ইউনুস নামা

Submitted by WatchDog on Tuesday, June 16, 2026

প্রফেসর ইউনুস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, এমন একটা গুঞ্জন দিন দিন ডাল-পালা মেলছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে পাঁচমিশালি আলোচনা হচ্ছে। বর্তমানে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা জনৈক রাজনীতিবিদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানালেন নির্বাচনের আগে ডক্টর মোহম্মদ ইউনুসের লন্ডন সফর এবং সেখানে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সময়ই নাকি সিদ্ধান্তটা চূড়ান্ত হয়েছে। একই তালিকায় আরও ছিলেন বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব খলিলুর রহমান ও বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর নাম।

ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রফেসর ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হওয়ারও বিপক্ষে ছিলাম। তবে এ জন্যে নয় যে তিনি এ পদের জন্যে যোগ্য ছিলেন না। আমার বিচারে তিনি ছিলেন ওভার কোয়ালিফাইড।
আন্তর্জাতিক অঙ্গন ছেড়ে দেশের ক্ষয়ে যাওয়া নোংরা রাজনীতিতে জড়ানো মানেই ছিল নিজের অতীত ও ভবিষ্যতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয়া। ক্ষমতা পরবর্তী বাস্তবতায় তার কিছুটা হলেও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। যে সব ছাত্র নেতাদের লাগাতার অনুরোধে সাড়া দিয়ে সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিতে রাজী হয়েছিলেন তাদের মুখেই এখন ভিন্ন সুর।

আমরা যারা প্রবাসী তাদের কাছে ডক্টর মোহম্মদ ইউনুসের জন্যে একটা সফট কর্ণার আছে। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি যার নাম পৃথিবীর সব দেশে সব ভাষায় খবরের শিরোনামে স্থান পায়। এবং তা তৃতীয় বিশ্বের অনাহার, অর্ধাহার, দুর্নীতি, খরা, বন্যা, ক্ষমতা হতে পলায়নের কারণে না, বরং ভাল কিছুর জন্যে। এবং তা নিয়ে আমরা গর্ব করি।
ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রী আনতে বাংলাদেশের সরকার প্রধানদের ঘন ঘন বিদেশ সফরের সাথে আমরা পরিচিত। দেশ হতে লুটে নেয়া অর্থ বিদেশ পাচার করে ওখানে হতে কিছু খরচ করে হায় হায় কোম্পানিতে ডোনেট করেন এস আলমের মত বাটপারের দল। ডোনেশনের শর্ত থাকে মা জননীর জন্যে ডক্টরেট ডিগ্রী। এবং এ ডিগ্রী গ্রহণ করতেই তিনি উজির নাজির কোতোয়াল নিয়ে হাজির হন রঙ্গমঞ্চে।

বিশ্ব পরিসরে জায়গা করে নিতে ইউনুস স্যারকে সে পথে হাঁটতে হয়নি। পৃথিবীর বহু দেশের বহু গলিতে প্রফেসর ইউনুস একটি পরিচিত নাম। স্পেনের বার্সিলোনা ফুটবল ক্লাবে ঢুকলেও পাওয়া যায় বাংলাদেশি নোবেল লওরিয়েটরে নাম। ভেনিজুয়েলার গ্রামে গেলেও চোখে পরবে ইউনুস স্যারের গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিচ্ছবি। এসব সন্মানের জন্যে তাকে এস আলমদের মত ব্যাংক লুটেরাদের সাহায্য নিতে হয়নি।
শান্তিতে নোবেল পাওয়া নিয়ে নিজ দেশে পানি কম ঘোলা করা হয়নি। ১৭ বছরের অবৈধ স্বৈরাচার যেদিন মুখ খুললেন সেদিন শেয়ালের হুক্কা হুয়া ডাকের মত তার মুরিদরাও উঠেপড়ে লাগল ইউনুসের বিরুদ্ধে। সুদখোর, রক্তচোষা ভাম্পায়ার, আমেরিকার দালাল অনেক কিছুই আখ্যা দেয়া হল। নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে হাসি-তামাশা উপহাস করা হল। শেষমেশ পদ্মাসেতু হতে টুপ করে ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়ে তিনি নিজেই নাই হয়ে গেলেন।

বিশ্বচোর শেখ পরিবারের কথা বিশ্বাস করলে অনেক আগেই প্রফেসর ইউনুসের নাই হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনের পর তিনি দেশের বাইরে গেলেই একদল উজবুক নিজেদের আক্রোশ আর আফসোসের সূতিকাগারে জন্ম দেন ইউনুস পালিয়ে যাওয়ার আষাঢ়ি গল্প। দলে দলে এয়ারপোর্টে হাজির হয়ে পালানো ঠেকনোরও আওয়াজ তুলেন পরাজিত শক্তি। তিনি রাতের অন্ধকারে চোরের মত ফ্রান্সে পালিয়ে গেছেন, একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়নের যুগে এমন সস্তা গুজবও আঁকড়ে ধরছে চোরের দল।
প্রস্তাবিত শাসনতন্ত্রের সংশোধন না করে প্রফেসর ইউনুসের বঙ্গভবনে যাওয়া হবে আত্মহত্যার শামিল। এ হবে একজন প্রতিভাবান কর্মঠ মানুষকে ঘর-বন্দী করে ফেলা। জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল অথবা বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ হতে পারে প্রফেসর ইউনুসের জন্যে নতুন দিগন্তের উন্মোচন।
আনিস আলমগির, আব্দুন নুর তুষার আর মঞ্জরুল আলম পান্নাদের মত ময়লাদের আবর্তে আটকে গেলে ভুল করবেন প্রফেসর ইউনুস।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন