GOP মানে 'গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি' - আমেরিকার ২ পার্টি ভিত্তিক গণতন্ত্রের এ হচ্ছে এক পার্টির পরিচয়। একই দলের আরও একটা নাম আছে যা হচ্ছে, রিপাবলিকান পার্টি। এই পার্টির ব্যানারে নির্বাচন করে জয়ী হয়ে এসেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটার দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে মেজোরিটিও এই দলের।
মূল বিষয়টায় যাওয়ার আগে আসুন আমেরিকার শাসন ব্যবস্থার উপর কিছুটা ধারণা নেই।
আমেরিকান সরকারের ৩টা ব্রাঞ্চ: Legislative, Judicial এবং Executive।
Legislative ব্রাঞ্চ হচ্ছে দেশটার পার্লামেন্ট যার আবার দুইটা কক্ষ: হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ এবং সিনেট। হাউসের সদস্য সংখ্যা ৪৩৫ এবং সিনেটের ১০০।
Judicial হচ্ছে দেশের বিচার ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সংস্থা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট।
Executive ব্রাঞ্চের দায়িত্বে দেশটার সরকার, যার প্রধান হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট।
এই দেশে কোন আইন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন করতে চাইলে তার শুরুটা হয় পার্লামেন্টের হাউস হতে। ওখানে পাশ করতে চাইলে সিম্পল মেজোরিটি যথেষ্ট। হাউসে পাশ করা আইন আসে সিনেটে। ওখানে একই আইন পাশ করাতে চাইলে প্রয়োজন হয় নূন্যতম ৬০টা ভোট। পার্লামেন্টের এই কক্ষে পাশ হলে তা যায় প্রেসিডেন্টের টেবিলে। প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হয়। প্রেসিডেন্টের পছন্দ না হলে তিনি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। ভেটো দিলে পার্লামেন্ট সদস্যদের অধিকার আছে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার। ওখানেই নির্ধারিত হয় প্রস্তাবিত আইনের ভাগ্য।
এবারই প্রথম না, এর আগে আরও তিনবার এমন লোভ দেখিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে এবারের লোভ আইন কানুন, গণতন্ত্র, সভ্যতা অসভ্যতার সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট এটাকে বলছেন ডিভিডেন্ড; অর্থাৎ লভ্যাংশ! আসছে নভেম্বরে দেশটার মিডটার্ম পার্লামেন্ট নির্বাচিত। সব ধরণের ফোরকাস্ট বলছে প্রেসিডেন্টের দল এই নির্বাচনে গো হারা হারতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নিজেও এটা উপলদ্বি করতে পারছেন। জেতার জন্যে সোজা পথে না গিয়ে তিনি ধরেছেন বাঁকা পথ। ঘোষণা দিয়েছেন আসছে নির্বাচনে তার গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি জয়লাভ করলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে তিনি ৫ হাজার ডলার করে দেবেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন উপলক্ষে ৩ বার একই লোভ দেখিয়েছিলেন। স্বার্থ হাসিল হয়ে যাওয়ার পর কোন বারই তিনি প্রতিশ্রুতি পালন করেননি। নিজকে তিনি বার বার প্যথালজিক্যাল মিথ্যুক হিসাবে পরিচিত করেছেন।
এ যাত্রায় দলের জয় প্রেসিডেন্টের জন্যে খুবই জরুরি, কারণ হাউসে প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটরা সিম্পল মেজোরিটি পেতে যাচ্ছে, এ নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। ট্রাম্প ভয় পাচ্ছেন সিনেটে ডেমোক্রেটরা ৬০ আসনে লাভ করতে পারে। আর এমনটা হলে এই প্রেসিডেন্টকে তৃতীয়বারের মত ইম্পিচ করা হতে পারে। আগের দুই বার সিনেটে ৬০ ভোট না পাওয়ায় ডেমোক্রেটরা সফল হতে পারেনি।
আমরা বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতির সাথে পরিচিত, বিশেষকরে আওয়ামী নির্বাচন। এ দেশের নির্বাচনে ব্যালট পেপার সহ বাক্স লোপাট, দিনের ভোট রাতে হওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ দিয়ে ভোট কেনাও একটি অঘোষিত সংস্কৃতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথাপিছু ৫ হাজার ডলার দেয়ার ঘোষণা সব বিবেচনায় বাংলাদেশের মত কলুষিত নির্বাচনী সংস্কৃতিকেও হার মানিয়েছে। আমেরিকার জন্যে এ ধরণের ঘোষণা অশ্রুত, অকল্পনীয়। শেখ হাসিনাকে আমরা বিশ্ব সেরা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে জেনে আসছি, ভোট দেয়ার জন্যে ট্রাম্পের ঘোষিত ৫ হাজার ডলারের ঘুষ শেখ হাসিনার ইঞ্জিনিয়ারিংকেও হার মানাবে বলে মনে-হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠবে আমেরিকার ২৫ কোটি ভোটারদের সবাইকে যদি ৫ হাজার ডলার করে দেয়া হয় কোত্থেকে আসবে এই অর্থ? প্রেসিডেন্টের ব্যয় করার মত ফান্ড আছে, তবে তা হলে ভোট কেনার কোন রাস্তা আছে কিনা তা যাচাই করতে নিশ্চয় ডেমোক্রেটরা আদালতের শরণাপন্ন হবে।
তবে যে সব তথ্য আমেরিকার রাজনৈতিক বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে তা আমলে নিলে বিশ্বাস করতে হবে দেশটার ইহুদি লবি এই অর্থের বিরাট একটা অংশ যোগান দেবে। কারণ তাদের জন্যে রিপাবলিকান পার্টিকে ক্ষমতায় রাখাটা জরুরি। এই দল ক্ষমতা হারালে ইহুদিদের আবাসভূমি ইস*রায়েলে*র ভাগ্যাকাশে নেমে আসবে কালো মেঘের ঘনঘটা।