করা হবে। এই আদরকে অনেকে শিল্পী বাধনের সাথে ইতালিতে ঘটে যাওয়া আদরকে এই লাইনে দাঁড় করিয়ে সুশিল বনতে চাইছেন।

৭১'সালে রাজাকারদের সাথে কি করা হয়েছে তা জানতে আমাদের বোধহয় কাদের সিদ্দিকির দ্বারস্থ হতে হবে। কারণ তিনি নিজ হাতে একাই খুন করেছিলেন শ'খানেক রাজাকার। সে তুলনায় ২৪'শের রাজাকারদের কিছুই করা হয়নি। উলটো তাদের করা 'মব'কে জাস্টিফাই করার চেষ্টা হচ্ছে তুহিন আফরোজদের দেয়া ধোলাইকে সামনে এনে।
দুটো দুই জিনিস, যেমন ছিল ৭১'এ মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের বৈপরীত্য।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি পরিবারের বিয়ে, তালাক, জালিয়াতি, লুটের সাথে বাকি বাংলাদেশিদের বিয়ে, তালাকের কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে। কারণ বাকি কেউ নিজেদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলে দাবি করেনা।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন