আপনি যখন রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে এমপি মন্ত্রী বনে যান হঠাৎ করেই বদলে যায় আপনার জীবন । সংসদ ভবনে আয়েশি সময়, মিডিয়ার অবিচ্ছিন্ন এটেনশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশাল অডিয়েন্স, মসৃণ অর্থ প্রবাহ, অপ্রত্যাশিত পাব্লিক তৈলমর্দন, সব মিলিয়ে দুদিন আগে মাঠে কিল-ঘুষি খাওয়া একজন রাজনীতিবিদ হঠাৎ করেই খুঁজে পান নতুন এক জীবন। অপ্রত্যাশিত এ জীবন একবার হজম করতে শিখে গেলে আগের আমাবস্যায় গ্রাম হতে গ্রামান্তরে পালিয়ে বেড়ানো রাজনীতিবিদের পক্ষে অতীতে ফিরে যাওয়া হয়ে যায় অনেক কষ্টের । ময়দানে কপচানো রাজনীতির রবীন্দ্র সংগীত সহসাই বেসুরা হয়ে যায়। পাশাপাশি শরীরে আসে পরিবর্তন। ভুঁড়ি বাড়তে শুরু করে। চেহারায় নামতে শুরু করে সুখের লাবণ্য।
বিকাশ নূরা, জুনায়েদ সাকি ট্রান্সফরমেশন অপ্রত্যাশিত ছিলনা কারণ এ দিনটার জন্যে তাদের প্রস্তুতি ছিল অনেক দিনের। ঘাটে ঘাটে জল খেয়ে এ বন্দরে তরী ভিড়িয়েছে তারা। সময় এখন তাদের ভোগের।
সদ্য গঠিত এনসিপি নেতাদের পরিবর্তনটা কেন জানি বেশী কুৎসিত লাগছে আমার চোখে। সংসদের অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ছায়ায় বসে হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাহিদ ইসলাম টেবিল চাপড়ানো আদায়ের জন্যে অনেক কিছুই বলছেন কিন্তু পাশাপাশি সরে এসেছেন নিজেদের মূল লক্ষ্য হতে। কথা ছিল রাষ্ট্র মেরামত করবেন তারা, বদলে দেবেন ঘুণে ধরা পারিবারিক রাজনীতি, শাসনতন্ত্র সংশোধন করে ফিরিয়ে আনবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, চালু করবেন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট, ব্যালেন্স করবেন সরকার প্রধান ও রাষ্ট্র প্রধানের ক্ষমতার ভারসাম্য!
কোথায় গেল এসব?
হাসনাত আবদুল্লাহ চেহারায় আজকাল মা ও মাটির ছায়া নেই, আছে সংসদ ভবনের চাকচিক্য। নাহিদ ইসলামের শরীর দিন দিন স্ফীত হচ্ছে।ৎ চেহারায় ফুটে উঠছে সচ্ছলতার মায়াবী আভা।
রাস্তার নেতারা সংসদে গেলে রাস্তার দিনগুলির কথা ভুলে যান এ নতুন কিছু না, পৃথিবীর দেশে দেশে এমনটা হয়ে আসছে। বাংলাদেশের জন্যে বিপদটা হচ্ছে এনসিপি নেতাদের এই বিবর্তন সাধারণ মানুষকে তাদের চাওয়া পাওয়ার তাগাদা হতে পথচ্যুত করবে। বছর না ঘুরতে মানুষ ভুলে যাবে ২৪ বিপ্লবের প্রেক্ষাপট। বেঁচে থাকার লড়াইকে সপে দেবে পরিবারতন্ত্রের যাঁতাকলে। এবং রাজনীতির এ চোরাগলিতেই জন্ম নেবে নতুন এক ফ্যাসিবাদ। হাসিনার মত তারাও নিজেদের লক্ষ্য স্থির করবে ১৭ বছরের অবিচ্ছিন্ন ক্ষমতা।
সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বার বার নিজেদের জীবন বিপন্ন করবে মনটা আশা করা হবে অন্যায়। কারণ তারাও ততদিনে বুঝে যাবে তাদের রক্তের সূতিকাগারেই জন্ম নেয় নতুন হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাদুস নুদুস নাহিদ ইসলাম। ওরা সংসদে যাবে। টেবিল চাপড়াবে। ঢাকয় প্লট আর ট্যাক্স ফ্রি গাড়ির দাবি জোরদার করবে। ততদিনে ক্ষমতায় শক্ত হয়ে বসে পরবে নতুন এক চক্র। সালাউদ্দিন ও আমির খসরুর দল নিজেদের ভাগ্য ফেরাবে আর চাওয়া পাওয়ার লড়াই হতে ছিটকে পরা আনিস আলমগির ও আব্দুন নুর তুষারের ইউনুস গিবত দিন দিন কঠিন হতে কঠিনতম হবে। আর আমরা ছাগলের ৩ং বাচ্চা বনে ... মাননীয় স্পীকার...,মাননীয় স্পীকার...মিনিটে ৩২ বার এই মমতাজীয় সংগীত হজম করতে থাকবো!