দেশে রীতিমত একটা মহামারী চলছে। প্রতিদিন কম করে হলেও ১০/১২ জন করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। হয়ত অনেক মৃত্যুর খবর মিডিয়াতে আসছেনা, আসলে নিশ্চয় এ সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। হাম একটি অতি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এ রোগের জীবাণু বাতাসে ভাসতে পারে এবং এ রোগে আক্রান্ত একজনের সংস্পর্শে আসলে যে কেউ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তালিকার শীর্ষে। নিশ্চয় মৃত্যুর হিম-শীতল ভয় গ্রাস করে নিয়েছে গ্রাম-বাংলার অনেক জনপদ। এ সংক্রামক রোগ থামানোর জন্যে বর্তমান সরকার কি কিছু করছে?
চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ তাসনিম জারা হাম রোগের উপর তথ্যবহুল একটা আর্টিকেল লিখেছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, হাম খুবই সংক্রামক একটা রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। কোভিড বা ফ্লু-এর তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি। হামের ভাইরাস বাতাসে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার ২ ঘণ্টা পরেও সেখানে কেউ ঢুকলে হামে আক্রান্ত হতে পারেন। ঠিক এই কারণেই হামের আউটব্রেক ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়া প্রয়োজন। এটাই ‘হার্ড ইমিউনিটি’ এর সীমা। এর নিচে নামলেই ফাঁক তৈরি হয়, আর সেই ফাঁক দিয়ে ভাইরাস ঢুকে পড়ে। কোথায় ফাঁকা আছে, সেটা খুঁজে বের করতে না পারলে ভাইরাস আটকানো সম্ভব না।
রোগ প্রতিরোধে সরকারের করণীয় সম্পর্কে তিনি লিখেছেন:
- যেখানে কেস পাওয়া যাচ্ছে, সেই এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। শুধু জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে না, বরং ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম বা মহল্লা পর্যায়ে।
- এই চিহ্নিতকরণটা কীভাবে হবে? সরকারের পক্ষে একসাথে দেশের প্রতিটা ঘরে স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানো বাস্তবসম্মত না। তাই এমন একটি উপায় আমাদের বের করতে হবে, যেটা খুব অল্প সময়ে এবং সীমিত রিসোর্স দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
- উপায়টা হলো একটি জাতীয় হাম হট-লাইন বা কল সেন্টার চালু করা। এর মাধ্যমে হামের কেস শনাক্তকরণ, কন্টাক্ট ট্রেসিং, রিয়েল-টাইম ড্যাশ-বোর্ড এবং চিকিৎসার সমন্বয়- সবগুলোই করা সম্ভব। আমাদের জাতীয় টেলিমেডিসিন অবকাঠামোর উপর দাঁড়িয়েই এটা চালু করা সম্ভব।
ডাঃ জারার লেখাটা পড়ে মনে হয়েছিল তা সরকারের নজরে আসবে এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় একটা টাস্কফোর্স গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ মুহূর্তে কোনটা বেশী জরুরি, হামে আক্রান্ত শিশুদের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করে রোগ বিস্তার রোধের ব্যবস্থা নেয়া, নাকি হামের টীকা দেয়ার অবব্যস্থাপনা নিয়ে ইউনুস সরকারের বিচারকে অগ্রাধিকার দেয়া?
দেশের বিশিষ্ট হাম 'বিশেষজ্ঞরা' গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন এবং এ রোগের আদি-অন্ত নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। বক্তার তালিকায় ছিলেন সাংবাদিক আনিস আলমগির, জ ই মামুন, বিনোদন জগতের মেহের আফরোজ শাওন সহ একাধিক ব্যক্তি। আয়োজনের প্রচারে বলা হয়েছিল এটা ইউনিসেফের স্পন্সরে করা ডেইলি স্টারের আয়োজন। ঘাটাঘাটি করে জানা গেল ইউনিসেফের কোন সম্পৃক্ততা ছিলনা। ডেইলি স্টার বলছে তারা কেবল তাদের অডিটোরিয়াম ভাড়া দিয়েছিল আয়োজকদের কাছে।
দেশে নব্য গজিয়ে উঠা হাম বিশেষজ্ঞদের একত্রিত হওয়ার এক ও একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে কারও কোন সন্দেহ থাকার কথা না। ওরা হাম রোগের ছায়াতলে এক হয়েছিল তাদের মা জননী শতাব্দীর সেরা কুলাঙ্গার শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির শোক করতে। এ শোক তাদের অনন্তকালের, প্রতিদিনের। হামে আক্রান্ত শিশু মারা যাচ্ছে এ জন্যে তাদের কষ্ট হচ্ছে এর চাইতে বড় নষ্টামি আর হতে পারেনা। মেহের আফরোজ শাওন হাম কি এবং কেন হয় তার উপর নূন্যতম জ্ঞান রাখেন কিনা সন্দেহ আছে। তিনি তো গোলটেবিল করবেন কি করে অন্যের স্বামীকে ভাগিয়ে বিয়ে করা যায় তার উপর জ্ঞান দিতে।
ইউনুস সরকারের উপর তাদের অনেক রাগ কারণ আপার সিংহাসনে অন্য কেউ বসবে এটা হজম করার মত উদর নেই তাদের শরীরে। তারপর আছে সবার ভাণ্ডারে খন্ডকালীন জেল-হাজত খাটার অভিজ্ঞতা। প্রশ্ন হচ্ছে ইউনুস মাস্টারের ক্ষমতায়নের মূল ভূমিকায় তো ছিলা সারজিস, হাসনাত আর নাহিদরা। তাদের সোগায় আঙ্গুল দিতে স্বামী চোরদের বাধাটা কোথায় বুঝা যাচ্ছে না। নাকি ভয় আছে তাদের নিয়ে? বুলডজার দিয়ে ৩২ নাম্বারের নেংটা বাড়ির বাকিটা গুড়িয়ে দেয়ার ভয়? নাকি রাস্তাঘাটে ধোলাই হওয়ার অশংকা? সাহস থাকলে তাদের দিকে হাত বাড়াক হাম বিশেষজ্ঞের দল।
হাম নিয়ে ইউনুস মাস্টারের ইচ্ছাকৃত গাফিলতি থাকলে তা তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতির সামনে খোলাসা করুক বর্তমান সরকার। দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করুক, ইনক্লুডিং খোদ ডক্টর মোহম্মদ ইউনুস। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এসবের ধারে কাছেও যেতে চাইছেনা বর্তমান সরকার। তারা কৈ'এর তেলে কৈ ভাজতে লিপ্ত। ২৪'শের বিপ্লব তথা ১৭ বছর আওয়ামী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের ব্যর্থতার গ্লানি ধামাচাপা দিতে ইউনুস বিরোধী প্রচারণা তাদের জন্যেও জরুরি।