জুলাই পরিবর্তনের ১ম বেনিফিসিয়ারি বিএনপি। যে দল আর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল ২৪'এর জুলাই সে দলকে হঠাৎ কুড়িয়ে পাওয়া ফলের মত ক্ষমতায় বসিয়েছিল। আওয়ামী অত্যাচারে ছিন্নভিন্ন জিয়া পরিবারের কর্ণধার বেগম জিয়ার শেষটা ছিল অনেকটা হিন্দি সিনেমার সর্ব-সুখের সমাপ্তির মত। জুলাই পরিবর্তন সুযোগ করে দিয়েছিল বহুল প্রত্যাশিত বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার। লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেখা পেয়েছিলেন প্রায় হারিয়ে যাওয়া একমাত্র সন্তানের। দেশে ফিরে কোটি মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে সমাপ্ত করেছিলেন জীবন যুদ্ধ। সবই সম্ভব হয়েছিল জুলাই পরিবর্তনের কারণে।
দল হিসাবে বিএনপি কি স্বীকার করে জুলাইয়ের অবদান? তারা কি স্বীকার করে জুলাই না হলে তাদের অনেকে এখনও পলাতক জীবন কাটাতে বাধ্য হতেন? জেল-জুলুম, হামলা মামলার অবসানে জুলাইয়ের কি কোন অবদান ছিল না বিএনপির জন্যে? এমন কিছু প্রশ্ন সামনে চলে আসে যখন একই বিএনপির ফজলুর রহমান আকা ফজা পাগলা ও নিলোফার মনিদের মুখ হতে অহরহ আওয়ামী বয়ান নির্গত হয়। জুলাইয়ে আওয়ামী নির্মমতার শিকার ১৪০০ মানুষ হত্যার প্রসঙ্গ সামনে আসলে ফজলুর রহমানের সামনে আসে পুলিশ হত্যা। কথিত পুলিশ হত্যার সংখ্যাকে আওয়ামী সংখ্যা দিয়ে ডিফেইম করা হয় ১৪০০ মানুষ হত্যা। একধাপ এগিয়ে নিলোফার মনি ১৪০০ সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে সামান্যতম দ্বিধা করেন না।
এখানে একটাই প্রশ্ন, জুলাইকে হেয়, অবজ্ঞা ও প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে কার পারপাস সার্ভ করছেন বিএনপির এই দুই সাংসদ? দলীয় ও সরকার প্রধান জনাব তারেক জিয়া কি অবগত নন তাদের কর্মকাণ্ডে? দলীয় পরিচয়ে তারা যখন মিডিয়াতে যান আমাদের ধরে নিতে হয় তারা যা বলছেন তা দলীয় প্লাটফর্ম হতে বলছেন। জুলাই নিয়ে দলীয় অবস্থানেরই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে মনে হবে জনাব তারেক জিয়া হয়ত জুলাই নিয়ে কারও কাছে দায়বদ্ধ। হয়ত ফজলুর রহমান ও নিলোফার মনিদের দিয়ে অদৃশ্য কোন শক্তি কিছু বলাতে চাইছে যা ঠেকাতে তারেক জিয়া অক্ষম। একটা জিনিস লক্ষণীয়, জুলাই অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুখ হতেও তেমন কিছু শোনা যায়না। কোথায় কি যেন একটা কাজ করছেনা দলটার জন্যে।