বাড়িঘর জমিজমা বিক্রি করে মা-বাবা সন্তানদের বিদেশ পাঠায়। ওরা হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দেয়। জীবন বাজি রেখে ভূমধ্য সাগর পাড়ি দেয় ডিঙ্গির মত ছোট নৌকায় করে। বন-জঙ্গল পাহাড় পর্বত পার হয়ে শেষপর্যন্ত পা রাখে ইউরোপের মাটিতে। কেবল তখনই শুরু হয় বেচে থাকার নতুন লড়াই। একদিকে ইমিগ্রেশন, পাশাপাশি দু'বেলা দু'মুঠো খেয়ে সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পরিশ্রম। পয়সা বাঁচানোর তাগিদে দুজনের রুমে ১০ জনের বাস। টয়লেটে বিছানা পেতে রাত কাটানো...এ কাহিনীর কোন শেষ নেই।
সাতসমুদ্র তের নদীর ওপারের দৃশ্য আরও কঠিন, আরও নির্মম। মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী সন্তানরা তীর্থের কাকের মত অপেক্ষায় থাকে কখন আসবে আর্থিক সচ্ছলতার সে মাহেন্দ্রক্ষণ। এবং অনেকের জন্যে ধরাও দেয় সে সব মুহূর্ত।
কিন্তু যখন দেশীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ আসে কি এক অলৌকিক কারণে বদলে যায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ভুলে যায় কি কারণে আপনজনদের ছেড়ে ওরা প্রবাসে পরে আছে। ভুলে যায় তাদের বিদেশ পাড়ি দেয়ার জন্যে যারা অর্থ যুগিয়েছিল তাদের মুখাবয়ব। ভুলে যায় সাহারা মরু পাড়ি দেয়ার ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন। সবকিছু ছাপিয়ে তাদের মগজে চেপে বসে রাজনীতির ভুত।
ইতালির ভেনিস শহরে চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্যে হাজির হয়েছিলেন জনৈক বাংলাদেশি অভিনেত্রী। এবং তার উপর শারীরিক আক্রমণে যেন বাধ্য বাধকতা ছিল ঐ শহরে বসবাসরত কতিপয় বাংলাদেশির জন্যে। কারণ ঐ অভিনেত্রী ২৪'এর জুলাই পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। ঐ পরিবর্তন ক্ষমতা হতে কুকুরের মত পালাতে বাধ্য করেছিল তাদের প্রভু ১৭ বছরের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে।
দু'দিন আগে যে আদম ডিঙ্গিতে করে সাগরের উত্তাল ঢেউ পাড়ি দিয়ে চোরা পথে ইতালিতে পা রেখেছিল সে আদম প্রথম সুযোগেই নিজের রাজনৈতিক বিশ্বস্ততা ও দাসত্ব প্রমাণ করতে কার্পণ্য করেনি। এখানেই পার্থক্য বাকি বিশ্বের রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সাথে বাংলাদেশি যোদ্ধাদের।
নিশ্চয় ইতালির পুলিশ এখন খুঁজে বেড়াবে তাদের যারা শারীরিক আক্রমণের সাথে জড়িত ছিল। এমনও হতে পারে অপরাধের শাস্তি হিসাবে তারা জেলে যাবে অথবা তল্পিতল্পা গুটিয়ে মাতৃভূমির পথ ধরবে।
লাভক্ষতির সমীকরণ মেলাতে গেলে কার লাভ আর কার ক্ষতি হবে এখানে?
শেখ হাসিনার বিলিওনিয়র পুত্র ঠিকই ভেনিসের নয়নাভিরাম দৃশ্যপটের কোন এক রেস্তোরায় বসে রাতের ক্যান্ডল-লাইট ডিনার শেষ করবে, আর ঐ একই সময় কুমিল্লার হাইমচরের কোন এক তাসের আলী হয়ত চোখের পানি নাকের পানি এক করে চেপে বসবে ঢাকাগামী কোন এক ফ্লাইটে!
ভাই তাসের আলী,
ইতালি যাওয়ার ৩০ লাখের ৫ লাখ এখনো শোধ হয়নি। বাকি ২৫ লাখ পরিশোধ করবে কে, শেখ হাসিনা? তার পুত্র জয়? হাইমচরের আওয়ামী সভাপতি ছ্যার ছ্যার আলী, না অন্য কেউ? এসবের উত্তর না জেনে আপনি কেন হাত উঠিয়েছিলেন নায়িকা বাঁধনের গায়ে?